এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > দীর্ঘ লকডাউনে গৃহবন্দী? বাড়ছে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-অশান্তি? কিভাবে খুব সহজেই সব মিলবে সমাধান?

দীর্ঘ লকডাউনে গৃহবন্দী? বাড়ছে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-অশান্তি? কিভাবে খুব সহজেই সব মিলবে সমাধান?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্টলকডাউনে মানুষের গৃহবন্দী হয়ে যা অবস্থা তাতে আমাদের আর ভূপেন হাজারিকার গলায় গলা মিলিয়ে বলা যাবে না — “আমি এক যাযাবর…!”

ভাবুন, কিছু দিন আগে অব্দিও আমরা সারাক্ষণ ঘরে থাকার কথা ভাবতেই পাড়তাম না। বাইরের জগৎ – ঘরের জগৎ সবই এখন চার দেওয়ালে বন্দী। অতএব, পৃথিবী যখন লক হয়ে গেলো, তখন ঘর বন্দী মানুষের জীবনে তো কিছু পরিবর্তন আসবেই। মানুষ অভ্যাসের দাস। আর দীর্ঘ দিনের লালিত অভ্যাসে হঠাৎ আঘাত লাগলে তার যেমন ইতিবাচক ফল আছে, তেমন খারাপ প্রভাবও পড়েছে।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

যাদের সারাদিন পেটের জোগানের জন্য বাড়ির বাইরে সময় কাটাতে হতো, দিনের শেষে ঘুমন্ত শিশুর মুখ দেখতে হতো, তাদের এই লকডাউনে আর্থিক কষ্টে পড়তে হয়েছে ঠিকই, অন্য দিকে তারা পরিবারকে পাশে পাচ্ছেন। নতুন ভাবে আবার সম্পর্কগুলোকে মেরামত করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন তারা।
আবার এর উল্টো ছবিটাও চোখে পরছে সর্বত্র।

মানুষ যখন একা সময় কাটাতে অভ্যস্ত হয় তখন তার একটি নিজস্ব জগৎ তৈরি হয়। কিন্তু লকডাউনের ফলে কিছু মানুষের সেই প্রাইভেট স্পেস নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে দাম্পত্য কলহ অনেক বেশি বেড়ে ওঠে। আগে সারাদিন যে যার কাজে ব্যাস্ত থাকায় একে অন্যের ছোট-বড় ভুল ভ্রান্তিগুলি খুব সহজেই অগ্রাহ্য করতে পারতো। কিন্তু এই সময় সারাক্ষণ একে অন্যের সাথে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে সেই ছোট খাটো ভুলগুলোই বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামান্য ব্যাপার নিয়ে অশান্তি বাঁধছে।

কাজেই এই লকডাউন যেমন প্রেম, দাম্পত্য বা পুরোনো বন্ধুত্বকে ঝালিয়ে নেওয়ার করে দিয়েছে, তেমনই গৃহে অশান্তি ও দাম্পত্যকলহকেও ত্বরান্বিত করছে। এমনকি ডিভোর্স অব্দিও গড়িয়ে যাচ্ছে কখনও কখনও।

কিন্তু এমনটা হওয়া মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে এই লকডাউনের সময় কী ভাবে এই দাম্পত্য বা পারিবারিক সমস্যা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন? আসুন, জেনে নিন কিছু কার্যকর টিপ্স–

১. একে অন্যকে নিজের স্পেসটুকু দিন। এতে সমস্যা অনেক কমবে। এই ব্যাক্তিগত স্পেসটা না থাকলে কলহ বাঁধতে বাধ্য।

২. নিজের জন্য একটু ব্যাক্তিগত সময় বাঁচিয়ে রেখে সেই সময়টায় কোনো সৃষ্টিশীল কাজ করুন যা আপনার মনকে ভাল রাখতে পাড়ে। আপনি গান শুনতে পারেন, বই পরতে পারেন বা নিজের যা ভাল লাগে সেটা করুন। দেখবেন মনের বিরক্তি অনেকটা দূর হয়ে যাবে।

৩. দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা সমস্যা হলে মাথা গরম করবেন না। বরং ঠান্ডা মাথায় পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। আত্ম বিশ্লেষণ করুন এবং বিরক্তির কারণগুলো নির্ণয় করে তা নিয়ে আপনার সঙ্গীর সাথে খোলাখুলি কথা বলুন।

৪. ঘরের কাজগুলি পরস্পর মিলেমিশে ভাগ করে করুন। সংসারের কাজ কাউকে একা করতে হবে তার কোনো মানে নেই। তাই, যখন আপনি সময় পেয়েছেন এবং বাড়িতে আছেন তখন ঘরের কাছে হাত লাগান। দেখবেন আপনার সঙ্গীও তাতে খুশি হবে। উভয়ের মধ্যে মানুষিক আদান-প্রদানও বাড়বে।

৫. ব্যাক্তিগত স্পেস নিতে গিয়ে যাতে আবার এমন না হয় যে আপনি আপনার সঙ্গীকে কোনো সময়ই দিলেন না। এতে কিন্তু দূরত্ব বাড়বে। সারাদিনের কিছুটা সময় আপনার সঙ্গীকে দিন। তার সাথে গল্প করুন, একসাথে সময় কাটান, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করুন। দেখবেন দীর্ঘদিনের মান অভিমানগুলি গলে জল হয়ে গেছে।

৬. শুধু নিজের দিকটা না দেখে, নিজের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত না থেকে বাড়ির বড় বা ছোটদেরকেও সময় দিন। মনে রাখবেন, তারাও আপনার সঙ্গ আশা করে। জীবনের ভাল মন্দে পরিবারই পাশে থাকে। তাই পরিবারকে উপেক্ষা করে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন বা।

৭. দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন, এতেও অনেকটা স্ট্রেস কমে এবং পরস্পরের মধ্যে মানুষিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

এই হলো কিছু প্রয়োজনীয় টিপস্ যা মেনে চললে আপনি পেতে পারেন এক সুখি গৃহকোণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!