এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই নাকি এবার ছাড়তে হচ্ছে মেয়র পদও, শোভনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই নাকি এবার ছাড়তে হচ্ছে মেয়র পদও, শোভনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে



অনেকদিন ধরেই শাসক দল থেকে বিরোধী দল সর্বত্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা আস্থাভাজন কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় ওরফে কাননকে নিয়ে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কেননা কদিন আগেই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

আর এই ঘটনায় ভাই কাননের ওপর যে প্রবল ক্ষুব্ধ তিনি তা ঘনিষ্ট মহলে বারে বারে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি “বান্ধবী” বলে পরিচয় দেওয়া বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে শোভনের মেলামেশা ঠিকমত মেনে নিতে পারেননি তৃনমূল সুপ্রিমো।

আর এরপরই ধীরে ধীরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। কিছুদিন আগেই পরিবেশ দপ্তর সেই শোভনবাবুর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তার শুভেন্দু অধিকারীকে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অবশেষে আজ সে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে থাকা আবাসন ও দমকল দপ্তরও কেড়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কেন? হঠাৎ এমন কি ঘটল যার জেরে এহেন সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি শোভনের পদ যাওয়ার পেছনে রয়েছে বৈশাখী ফ্যাক্টর?

সূত্রের খবর, আজ বিধানসভায় এক প্রশ্নোত্তর পর্বে গীতাঞ্জলি আবাসন প্রকল্পে ঠিক কত মানুষ ঘর পেয়েছেন, এর উত্তরে আবাসনমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, “রাজ্যে এখনও পর্যন্ত 25 লক্ষ মানুষ এই পরিষেবা পেয়েছেন।” আর মন্ত্রীর মুখ থেকে এহেন কথা শুনে পাল্টা নিজের আসন থেকে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “25 নয় সংখ্যাটা 40 লক্ষ হবে।” শহরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন শোভনকে। শোভনের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে তিনি চিৎকার করে তাঁকে বকতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে কাঁদতে শুরু করেন শোভন। এইখানেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি প্রবল বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তখন মমতা কড়াভাবে শোভনকে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনযাপন না বদলালে তাঁকে দলে রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে নিজের প্রশ্নের জবাব দিয়ে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে কিছু বলতে গেলেও সেই শোভনকে এড়িয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বিকেল ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক গৌতম সান্যালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন শোভনবাবু। তবে ইস্তফা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শোভনবাবু বলেন, “এরকম কোনও কথা আমি জানি না। যারা এই খবর রটাচ্ছে তারা বলতে পারবে।” সূত্রের খবর, এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি শোভনবাবুকে ফোন করে ইস্তফা প্রত্যাহারের জন্য বলেন। শোভনবাবু জানিয়ে দেন তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অবিচল।

 

জানা গেছে, এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই সেই ইস্তফাপত্র রাজভবনেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে শুধু মন্ত্রী পদ নয় শুধু তাই নয় শোনা যাচ্ছে , আগামীকাল কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদ থেকেও এই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে শাসকদলে এ যেন উল্কাপতন। তাহলে কি প্রিয় শোভনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিধানসভায় সুযোগ পেয়েই তার ডানা ছেটে দিলেন! তবে এখন মন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আদৌ এখন দলে থাকেন কিনা এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। সাথেই শোভনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!