এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মমতার পরে দলের ভার অভিষেক নয়, শুভেন্দুর হাতেই? জল্পনা বাড়ালেন খোদ মমতা

মমতার পরে দলের ভার অভিষেক নয়, শুভেন্দুর হাতেই? জল্পনা বাড়ালেন খোদ মমতা



সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির দেখিয়ে দিয়েছে বাংলা জুড়ে তীব্র পদ্মঝড় চলছে। আর তারই, ফলশ্রুতি হিসাবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে তীব্র ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়ক ও কাউন্সিলর নাম লিখিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। ফলে হাতছাড়া হয়েছে একাধিক পুরসভা। মুকুল রায়ের মত বিজেপি নেতারা কার্যত হুঙ্কার ছাড়ছেন যে আগামীদিনে এই ভাঙন আরও নাকি তীব্র হবে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনের পর্যালোচনা করে দলে একাহিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

দলে একটা সময় বিতর্ক শুরু হয় – মুকুল রায়ের দলত্যাগের পর দলের অঘোষিত দুনম্বর জায়গাটা কে পাবেন। বিতর্ক থামাতে এক প্রকাশ্য জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর পরে দলের দায়িত্ব যাবে দুই তরুণ তুর্কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। কিন্তু, এরপরেই দলের শীর্ষনেতাদের নিয়ে এক সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মদন মিত্রের মত বর্ষীয়ান নেতারা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে দলের মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই দেখা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্বে যে সব জেলা বা আসন ছিল সেখানেই কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের, তীব্র উত্থান হয়েছে বিজেপির। আর তাই লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর দুদিনের মাথায় বৈঠক করে তৃণমূল নেত্রী মন্ত্রীসভায় শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব বাড়িয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেন নেতাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো ও ভোটার তালিকার কাজের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে – যা একপ্রকার ডানা ছাঁটার সমান। তবে, এখানেই শেষ নয় – গতকালের কোর কমিটির বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি।

শুভেন্দু অধিকারীর ভার কিছুটা লাঘব করে তাঁকে মালদার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে, তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল গোলাম রব্বানি ও সাধন পান্ডেকে। কিন্তু, শুভেন্দু অধিকারীর হাতে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি জঙ্গলমহলের পুরো দায়িত্ব দেওয়া হল। একই সাথে দলনেত্রী তাঁকে এদিন দলের মধ্যে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বও কাঁধে তুলে দিলেন। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে দলের মুখপাত্র হিসাবেও তুলে ধরা হল, যদিও তাঁর সঙ্গে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রত্য বসু, মহুয়া মৈত্র ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এখানে বিশেষ নয় – দলের সংগঠন মজবুত করতে এবার থেকে তৃণমূল ভবনে তৃণমূল নেতাদের নিয়মিত বসার নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী। আর সেখানেও শুভেন্দু অধিকারী, তিনি প্রত্যেক বুধবার সেখানে থাকবেন। এছাড়া, সোমবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে। এদিন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও তীব্র ভর্ৎসনা করে নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কলকাতা জেলার পর্যবেক্ষক করেন তিনি। নদীয়া জেলার দায়িত্ব দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। সবমিলিয়ে, দলে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব তুমুল বাড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী দলের অঘোষিত দুনম্বর জায়গাটা তাঁর হাতেই তুলে দিতে চাইলেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!