এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > লোকসভার মতো বিধানসভাতেও বিজেপিকে আশীর্বাদ উত্তরবঙ্গের! তবুও নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে ক্ষোভ

লোকসভার মতো বিধানসভাতেও বিজেপিকে আশীর্বাদ উত্তরবঙ্গের! তবুও নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে ক্ষোভ



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিজেপি টার্গেট রেখেছিল, এবার তারা রাজ্যের 200 আসনে জয়লাভ করবে। কিন্তু সেই টার্গেটে পৌঁছনো তো দূরের কথা, বাস্তবে 77 টির বেশি আসন দখল করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে 2016 সালে বিধায়ক সংখ্যা 3 থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে 77 টি আসন দখল করে রাজ্যের বিরোধীদলের জায়গা দখল করা যে বিজেপির অভূতপূর্ব ফলাফল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখন বিরোধী আসনে বসে লড়াই করলেও আগামী দিনে তারাই রাজ্যের ক্ষমতা দখল করবে।

কিন্তু কিভাবে বিজেপি রাজ্যের আগামী দিনে তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে, লোকসভা নির্বাচনের মত বিধানসভা নির্বাচনেও উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে সমর্থন করেছে সেখানকার মানুষ। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দলের ভাঙ্গন প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে কর্মীরা হতাশাগ্রস্ত হতে শুরু করেছেন। একদিকে লক্ষ্যে না পৌঁছানোর কারণে যেমন প্রতিমুহূর্তে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে তাদের টিপ্পনী শুনতে হচ্ছে, ঠিক তেমনই শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াই এবং রণনীতি কি হবে, তা নিয়ে দলের ওপরতলা থেকে ঠিকমত নির্দেশ না আসায় কার্যত হতাশ নিচুতলার কর্মীরা।

এদিকে মানুষের আশীর্বাদে যারা উত্তরবঙ্গ থেকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই করোনা পরিস্থিতিতে সঠিক ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ আসছে। তবে জেলাস্তরের হেভিওয়েট নেতা হোক বা শীর্ষস্তরের নেতা, কেউ তেমন ভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বিজেপিকে উত্তরবঙ্গে কিছু আসনে জয়লাভ করানো গেলেও, তাদের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় মনোভাব না থাকায় মানুষের মনে ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।

একাংশ বলেন, বিপদের সময় মানুষ পরীক্ষা করেন, কোন রাজনৈতিক দল তাদের পাশে থাকে। এক্ষেত্রে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা ভারতবর্ষে। পশ্চিমবঙ্গেও তা ভয়াবহভাবে প্রবেশ করেছে। দিনকে দিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আর এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউনের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। মানুষ কার্যত গৃহবন্দি।

তাই এই অবস্থায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিটা রাজনৈতিক দল কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেদিক থেকে উত্তরবঙ্গের যে সমস্ত জায়গায় বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, তারা সেভাবে মানুষের পাশে থাকছেন না বা তাদের দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ শুধু শাসক দলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে না। অনেক বিজেপি নেতা কর্মীদের পক্ষ থেকেও এই ব্যাপারে শোনা গেছে হতাশার সুর।

এদিন এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, “উত্তরবঙ্গে ভালো ফল করেও আমরা সাধারণ মানুষের জন্য করোনার সময় কিছু করতে পারছি না। আমাদের রাজ্য নেতৃত্বের যে ভূমিকা দেখছি, তাতে আগামী দিনেও আমরা আদৌ কিছু করতে পারব কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই আমরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছি।” একইভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গের বিজেপির এক নবনির্বাচিত বিধায়ক।

এদিন তিনি বলেন, “মানুষ আমাদের দুহাত ভরে ভোট দিয়েছেন। এখন সংকটে আমরা তাদের জন্য কিছু করতে পারছি না। রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসেনি ঠিক কথা। কিন্তু বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে। তাই গ্রামের মানুষ আমাদের কথা শুনতে চাইছে না। এই চাপ কতদিন সহ্য করব জানি না! তাই বিকল্প পথ খুঁজতে হবে এবং সেই চেষ্টা শুরু করেছি।” অর্থাৎ নেতা থেকে শুরু করে নবনির্বাচিত বিধায়ক, মানুষের কাজ সঠিক মত করতে না পারার কারণে তারা যে দলের ওপর তলার নেতৃত্বের আচরণে কার্যত ক্ষুব্ধ, তা এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিজেপি এই রাজ্যে বিরোধীদলের ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু যদি বিরোধীদল থেকে বিজেপিকে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে হয়, তাহলে তাদের বর্তমান যারা বিধায়ক আছেন, তাদের মানুষের পাশে প্রতিনিয়ত দাঁড়াতে হবে। এক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির সময় যদি বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা সেভাবে মানুষের পাশে না দাড়ান, তাহলে মানুষের মনে বিরোধী দলের ক্ষমতায় থাকা বিজেপির নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে।

আর একবার যদি জনসাধারনের মনে বিজেপি সম্পর্কে সেই প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে, তাহলে আগামী দিনে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিজেপি কতটা দাগ কাটতে পারবে, তা নিঃসন্দেহে সংশয়ের বিষয়। তাই এই পরিস্থিতিতে বিজেপির দুর্দিনের নেতা থেকে শুরু করে কর্মী, এমনকি বিধায়করা সঠিকভাবে ভোট দেওয়ার পরেও মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়াতে পারছেন না তারা, তাতে কার্যত হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি তাদের কথায় এখন বিজেপিতে থেকে কাজ না করতে পারার জন্য দলবদলের সুর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। যা বিজেপির জন্য খুব একটা সুখকর নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একাংশের প্রশ্ন, বিধানসভায় বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্র তারা দখল করেছে। সেক্ষেত্রে সেখানকার মানুষের দায়িত্ব তো অবশ্যই ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ককে নিতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে দলের ওপরতলা থেকে নেতারা যদি ঠিক মত মানুষের পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের নেতৃত্ব এবং বিধায়কদের নির্দেশ না দেয়, তাহলে রাজ্যে বিরোধী দলের ক্ষমতা দখল করা ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান আরও সঙ্গীহীন হয়ে যাবে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!