এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সৌজন্যে দেখিয়েও প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর তৃণমূল

সৌজন্যে দেখিয়েও প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর তৃণমূল



সোমবার কৃষক সমাবেশ উপলক্ষ্যে রাজ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মেদিনীপুর কলেজ মাঠে প্রস্তাবিত এদিনের প্রধানমন্ত্রীর সভায় আকষ্মিক ভাবেই শামিয়ানা ভেঙে পড়ে সভায় উপস্থিত ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোস্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই সভায় আহতদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে লিখলেন, ”আজকে যাঁরা মেদিনীপুরের সমাবেশে আহত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করছি। রাজ্য সরকার চিকিত্‍সার ব্যাপারে সব রকম সাহায্য করছে।” উল্লেখ্য দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে চিকিৎসাধীন দুর্ঘটনাগ্রস্থদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাজনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর আনার অভিযোগের পালটা জবাব দিতেও কোনো কসুর করেননি মুখ্যমন্ত্রী।

প্রত্যেকটা কথা উল্লেখ করেই জবাব দিয়েছেন রাজ্যের শাসক দল।
প্রথমতঃ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সভাস্থলে যাওয়ার পথে তিনি কয়েকশো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার দেখেছেন। আর তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী, এইভাবে হাতজোড় করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য এদিন তারই উত্তর দিয়ে জানালেন এগুলি সবই ২১ শে জুলাইয়ে শহীদ দিবসের সমাবেশের। এ বছর সমাবেশের ২৫তম বছর উদযাপন। এই ব্যানারগুলির মধ্যে বেশ কিছু পরিমানে বিজেপি দলের কর্মীরা ছিঁড়ে দিয়েছে বা বিকৃত করেছে।

দ্বিতীয়তঃ এই সমাবেশে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে মানুষ এসে জমায়েত করেন। এমনকি পটনার নম্বরপ্লেটের গাড়িও দেখা গিয়েছে। খুব বেশি স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি এখানে দেখা যায়নি। মুলতঃ বিপুল পরিমাণে কর্পোরেট টাকা এই রাজনৈতিক সভায় খরচ হয়েছে। কিন্তু এতে লাভ কী হলো? যে উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই উদ্দেশ্য সফল হল কে?
তৃতীয়তঃ এক প্রকার সৌজন্যের অবতারণা করেই তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করলেন তারা কী বিজেপি নেতাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন, তাঁরা কীভাবে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করবেন? বহু বছর আগে তাদের পার্টির ইস্তাহারে যে প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কিছুই পূরণ করা হয়নি।
চতুর্থতঃ বাংলার কিছু পরিসংখ্যান বিজেপি দলের সাথে ভাগাভাগি করতে ইচ্ছুক জানিয়ে বলা হলো, বিগত সাত বছরে বাংলার কৃষকদের আয় ২.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে এটা ছিল ৯১,০০০ টাকা আর গত বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
পঞ্চমতঃ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসে কৃষক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান অনুয়ারী যেখানে মহারাষ্ট্রে কৃষক মৃত্যুর সংখ্যা ৬৩৫ জন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এইরকম কোনো দুঃখজনক ঘটনার নজির নেই। যা স্পষ্টভাবেই গোটা দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দেয়।
ষষ্ঠতঃ বিজেপি নেতারা ছাড়া সিন্ডিকেটের কথা আর কে ভাল জানে? আপনার পার্টি হল একটি সিন্ডিকেট যেটা ধর্মীয় মৌলবাদের প্রচার করে, আপনার পার্টি উন্মাদদের সিন্ডিকেট, আপনার পার্টি গণপিটুনির সিন্ডিকেট, আপনার পার্টি অত্যাচারের সিন্ডিকেট, আপনার পার্টি দুর্নীতির সিন্ডিকেট। সুতরাং, বিজেপি নেতাদের আগুন নিয়ে না খেলাই ভাল।
সপ্তমতঃ একপ্রকার চ্যালঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েই শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হলো, যতই আপনার এজেন্সি আমাদের হেনস্থা করুক, আমরা কোনও সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নোয়াব না।
অষ্টমতঃ বাংলা সবার জন্য নয়। এটা বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী। বিজেপি নেতার বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট কোনও উন্নয়নের এজেন্ডাই নেই তাদের। তিনি এলেন ও রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন। নিট ফল শূন্য।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!