এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর হালকা মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড়

মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর হালকা মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড়



প্রশ্নফাঁস রোধে বিভিন্ন জেলায় মোট 43 টি ব্লকে পরীক্ষা চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশ ও পর্ষদের নজরদারিও ছিল কড়া। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে ছিল পুলিশি নিরাপত্তা। এতকিছুর পরেও মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁস আটকানো গেলনা। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম দিন whatsapp-এ বাংলা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং পরপর কয়েকদিন মাধ্যমিক পরীক্ষা্র প্রতিদিনের প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর 1 ঘন্টার মধ্যেই ফাঁস গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে।

এখনো পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার মোটে তিন দিন কেটেছে, কিন্তু তার মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রত্যেকদিন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ। এই ঘটনায় তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে শিক্ষা মহল জুড়ে। চরম অস্বস্তিতে রয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং তাদের সভাপতি বলে জানা গেছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটিকে মোটেই গুরুত্ব দিতেই রাজি নন। তিনি পুরো ঘটনাটিকেই অত্যন্ত হালকা ভাবে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, কেউ যদি আধঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ করে দেয় তাহলে কিছুই করার নেই।

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই উঠেছিল প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ। প্রথম দিন ছিল বাংলা পরীক্ষা। কড়া নজরদারীতে পরীক্ষা শুরু হলেও নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে হয়ে যায় বাংলা প্রশ্নপত্র ফাঁস। মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিন হয়েছে ইংরেজি পরীক্ষা। দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় আরেকটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া টিকটক এর মাধ্যমে। অবশ্য পরে এই অভিযোগ ধোপে টেকে না কারণ টিকটক এ যে ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বলে অভিযোগ ওঠে তা আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মেলেনা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় চূড়ান্ত বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। এই নিয়ে তিনি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকেও ডেকে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী এই সম্পূর্ণ ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছেন এবং চরম উদাসীনতাও প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে খবর তৈরি করার জন্য। পাল্টা তিনি দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোথা থেকে হচ্ছে তা খুব শীঘ্রই জানা যাবে। আর তারপরই তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন যে কেউ যদি আধঘণ্টার মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ করে দেয় প্রশ্নপত্র, তাহলে কারোর কিছু করার নেই। যদিও শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস এর পিছনে যারা আছে সেই অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর এই হালকা মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

গত বছরও মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছিল শিক্ষা মহলে। বিভিন্ন জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশ্নফাঁস নিয়ে। তবে শিক্ষা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কিভাবে একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠছে? শিক্ষা মহল থেকে আরও বলা হয়েছে, বারবার একই ঘটনা ঘটলেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষা নেয়নি পর্ষদ। অন্যদিকে, পর্ষদের কারোর এই প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে জড়িত থাকার সন্দেহ একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মত শিক্ষা মহলের। তবে বারবার একই ঘটনা ঘটায় এবার পর্ষদ কি ব্যবস্থা নেয় তা দেখার অপেক্ষায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!