এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লকগেট খুলে দিলেন বিপ্লব মিত্র? বিজেপিতে ধ্বস নামিয়ে এবার তৃণমূলের পথে ৮ জন হেভিওয়েট সাংসদ?

লকগেট খুলে দিলেন বিপ্লব মিত্র? বিজেপিতে ধ্বস নামিয়ে এবার তৃণমূলের পথে ৮ জন হেভিওয়েট সাংসদ?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – কথাতেই বলে রাজনীতিতে কখন কি হয়, তা বোঝা যায় না। আর এবার এই প্রবাদের সত্যতা কতখানি তা প্রমাণ হলো বাংলার রাজনীতিতে। লোকসভা নির্বাচনের পর ঢক্কানিনাদ সহযোগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন তৎকালীন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্র। সেসময় তৃণমূল শিবির থেকে অনেকেই গেরুয়া শিবিরে চলে গিয়েছিলেন। সময় যেতেই অনেকেই ফিরেছিলেন, তবে সেক্ষেত্রে কোন হেভিওয়েট নেতার নাম ছিলনা। কিন্তু এবার এক বছর এক মাসের দীর্ঘ সময়ের পর বিজেপি শিবির থেকে আবার তৃণমূল শিবিরে ফিরে এলেন বিপ্লব মিত্র।

সাথে নিয়ে এলেন তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্রকে। দলে ফিরেই এদিন বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন, তৃণমূল থেকে কোন কারণে বিচ্যুত হয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। তবে মনে করা হচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রর দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল গত বছর লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসনে অর্পিতা ঘোষকে দলের প্রার্থী করা নিয়ে। সেই গন্ডগোল যথারীতি মিটে গেছে সম্প্রতি অর্পিতা ঘোষকে জেলা সভাপতি থেকে সরিয়ে নেওয়ার ফলে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় বিপ্লব মিত্র উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলকে পুরো শূন্য থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ এবং তিনটি পুরসভায় ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্রও গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে অর্পিতা ঘোষ পরাজিত হবার পরেই তাঁর দিকে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। এরপরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান বিপ্লব মিত্রর। সাময়িকভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ এবং গঙ্গারামপুর পৌরসভা হাতছাড়া হয় তৃণমূলের।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পরে অবশ্য বিজেপি ছেড়ে অনেকেই আবার তৃণমূলে ফিরে আসে এবং গঙ্গারামপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলে আসে আবার। কিন্তু সে সময় অনাস্থা প্রস্তাব এনে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রশান্ত মিত্রকে এবং নতুন চেয়ারম্যান হন অমলেন্দু সরকার। অন্যদিকে সূত্রের খবর, তৃণমূলে ফেরার জন্য বিপ্লব মিত্রের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করা হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। এদিন তৃণমূল ভবনে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে আবার তৃণমূলে প্রবেশ করেন বিপ্লব মিত্র ও তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্র।

অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বিজেপি থেকে আরও বেশকিছু সাংসদ এবং বিধায়ক তৃণমূলে ফিরতে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদিও এ ব্যাপারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিশেষ কিছু বলতে রাজি হননি। তবে যোগাযোগের ব্যাপারটি তিনি একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সাথে সাথেই খুব স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শিবিরে চিন্তার ভাঁজ। 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনকে যখন পাখির চোখ করেছে বিজেপি, ঠিক তখনই হেভীওয়েট নেতার দলত্যাগের গঠনা নিঃসন্দেহে স্নায়ুর চাপ বাড়াবে বিজেপির বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এতদিন পর্যন্ত বিজেপি শিবিরের সংগঠনকে আলাদা নজরে দেখা হত বলে মত রাজনৈতিক মহলের। বিজেপি সংগঠন আপাতদৃষ্টিতে জোরদার মনে হলেও ভেতরে ভেতরে যে সেখানে ভাঙ্গন ধরেছে সে ব্যাপারে একমত রাজনৈতিক মহল। তবে বিপ্লব মিত্রের দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি গেরুয়া শিবির। তবে একুশের বিধানসভার নির্বাচনের আগে এই ঘটনা যে তৃণমূলকে কিছুটা স্বস্তি সেকথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আপাতত এই ঘটনাকে কিভাবে সামাল দেয় রাজ্য বিজেপির সেদিকেই এখন চোখ সবার।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!