এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে কি দিশেহারা মমতা প্রশাসন? নতুন পদক্ষেপে উঠে গেল গুরুতর প্রশ্ন

সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে কি দিশেহারা মমতা প্রশাসন? নতুন পদক্ষেপে উঠে গেল গুরুতর প্রশ্ন



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – রাজ্য-রাজনীতিতে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বারবারই উঠে এসেছে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক আন্দোলনের কথা। বারেবারেই নিজেদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন রাজ্যের ‘হোয়াইট কলার জবের’ ও শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিরা। আর সেই আন্দোলনের ঝড়ে অন্যতম উজ্জ্বল নাম সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশীষ শীল।

ডিএ হোক বা পে কমিশন, ভোটের সময় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা হোক বা অস্থায়ী কর্মী-পেনশনারদের ন্যায্য পাওনা – বারেবারেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন দেবাশীষবাবু। কলকাতা হাইকোর্ট হোক বা স্টেট অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল, রাস্তার আন্দোলন হোক বা নির্বাচন কমিশনের দপ্তর – সরকারি কর্মচারী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে বারেবারেই ছুটে গেছেন বর্ষীয়ান দেবাশীষবাবু।

বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁকে নিয়ে যে পরিমান নিউজ প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এক্সক্লুসিভ সময় ব্যয় হয়েছে, তা যে কোন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর এবার বোধহয়, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের সব থেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠলেন তিনি – এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

কেন এমন কথা উঠল? এর প্রধান কারণ প্রায় দেড় বছর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে পে-কমিশন নিয়ে আন্দোলন করার ‘অপরাধে’ এবার তাঁকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা শুরু করল রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, গত বছর জুলাই মাসে তিনি তৎকালীন পে-কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের সঙ্গে দেখা করে, পে-কমিশন নিয়ে অনাবশ্যক দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে চান। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি দিলেও, তিনি কোনো উত্তর পাননি।

আর তাই প্রশাসনকে, দু-দুবার জানিয়ে তিনি পে-কমিশন অফিস অভিযান করেন। যদিও প্রশাসন সেই সময় দেবাশীষবাবুকে কোনো জবাব দেয় নি। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই তিনি সরকারি কর্মচারী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে পে-কমিশন অভিযান করেন। সেই সময় তিনি যে চিঠি পে-কমিশন বা প্রশাসনকে পাঠিয়েছিলেন – তা ছিল তাঁর সংগঠনের প্যাডে এবং তাঁর নিজস্ব স্বাক্ষর ও ফোন নাম্বার সহ।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তখন প্রশাসন চুপ করে থাকলেও, এতদিনে (প্রায় দেড় বছর বাদে) পুলিশ দেবাশীষবাবুর মোবাইলে ফোন করে জানাচ্ছে তাঁকে নাকি হাবড়া থেকে হাওড়া – কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের নামে তিনি নাকি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর পাশাপাশি, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন। তাই তাঁকে এবার গ্রেপ্তার করা হবে। এই ঘটনার পরে আজ দেবাশীষবাবু আদালত থেকে আগাম জামিন নেন।

এই প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশীষ শীলের সঙ্গে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলায় বর্তমানে যে রাজ্য সরকার আছে – তার মত কর্মচারী স্বার্থ-বিরোধী সরকার এর আগে বাংলায় কেন, কস্মিনকালেও ভূ-ভারতে আসে নি! এই সরকার ডিএ দেয় না, পে-কমিশনের নামে নজিরবিহীন ভাবে সাড়ে তিন বছরের দীর্ঘসূত্রিতা ডেকে আনে। পে-কমিশন ঘোষণা হলে – সেখান থেকে ডিএ শব্দটিই উড়ে যায়! হাউসরেন্ট অ্যালাউন্স কমে যায়!

দেবাশীষবাবু আরও বলেন, এই রাজ্য সরকার প্রতি পদে সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চনা করে যাচ্ছে। আর তাই কর্মচারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে আমাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন ও আদালতের স্মরণাপন্ন – দুইই হতে হচ্ছে। কিন্তু, এই সরকার আদালতের নির্দেশকেও কার্যত বুড়ো আঙুল দেখায়! নানা বাহানা করে সরকারি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা দিনের পর দিন আটকে রাখে। আর তাই, আমরাও হাল না ছেড়ে আমাদের প্রতিবাদের কন্ঠস্বর ক্রমশ তীব্র করছি।

দেবাশীষবাবুর বক্তব্য, বাংলার আপামর সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকও বুঝে গেছেন, এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে – ততদিন হাতে ল্যাবেঞ্চুস ছাড়া আর কিছুই দেবে না। আর তাই এই রাজ্যে বিকল্প সরকারের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলকে রাজ্যের ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৪১ টি আসনেই পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে হারিয়ে দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা। আর এতেই প্রশাসন ভয় পেয়ে গেছে! প্রতি মুহূর্তে সরকারি কর্মচারী আন্দোলনের গলা টিপে তাকে থামানোর চেষ্টা চলছে।

দেবাশীষবাবু আরও জানান, বর্তমানে যাঁরা কর্মরত তাঁদের দূর-দূরান্তে বদলি করে দিয়ে আটকানোর চেষ্টা চলছে। আর আমার মত রিটায়ার্ড মানুষদের এই ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই করে কি আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করা যায়? আমরা সহনশীলতা দেখিয়ে কোভিড পরিস্থিতিতে মানবিকভাবে সরকারের পাশে থেকে প্রশাসনকে সাহায্য করেছি। কিন্তু সরকারই যখন কর্মচারীদের স্বার্থের পরিপন্থী, তখন আর ঘরে বসে থাকলে হবে না – পুজোর পরেই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামছি।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!