এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > তৃণমূল নয়, উত্তরবঙ্গে এবার বিজেপির ঘুম কাড়তে কোমর বেঁধে আসরে নামছে বাম-কংগ্রেস জোট!

তৃণমূল নয়, উত্তরবঙ্গে এবার বিজেপির ঘুম কাড়তে কোমর বেঁধে আসরে নামছে বাম-কংগ্রেস জোট!



রাজ্যজুড়ে বাম এবং কংগ্রেসের অস্তিত্ব সংকটের দশা। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই বামেরা যতগুলো নির্বাচনের সম্মুখীন হয়েছে, প্রায় সব নির্বাচনেই পর্যুদস্ত হতে হয়েছে তাদের। এমনকি একসময় কংগ্রেস রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় ভালো ফল করলেও, যত দিন যাচ্ছে, ততই তারা পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে হাতে হাত ধরে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে বাম এবং কংগ্রেস নেতৃত্বদের।

বর্তমানে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে এই দুই রাজনৈতিক দল। সূত্রের খবর, কোচবিহারের ছটি পৌরসভায় জয়ের জন্যই এবার বাম-কংগ্রেস গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মঞ্চ জেলা ভিত্তিক একটি কমিটি তৈরি করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে। জানা গেছে, এই কমিটির পাশাপাশি এই কোচবিহার জেলার প্রতিটি পৌরসভার জন্য একটি করে কমিটি তৈরি করে, সেখান থেকে ওয়ার্ড কমিটি গড়ে তোলা হবে।

আর তার মাধ্যমেই আগামীদিনে এই দুই দল বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাদের প্রার্থী ঠিক করবে বলে খবর। বস্তুত, বর্তমানে কোচবিহার জেলায় মূল লড়াই হচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। কিন্তু এই দুই দলকে কুপোকাত করতে, হাতে হাত ধরে এখন নিজেদের লড়াইয়ের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে বাম এবং কংগ্রেস। কিন্তু অতীতের মত তারা কি জোট করে লড়াই করবে, নাকি আবার আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের লড়াই হবে!

দলীয় সূত্রের খবর, আগামী 10 ফেব্রুয়ারি আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক হবে বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে। আর তারপরই 13 ফেব্রুয়ারি সমস্ত দল মিলে কোচবিহারের সুকান্ত মঞ্চে একটি কনভেনশন করবে। আর সেখান থেকেই পৌরসভা ভোটের রণকৌশল ঠিক করবে তারা। এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা সিপিএমের সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, “বাম-কংগ্রেস গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মঞ্চের পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি আরও জানান, “এছাড়াও জেলার প্রতিটি পৌরসভার জন্য একটি করে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই পৌরসভার কমিটিগুলো আবার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাম- কংগ্রেস একত্রে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে নেবে। 13 তারিখ বৈঠকে কোন দল কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেটা ঠিক করা হবে। ওই বৈঠক থেকেই আমরা পৌরসভা ভিত্তিক নির্বাচনী ইস্যু ঠিক করব।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে কোচবিহার জেলা কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামল চৌধুরী বলেন, “আগামী 13 তারিখ কনভেনশনের পর আমরা দলীয় বৈঠক করব। সেই বৈঠকে আমাদের দলের পর্যবেক্ষক সুখবিলাস বর্মা থাকবেন। সেখানে দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। আসন সমঝোতার পর সব ওয়ার্ডেই সাংগঠনিক কাজ হবে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাম এবং কংগ্রেস ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আসন সমঝোতা নিয়ে নিজেদের বৈঠক করবে বলে মনস্থির করলেও, তাদের মধ্যে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসু হয়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা বামেদের শরিকদলগুলো কংগ্রেসকে কতগুলো আসন ছাড়বে এবং সেই আসনে কংগ্রেস সন্তুষ্ট কিনা, তা নিয়ে নানা জলঘোলা পরিস্থিতি হতে পারে।

তাই সেদিক থেকে কোচবিহার জেলার যতগুলো পৌরসভা রয়েছে, সেই পৌরসভাগুলোতে মূল লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে শেষ পর্যন্ত বাম এবং কংগ্রেস যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাদের রাজনৈতিক রণকৌশল ঠিক মত সাজাতে পারেন, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও অন্য আকার নিতে পারে বলে মনে করছে একাংশ। এখন গোটা পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, সেদিকেই নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!