এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > চাকরিজীবী ও চাকরি প্রার্থীদের জন্য বড়সড় ধাক্কা! বাংলা ছাড়তে চলেছে এই বড় সংস্থা!

চাকরিজীবী ও চাকরি প্রার্থীদের জন্য বড়সড় ধাক্কা! বাংলা ছাড়তে চলেছে এই বড় সংস্থা!



ঢক্কানিনাদ সহযোগে দু’বছর আগে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জিন্দাল গোষ্ঠী। কিন্তু দু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জিন্দাল গোষ্ঠীর মত পরিবর্তন হল বলে খবর। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে যেভাবে করোনার পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছে, তা দেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন জায়গায় লেভেল 4 নির্দিষ্ট করোনা হাসপাতাল তৈরি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে 59 টি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করেছে রাজ্য সরকার। সেইমতো শালবনী সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালও রূপান্তরিত হচ্ছে করোনা হাসপাতালে।

আর তা জানার পরেই জিন্দাল গোষ্ঠীরা তাঁদের হাত গুটিয়ে নিতে চাইছে শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ওপর থেকে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। তার আগেই হাসপাতাল পরিচালনার ভার জিন্দালরা ছেড়ে দিল বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই জিন্দাল গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং রাজ্য সরকারও তাঁদের কথা মেনে নিয়েছেন।

আপাতত স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনেই থাকবে শালবনী সুপার স্পেশালিটি কোভিড হাসপাতাল। এ প্রসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল জানিয়েছেন, ‘‘স্বাস্থ্য দফতরের হাতেই হাসপাতাল পরিচালনার ভার থাকছে।’’ অন্যদিকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানান, ‘‘জিন্দলরা নিজেরাই ওই ভার ছেড়ে দিতে চেয়েছে। আমরা কাজ শুরু করেছি।’’ এখনো পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে চেষ্টা করেও শালবনির হাসপাতালে ম্যানেজার রূপেশ মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে জিন্দালদের শালবনী প্রকল্পের দায়িত্বে যে আধিকারিক ছিলেন সেই অয়ন দাস জানান, ‘‘আমি এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে পারব না। তবে আমরা নন- কোভিড হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এখন তো হাসপাতালটা কোভিড হাসপাতাল হয়ে যাচ্ছে। এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশও বেরিয়েছে।’’ কিভাবে জিন্দলদের হাতে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দায়িত্ব গেল, সেটা একটু দেখে নেওয়া যাক। দু বছর আগে 2018 সালের শুরুতে শালবনিতে জিন্দালদের সিমেন্ট কারখানার উদ্বোধন করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সেসময় শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালটি পরিচালনার ভার রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতেই ছিল। অন্যদিকে সেসময় এই হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে চায় জিন্দালরা এবং মুখ্যমন্ত্রীও তাতে সায় দেন। জানা যায়, সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি প্রকল্প থেকেই এই হাসপাতাল চালিয়ে যাচ্ছিলেন জিন্দালরা। তখন চিকিৎসা মহল থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, মানুষের করের টাকায় যখন সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল তৈরি হলো তাহলে জিন্দাল গোষ্ঠীর হাতে কেন সেই ক্ষমতা দেওয়া হবে?

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার শালবনী সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল এর সামনে এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীত বাসিন্দা এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, যদি সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়, তাহলে অন্যান্য সাধারণ রোগীরা কোথায় যাবে? অন্যদিকে এদিন হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়েন একাধিক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। পরে প্রশাসন এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান, বেশ কিছু দূরে শালবনী গ্রামীণ হাসপাতাল আছে এবং সেখানে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকবেই। আর এর পরেই বিক্ষোভ ওঠে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোন এলাকাতেই করোনা হাসপাতাল হোক সেটা স্থানীয়রা চাইছেনা। কিন্তু করোনা রোগীদের কোন না কোন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, তাই অনেক ভেবে চিন্তেই শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। যদিও সরকারি আশ্বাস, জিন্দালরা না থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবেনা। আপাতত জিন্দালরা যেভাবে করোনা হাসপাতালের দায়িত্ব ছাড়লেন, তা যে রাজ্য সরকারের কাছে একটি বড়সড় ধাক্কা সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের। আপাতত এই নিয়েই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চলছে তুমুল সমালোচনা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!