এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > পঞ্চায়েতের আগে বড় ঘোষণা বামফ্রন্টের, আতঙ্কে কর্মীরা

পঞ্চায়েতের আগে বড় ঘোষণা বামফ্রন্টের, আতঙ্কে কর্মীরা



সামনেই আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন আর তার‌ আগেই বামফ্রন্টের প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে চাঞ্চল্যকর বার্তা দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ও‌ পলিটব্যুরোর সদস্য সূর্য্যকান্ত মিশ্র। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে যখন সবদল প্রায় প্রস্তুত তখন উত্তরবঙ্গের এক প্রকাশ্য সমাবেশে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, সিপিএমের পক্ষে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের সর্বত্র প্রার্থী দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁরা যেখানে প্রার্থী দিতে পারবেন না, সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধী শক্তিকে তাঁরা সমর্থন করবেন। প্রসঙ্গত, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম কংগ্রেসের সাথে আসন সমঝোতা করেছিল, কিন্তু তার ফল বামফ্রন্টের পক্ষে আশানুরুপ হয় নি, মাত্র ২৬ টি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁদের। আর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে রাজ্য থেকে ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর প্রতিটি নির্বাচনেই বামফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোট কমেছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের ওই সভা থেকে সূর্য্যবাবু বলেন, আগমী পঞ্চায়েত ভোটে যেখানে আমাদের দলের অথবা সহযোগীদের (অর্থাৎ বামফ্রন্টের অন্য শরিকদের) শক্তি নেই, সেখানে‌‌ যে সাহস নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, আমরা তাদের মদত দেব, সমর্থন করব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে বামফ্রন্টের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একক ভাবে রাজ্যের সর্বত্র প্রার্থী দেওয়া সম্ভব নয়। আর কার্যত সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকও সেই বাস্তবটা প্রকাশ্যে মেনে নিলেন। এমনকি সূর্য্যবাবুর এই কথা সমর্থিত হচ্ছে দলের অন্দরেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিপিএমের এক জেলা নেতা বলেন সূর্য্যবাবুর কথা সম্পূর্ণ বাস্তসম্মত, তৃণমূলের সন্ত্রাস এর ফলে অনেক কর্মী ঘরছাড়া, তাঁরা প্রকাশ্যে এখন দলীয় পতাকা হাতে নিতেও ভীত।
যদিও শাসকদলের তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে উত্তরবঙ্গের এক জেলা তৃণমূল নেতা বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী দেবার মত লোক সিপিএম পচ্ছে না, সেটা জলপাইগুড়িতে যেমন সত্যি তেমনি সমগ্র রাজ্যেও একই চিত্র, আর তাই এখন অন্যদের সাহায্য চাইতে হচ্ছে। কিন্তু সূর্য্যবাবু প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে দলের এই ‘দীর্ণ’ দশা সামনে আনতেই শোরগোল পড়ে গেছে দলীয় স্তরে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য আলোচনায় উঠে আসছে, দলের এই ‘দুর্দিনেও’, রাজ্যজুড়ে প্রবল গেরুয়া হাওয়ার মধ্যেই সদ্য সমাপ্ত সবং উপনির্বাচনে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় হয়েছে বামেরা। অর্থাৎ বামফ্রন্টের এখনো একটা জনভিত্তি বা জনসমর্থন আছে, কিন্তু দলের শীর্ষ নেতারা যদি এইভাবে হাল ছেড়ে দেন, তাহলে আগামীদিনে আরো রক্তক্ষরণ হতে বাধ্য। বিশেষ করে বামদল যদি নিজেরাই মনে করে হারার আগে হেরে গেছি, তাহলে শাসকবিরোধী ভোট বাম শিবির থেকে তুলনামূলক অন্য বিশ্বাসযোগ্য বিরোধীদের (পড়ুন বিজেপি) যেতে বাধ্য। এখন বাম কর্মীদের এই হতাশাজনক পরিস্থিতি থেকে বাইরে আনতে ও ঘুরে দাঁড়াতে বাম শীর্ষনেতৃত্ত্ব কি করেন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!