এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > কাজ নেই অথচ নেতারা ‘গায়েব’ করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা! ১০০ দিনের কাজ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাম বাংলায়

কাজ নেই অথচ নেতারা ‘গায়েব’ করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা! ১০০ দিনের কাজ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাম বাংলায়



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – আগামী বিধানসভা ভোটের আগমনের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার তুলে ধরেছেন স্বচ্ছতার বিষয়টি। অস্বচ্ছতার কালিমা দলের দেহ থেকে সম্পূর্ণভাবে ধুয়ে দেবার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন। কারণ আগামী নির্বাচনের তিনি একটি বিরাট মানদণ্ড হতে চলেছে স্বচ্ছতা। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতার সুখভোগী বেশকিছু নেতা-কর্মীর কানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশটি হয়তো ‘অরণ্যে রোদন’ হয়েই থেকে যাচ্ছে।

শাসকদলের একাধিক নেতা-কর্মীর দিকে বারবার উঠে আসছে অভিযোগের আঙ্গুলি। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের মালদহ জেলার রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দিকে উঠে এলো আর্থিক তছরুপের একটি বিরাট অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, কোন কাজ না করেই পকেটস্থ করা হয়েছে একশো দিনের প্রকল্পের টাকা।স্হানীয় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, মালদহ জেলার রতুয়া-২ ব্লকের মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রামের মহারাজপুর সেতু ও গ্রামের আইসিডিএস সেন্টারের সৌদর্যকরণার্থে কয়েকটি ধাপে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। একশো দিনের প্রকল্পে এই উন্নয়নমূলক কাজ সমাধা হবার কথা ছিল।

কিন্তু প্রকল্পের সামান্যতম কাজ না করেই এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বিডিও-এর দপ্তরে তাঁরা তাদের অভিযোগ দায়েরও করেছেন। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে মহম্মদ মজনু হক জানিয়েছেন, “কোনও কাজ না করেই একাধিক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ তুলে নিয়েছেন প্রধান সহ পঞ্চায়েত অফিসের আধিকারিকরা। তাঁরা সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।” গ্রামবাসীদের একাংশের কাছ থেকে উত্থাপিত এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মালদহ জেলার রতুয়া-২ ব্লকের বিডিও সোমনাথ মান্না বলেছেন, ” অভিযোগ পেয়েছি। সমস্ত কিছু তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রভাবশালী তৃণমূল কর্মী আফসানা খাতুন পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদেশ্য প্রনোদিত বলে বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁর জবানিতে, ” ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। সম্পূর্ণই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কংগ্রেসের লোকজন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। কোনও আর্থিক অনিয়ম হয়নি। কাউকে কোনও কিছু নিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে যা বলার আমি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। তদন্ত হলেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এদিকে মালদহ জেলার অপর একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি উঠে এসেছে আর্থিক তছরুপের বিরাট অভিযোগ। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, মালদহ জেলার এলাহাবাদ গ্রামের এক স্থানের সৌন্দয্যায়নের জন্য বিরাট অংকের টাকা এসেছিল। একশো দিন কাজের প্রকল্পে পেপার টাইলসের তিনটি স্কিম পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছিল এখানে। কিন্তু, এখানকার অবস্থাও শেষপর্যন্ত মহারাজপুর গ্রামের মতোই হয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, কোন রাজ্ না করেই পকেটস্থ করেছে সমস্ত টাকা গ্রাম পঞ্চায়েত কতৃপক্ষ। তাই অঞ্চলের বিডিওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আনোয়ার হোসেন, তাসরুল হক প্রমুখ স্থানীয় বাসিন্দা।

এই তছরূপী প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মালদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ” পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ আছে। ব্লক থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিবর্তে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এটা মোটেও কাম্য নয়। এমনকি যারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক। নিয়ম মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!