এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মমতা-মুকুল-মদনের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন তোলাবাজি! পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

মমতা-মুকুল-মদনের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন তোলাবাজি! পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি সিন্ডিকেটের রাজ্যে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগ বারবার শোনা যায়। পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র চলছে সিন্ডিকেটের রাজত্ব। বহুতল নির্মাণে থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি, শ্মশান যাত্রা সর্বত্র চলে সিন্ডিকেট রাজ, আর সিন্ডিকেটের নামে চলে তোলাবাজি। সম্প্রতি হাওড়া জেলার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠে এলো তৃণমূল নেতা বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে তোলাবাজির জন্য হুমকি দিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নাম পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন। তিনি নাকি এটাও জানিয়েছেন যে, তাঁর নামে মুখ্যমন্ত্রী থর হরি কম্পমান, সেইসঙ্গে তাঁকে সমীহ করে চলেন মুকুল রায়, মদন মিত্রের মতো নেতারা।

প্রসঙ্গত হাওড়া জেলার বালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়ার বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আছেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি গঙ্গা নদীর তীর সংলগ্ন একটি বহুতল নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বহুতলের নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে বিরোধ বাঁধিয়েছেন। বহুতলের প্রোমোটারকে ফোনে বিরাট অংকের তোলা দেয়ার দাবি করে হুমকির সুরে তিনি জানিয়েছেন যে, তার নাম শুনলে মদন মিত্র, মুকুল রায়ের মতো নেতারা তৎক্ষণাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত তার নামে চমকে ওঠেন, সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, তাঁর দাবি না মানলে তিনি এমন কোন কাজ নেই যা করতে পারেন না।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রোমোটার কে হুমকি দেওয়া তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বন্দোপাধ্যায় এই ফোনের কথোপকথন রেকর্ড করে পুলিশের কাছে জমা দিয়েছিল নির্মাণকারী ওই সংস্থা। এই নির্মাণকারী সংস্থা কর্মীদের মারধর পর্যন্ত তিনি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বহুতলটির নির্মাণ কোম্পানির জনৈক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা সমস্ত কিছু নিয়ম মেনেই এই নির্মাণকার্য পরিচালনা করছিলেন, কিন্তু তৃণমূল নেতা বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলপূর্বক তাদের নির্মাণ স্থানে এসে নির্মাণের ছবি তোলেন, সেইসঙ্গে তাদের হুমকি ও মারধর করেন।

তবে নিজের সাফাই হিসেবে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন গঙ্গার পাড়ে নিয়ম ভঙ্গ করে বহুতল নির্মিত হচ্ছিল সে কথা জানতে পেরে তিনি নির্মাণ স্থলে গিয়ে ছিলেন এবং তার প্রতিবাদ করেছিলেন। টাকাপয়সা তুমি কিছুই চান নি। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মদন মিত্র সম্পর্কেও বিশেষ কিছু তিনি কিছু বলেননি। শুধু বলেছিলেন, গঙ্গার পারে বেনিয়মে বহুতল নির্মাণের কথা জানলে রেগে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তৃণমূল নেতার এভাবে হুমকি দেওয়াকে কেন্দ্র তৃণমূলের দলের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল নেতা বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বহুকাল ধরেই তোলাবাজির মতো অপকর্মে লিপ্ত, যে ব্যাপারটি শাসকদলের অনেকের কাছেই আজানা নয়, কিন্তু সকলেই নিশ্চুপ ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া বলেছেন, ” মহেশ সুরাখা নামে এক প্রোমোটার নিয়ম না মেনে গঙ্গার পার বুঝিয়ে বহুতল নির্মাণ করছিলেন। এনিয়ে এলাকার মানুষ সরব হয়েছেন।” সেইসঙ্গে বিশ্বজয় বন্দোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কি মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়টি তাঁর অজানা।

শেষ পর্যন্ত বহুতল নির্মাণ সংস্থাটির অভিযোগের ভিত্তিতে বালি থানার পুলিশ তোলাবাজির অভিযোগ গ্রেপ্তার করেছে বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা জারি করেছে পুলিশ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!