এখন পড়ছেন
হোম > আন্তর্জাতিক > মানবশরীরে করোনার প্রবেশপথ খুঁজে পেতে এবার বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার, তাহলে কি এবার মারণ ভাইরাসের দিন শেষ হতে চলেছে?

মানবশরীরে করোনার প্রবেশপথ খুঁজে পেতে এবার বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার, তাহলে কি এবার মারণ ভাইরাসের দিন শেষ হতে চলেছে?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিগত বছর থেকে সারাবিশ্বে হানা দিয়েছে ভয়ানক করোনা ভাইরাস। করোনা সামাল দিতে সবরকমভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেও এখনো পর্যন্ত বরাবরের জন্য করোনাকে আটকে দেওয়ার মতন কোন ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিষেধকের সাহায্যে করোনার জীবাণুকে নিস্তেজ করে দেওয়ার কাজ করছে। কিন্তু শরীরে যাতে কোনভাবেই এই জীবাণু প্রবেশ না করে সেরকম কোন রাস্তাই এখনো পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেননি পৃথিবীর শক্তিশালী বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় এই কাজ সহজতর করার জন্য একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে, এই থ্রি-ডি মডেলের মাধ্যমে করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে কিভাবে নষ্ট করা যায় তা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্র যে আরও উন্মুক্ত হবে। জানা যাচ্ছে, ভাইরাল প্রোটিনের অণু-পরমাণু বিশ্লেষণ করে এই থ্রি-ডি মডেলটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে নেচার কমিউনিকেশন সায়েন্স জার্নালে। জানা গিয়েছে, মার্কিন গবেষকরা অ্যাটমিক লেভেলে এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেছেন, যা আগে কখনো হয়নি। সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের প্রোটিনকে ফুসফুসে ঢুকতে কিভাবে বাধা দেওয়া যায় তাই নিয়েই বড়োসড়ো গবেষণা চলছে।

এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী ডঃ কুন লিও জানিয়েছেন, আপাতত করোনা ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন কিভাবে শরীরে প্রবেশ করছে এবং মানুষের দেহকোষে রিসেপ্টর প্রোটিনের সঙ্গে নিজেদের প্রোটিন জুড়ে দিয়ে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিভাবে দুর্বল করছে তাই নিয়ে গবেষণা চলছে। এবং দেখা যাচ্ছে ভাইরাল প্রোটিনের বাইরের পর্দা এই কাজটি করছে। করোনা ভাইরাস এক্ষেত্রে সংক্রামক অংশটিকে মানুষের কোষে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে বয়স্ক বা কো-মর্বিডিটির রোগীরা যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ফলস্বরূপ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং শরীরের মধ্যে ঢুকে যখন এই ভাইরাসে বিভাজন শুরু হচ্ছে তখন তা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সেক্ষেত্রে এক শরীর থেকে অন্য শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং সুপার স্প্রেডার হয়ে উঠছে। তাই সবার আগে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের ঢোকার রাস্তা বন্ধ করতে হবে। আর যদি তা করা যায় তাহলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভাইরাসের বিভাজনও বন্ধ হবে এবং ভাইরাস ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। অন্যদিকে যেভাবে প্রতিনিয়ত করোনা সংক্রমণের উপসর্গ ও রোগের ধরন বদলে যাচ্ছে, তাতে বিজ্ঞানীদের ধারণা করোনা মানুষের জিনগত বিন্যাসে প্রভাব ফেলছে।

কোন মানুষের শরীরের জিনগত রিক্স ফ্যাক্টর আছে কিনা, বা তা থাকলেও কতটা, তা বের করার উদ্দেশ্য এই নতুন এই থ্রিডি মডেল সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। করোনার স্পাইক প্রোটিনকে মানুষের শরীরে ঢোকা থেকে আটকানোই এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রসঙ্গত জানা যাচ্ছে, করোনার স্পাইক প্রোটিন তৈরি হয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড দিয়ে। সেক্ষেত্রে এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাসকে নিজের ইচ্ছা মতন বদল করে নিচ্ছে করোনা ভাইরাস। ফলস্বরূপ নিয়মিত করোনার জিনগত বদল হচ্ছে এবং নতুন নতুন প্রজাতির জন্ম হচ্ছে। গবেষকদের কথা অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের ফুসফুসে থাকে পিএএলএস 1 প্রোটিন, যার সাহায্যে করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রে ঢুকছে।

আর সবার আগে ফুসফুস আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে। আক্রান্তকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, নতুন আবিষ্কার এই থ্রিডি মডেলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ফুসফুসে ঢুকে রোগ ছড়ানোর পুরো প্রক্রিয়াটা সামনে এসেছে। তাই মনে করা হচ্ছে, এই আবিষ্কারের হাত ধরে আগামী দিনে করোনাকে পুরোপুরি রুখে দেওয়ার পরিকল্পনা সফলতা লাভ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন যেকোনোভাবে পৃথিবী থেকে করোনাকে সমূলে বিনষ্ট করার। আর তাই নিত্যদিনের পরীক্ষায় উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য, যা করোনাকে আটকাতে সহায়ক হচ্ছে। আপাতত দেখার বিজ্ঞান না ভাইরাস, পৃথিবীতে কার শক্তি বেশি!

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!