এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > মমতা বিভেদ ভুলে একজোট হতে বললেও, সামান্য শ্মশানের চুল্লি নিয়েও দ্বন্দ্ব থামছে না তৃণমূলে!

মমতা বিভেদ ভুলে একজোট হতে বললেও, সামান্য শ্মশানের চুল্লি নিয়েও দ্বন্দ্ব থামছে না তৃণমূলে!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – উনিশ এর লোকসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছিলেন, এই রাজ্যে সংগঠনকে আরও শক্তপোক্ত করতে হলে অবশ্যই বন্ধ করা দরকার গোষ্ঠীকোন্দল। আর সেই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছাইচাপা আগুনের মতন নিরন্তর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়ে চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। সম্প্রতি একুশের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে তৃণমূল শিবিরে হয়ে গেল ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদল।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ দখলের লক্ষ্যে তৃণমূল নেত্রী বার্তা দিলেও তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল কিভাবে বন্ধ হবে, তা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট চিন্তিত তৃণমূল শিবির। এই অবস্থায় বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব টের পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র দিলীপ অগস্তির বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন প্রকাশ্যে পুরসভার 4 নম্বর বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুর্গাপুরের বীরভানপুর শ্মশানের বেহাল বৈদ্যুতিক চুল্লি নিয়ে লেগেছে এই দ্বন্দ্ব। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র দিলীপ অগস্তির সদিচ্ছার কারণেই শ্মশানে থাকা একটি চুল্লি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ পড়ে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে শ্মশান কর্মীরা জানিয়েছেন, যেখানে দিনে 12 থেকে 14 টি দেহ দাহ হয়, সেখানে গড়ে একদিন করে চুল্লি বিকল থাকে। অন্যদিকে কাঠের চিতায় দাহ করতে গেলে তাতে দূষণ ছড়ানোর ভয় থাকে। শ্মশান পরিচালন কমিটির সম্পাদক শ্যামল আচার্য চুল্লি বিকলের বিষয়টি ইতিমধ্যে পুরসভাকে জানিয়েছেন বলে খবর।

অন্যদিকে বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখরবাবু জানিয়েছেন, সাত লক্ষ টাকা ব্যয় করে মেরামতি করলেই ঠিক হয়ে যাবে বিকল চুল্লিটি। দুটি চুল্লি সঠিকভাবে মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রয়োজন 32 লক্ষ টাকা। কিন্তু শ্মশান সংস্কারের কথা উঠলেই মেয়র দিলীপ অগস্থি কোন না কোনভাবে এই বিষয়টির প্রতি দেরি করেন সিদ্ধান্ত নিতে। যদিও চন্দ্রশেখরবাবুর এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মেয়র দিলীপ অগস্থি। শ্মশানের চুল্লি মেরামত প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শ্মশান সংস্কারের বিষয়টি ভাবা হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য সরকার দেবে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সেই অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এর পরেই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা নিয়ে নাম না করেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন কিছু না জেনেশুনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কেউ দল ভারী করার কাজ করছে। যদিও তাতে কোন লাভ হবে না বলে দাবী করেন তিনি। অন্যদিকে এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় কোন্দলের বিষয়টিকেই দেখছেন। এমনকি দলের কাউন্সিলরদের মধ্যেও বিভাজন দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি মন্ত্রী মলয় ঘটক জেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর সংবর্ধনা সভায় মেয়রসহ সঙ্গী কাউন্সিলরদের কাউকেই দেখা যায়নি। একইভাবে যখন আবার জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি সংবর্ধনা সভা হয়, সেখানেও মলয় ঘটকের অনুগামীদের দেখা যায়নি। যদিও মলয় ঘটক এবং জিতেন্দ্র তিওয়ারি একযোগে জানিয়েছেন, দলীয় কোন্দল দূরে সরিয়ে রেখে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তবে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন জেলায় এখনো যেভাবে তৃণমূলের দলীয় গোষ্ঠী কোন্দল সামনে আসছে তা কিন্তু তৃণমূল শিবিরে যথেষ্ঠ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই পরিস্থিতি যদি এখনই না সামলানো যায়, তাহলে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে বিধানসভা নির্বাচনে এর ছাপ পড়তে বাধ্য। আর তার ফলে তৃণমূল শিবিরকে যে বিপাকে পড়তে হবে সে কথা চোখ বন্ধ করেও বলা যায়। অন্যদিকে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দের সুবিধা যে অন্য দলগুলি নেবে তা বলাইবাহুল্য তা একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশরা। আপাতত দুর্গাপুর শহরের গোষ্ঠীকোন্দলকে কিভাবে তৃণমূল শিবিরের অন্যান্যরা সামাল দেন, সে দিকেই এখন নজর সবার।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!