এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরসভা নির্বাচন জিততে রণকৌশল বানিয়ে আসরে নামছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী

পুরসভা নির্বাচন জিততে রণকৌশল বানিয়ে আসরে নামছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী



 

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে রাজ্যজুড়ে পুরসভা নির্বাচন। আর তার পরেই শুরু হতে চলেছে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচন। আপাতত বিধানসভা নির্বাচনকে ফাইনাল ম্যাচ ধরে নিয়ে পুরসভা নির্বাচনকে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করতে রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন শাসকদলের কাছে পুরসভার নির্বাচন। তাই পুরভোট জিততে শাসক দল খামতি রাখতে চাইছেনা।

লোকসভা নির্বাচনে শাসক দল বেশ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মঞ্চে। তাই আগামী দিনের পুরভোটকে কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে পুরো নির্বাচনের রণকৌশল মেনে রাজ্যের প্রতিটি বুথ স্তরে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন বলে তিনি স্থির করেছেন। এই ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের জেলা সফরে বের হচ্ছেন। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর  বুথ স্তরের সাংগঠনিক প্রথম বৈঠক হবে। কর্মীদের নিয়েই এই কর্মীসভা হবে 5 ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় কর্মীসভা ঠিক হয়েছে 11 ই ফেব্রুয়ারি। হবে বাঁকুড়া জেলায়।

লোকসভা নির্বাচনে পিছিয়ে পড়লেও গত বছরের উপনির্বাচনে দেখা গেছে, রাজ্যের তৃণমূল দল উপনির্বাচনের তিনটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। সেই জয়ের ধারাকে অব্যাহত রাখতেই এবার বদ্ধপরিকর হয়েছে রাজ্য তৃণমূল। তাই মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুর নির্বাচনের শুরুতেই রাজ্যের সমস্ত বুথে কর্মী সভা করতে উদ্যোগী হয়েছেন। বলা যায়, এই মুহূর্তে রাজ্য তৃণমূল দলকে পর্যাপ্তভাবে উৎসাহিত করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রতিটি স্তরে কর্মীসভায় জেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের উপস্থিত থাকতে হবে। এই সভা থেকে তিনি পুরসভা নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী দিনের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করার বার্তা দেবেন। আসন্ন পুরো নির্বাচনের আগে ব্লক স্তরের প্রতিটি তৃণমূল কর্মী যাতে পুরনির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভালো ভাবে তৈরি হতে পারে সে দিকেই তীক্ষ্ণ নজর দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, তৃণমূল নেত্রী নদীয়া ও বাঁকুড়ার ব্লক স্তরে কর্মীসভা করার আগে দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এই জনসভাটি হবে উত্তর 24 পরগনার বনগাঁ এবং নদীয়ার রানাঘাটে। রাজ্য তৃণমূল দল এই মুহূর্তে বিজেপির বিরুদ্ধে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এর প্রতিবাদকেই অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি জনসভা দুটিতে বক্তব্য রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী চৌঠা ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল নেত্রী উপস্থিত হবেন বনগাঁর জনসভায়। সেখানেই তিনি রণকৌশল হিসেবে পুরো নির্বাচনের প্রচার সারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এরপর তিনি বনগাঁ থেকে সোজা পৌঁছাবেন রানাঘাট। রানাঘাটেও তিনি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং সেখান থেকে সোজা তিনি পৌঁছাবেন কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরে রাত্রি বাস করে পরদিন অর্থাৎ 5 ই ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল কর্মীসভায় অংশগ্রহণ করবেন। পরবর্তী দফায় তিনি পৌঁছাবেন বাঁকুড়া। সেখানে 11 ই ফেব্রুয়ারি কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, 12 ফেব্রুয়ারি তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করতে পারেন বাঁকুড়াতে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাঁকুড়াতে সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। যার ফলে বাঁকুড়া জেলার দুটি কেন্দ্র তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের পুরসভা নির্বাচন। আর তাই নিয়েই চারিদিকে সাজসাজ রব। রাজনৈতিক শিবিরগুলি নির্বাচনী ক্ষেত্রে নামার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পুরসভার নির্বাচন হওয়ায় আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কিছুটা হলেও আভাস পাওয়া যাবে। অতএব সেই প্রেক্ষাপটকে ঘিরে শাসক দল নিজেদের ছবি ফুটিয়ে তুলতে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত রণকৌশল অবলম্বন করেছে। আপাতত সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!