এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > খোদ মমতার রোষানলে একাধিক তৃণমূল নেতা! শাসকদলের অন্দরেই শুরু তীব্র চাঞ্চল্য!

খোদ মমতার রোষানলে একাধিক তৃণমূল নেতা! শাসকদলের অন্দরেই শুরু তীব্র চাঞ্চল্য!



2011 সালে বাম বিরোধিতার জেরে দীর্ঘ লড়াই, আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনেকেই আশা করেছিলেন, বিগত বাম আমলে যে সমস্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, হয়ত বা সেই সমস্ত ঘটনা থেকে মুক্তি পাবে এই রাজ্য। কিন্তু সুশাসনের বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করলেও, বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের নিচুতলার নেতাকর্মীদের নানা কুকির্তীতে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। এমনকি একদম শীর্ষ স্তরে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার সময় দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতির জিভ যে লকলক করছে, তা বুঝতে পেরেছিলেন।

আর তাই তো সেই বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য তিনি জনসভাগুলিতে বলে বেরিয়েছিলেন, 294 টি বিধানসভা কেন্দ্রে আমি প্রার্থী। আপনারা আমাকে দেখে ভোট দিন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই কথাই বিশ্বাস করে জনতা জনার্দন দ্বিতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজ্যের ক্ষমতা বসিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বার রাজ্যের মসনদ দখল করে তৃণমূল নেতাদের সদ্ভাব লক্ষ্য করা যায়নি। উল্টে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, স্বজনপোষন, আবার কখনও বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যা নিঃসন্দেহে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গত লোকসভা নির্বাচনে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

যেখানে 42 টি আসনে মোটে 22 টি আসন দখল করতে পেরেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে লোকসভায় পর্যুদস্ত হয়েও, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের স্বভাবের যে পরিবর্তন হয়নি, তা সম্প্রতি গঙ্গারামপুরের নন্দনপুরের একটি ঘটনায় পরিষ্কার হয়ে গেছে। যেখানে দেখা গেছে, বিরোধী দল বিজেপির এক মহিলা কর্মী নিজের বাড়ির উপর দিয়ে যাতে রাস্তা না হয়, তার জন্য আপত্তি জানিয়েছিলেন। আর তাতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূলের নেতারা সেই মহিলার হাত পায়ে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে তাকে তার বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে নানা মহলে নানা শোরগোল তৈরি হয়েছে।

যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় সুবিচারের বার্তা দেন, সেখানে তার দলের নেতাকর্মীরা এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে কেন! তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আর এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলের ঘাড়ে এবং তার ঘাড়ে যাতে কোনো দোষ না আসে, তার জন্য সাফাই দিয়ে রাখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দলীয় সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লোকাল নেতাদের ভালো নাও লাগতে পারে। দলটা আমরা চালাই। অন্যায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কখনও তোলাবাজি, আবার কখনও বা দুর্নীতি, যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই একটা চিন্তা-ভাবনা বাসা বেধেছে যে, ওপর থেকে যদি ইঙ্গিত না আসে, তাহলে নিচুতলার নেতাকর্মীদের এত ঔদ্ধত্য হতে পারে না। কিন্তু এবার সাধারণ মানুষের এই চিন্তাভাবনাকে কিছুটা ভুল বলে প্রমাণিত করতে ময়দানে নেমে “তারা দল চালান। তাই যারা অন্যায় করবে, তাদের শাস্তি হবে” বলে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনেকে বলছেন, সাফাই দেওয়াই সার। অতীতেও তৃণমূল দলের তরফে নিচুতলার কোনো নেতা অন্যায় করলে, তাদের কড়া বার্তা দেওয়া হত। কিন্তু তারপর আবার সেই অন্যায়ের প্রবণতা দেখা গেছে। তাই সেদিক থেকে দলের শীর্ষনেত্রী তথা সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের কথা বললেও, তা দলের নেতা-কর্মীদের কাছে খুব সহজলভ্য কথা বলেই ধরা হবে। ফলে লাভের লাভ কিছুই হবে না। উল্টে শোষণের শিকার হবেন সাধারণ মানুষ বলে দাবি বিরোধীদের। তবে দলের নেতাকর্মীদের কাছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত চাপে পড়েই সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের কথা বললেন, সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!