এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নেতাদের কাজে বিরক্তি প্রকাশ মমতার, প্রকাশ্য সভায় উগরে দিলেন ক্ষোভ!

নেতাদের কাজে বিরক্তি প্রকাশ মমতার, প্রকাশ্য সভায় উগরে দিলেন ক্ষোভ!



বরাবরই মালদা জেলা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল। তবে গত 2011 সালে পরিবর্তনের ঝড়ে এখানে তৃণমূল কিছু আসন পেলেও, তারপর থেকে মালদহ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কমবেশি প্রতি জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও, মালদহ জেলায় তা চরম আকার ধারণ করে। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর সঙ্গে নীহার রঞ্জন ঘোষ বা সাবিত্রী মিত্রের সঙ্গী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর দ্বন্দ্ব রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। বারবার সেই দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে লোকসভা নির্বাচনের আগে দলে আসা মৌসম নূরকে মালদহের সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার পরেও কোনোমতেই অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। যার জেরে রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়ে গত 2 রা মার্চ নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে মালদার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার জেলায় কর্মীসভা থেকে এই ব্যাপারে নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি। প্রকাশ্য সভা থেকেই নেতাদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব ভাগ করে দিতেও দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

 

সূত্রের খবর, বুধবার মালদহের কর্মীসভা থেকে বিগত লোকসভা নির্বাচনে উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রে মৌসাম নূরের হেরে যাওয়া নিয়ে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে দায়ী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মালদহের নেতারা কবে ঐক্যবদ্ধ হবেন! ভুল সংশোধন যদি আপনারা না করেন, তাহলে হাজার মিটিং করেও কোনো লাভ হবে না।” আর এরপরই লোকসভা নির্বাচনে উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মৌসম বেনজির নূরের সমর্থনে সভা করার সময় প্রচুর লোকের সমাগম হলেও, কেন ভোটে মৌসম নূর হেরে গেলেন! তা নিয়েও প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রশ্ন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তিনি বলেন, “মৌসম তো মুসলমান। যদি হিন্দু মুসলমান ভোট ভাগাভাগি হয়, তাহলে ও কেন জিতল না! যে কোনোদিন কিছু করল না, সে জিতল। আর যে মেয়েটি সারাদিন ঘুরে বেড়ালো, কাজ করল, সে হেরে গেল।”

আর এরপরই সামনে পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব বিভিন্ন নেতার ওপর দেন তৃণমূল নেত্রী। মঞ্চ থেকেই তিনি জানিয়ে দেন, ইংরেজবাজার পৌরসভার 1,4, 5, 7, 8, 9,10, 12, 19, 29 নম্বর ওয়ার্ড কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী হাতে দেওয়া হল। অন্যদিকে 3, 6, 15, 16, 17, 23 নম্বর ওয়ার্ড নীহাররঞ্জন ঘোষ এবং 14, 20, 21, 22, 24, 25, 26, 27, 28 নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দুলাল সরকার ও নরেন্দ্র তিওয়ারিকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কিছু ওয়ার্ড অম্লান ভাদুড়ি আসিস কুন্ডুর এবং সুমালা আগরওয়ালের হাতেও দিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে গাজোল ও হবিবপুরের দায়িত্ব কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, মানিকচক সাবিত্রী মিত্র এবং মোথাবাড়ির দায়িত্ব নজরুল হকের হাতে তুলে দেন তৃণমূল নেত্রী। সব মিলিয়ে মালদহ জেলায় রাজনৈতিক কর্মী সভা থেকে দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়ে দায়িত্ব বন্টন করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে নেতাদের দ্বন্দ্ব মেটানোর কড়া নির্দেশ দিলেও, স্থানীয় নেতাদের এতে হুশ ফেরে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!