এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > লালমাটির আদিবাসী এলাকায় কি জমি হারাচ্ছে তৃণমূল? জল্পনা বাড়াল বিজেপি

লালমাটির আদিবাসী এলাকায় কি জমি হারাচ্ছে তৃণমূল? জল্পনা বাড়াল বিজেপি



বাম জামানায় মাওবাদী কার্যকলাপের প্রাণকেন্দ্র ছিল বাঁকুড়ার রাণীবাঁধ এলাকা। এখন ক্ষমতার রশি ঘাসফুল শিবিরের হাতে তবুও সন্ত্রাস কমলো না ওই এলাকায়।পঞ্চায়েত মনোনয়ন পর্ব থেকে তৃণমূল ও বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বাঁকুড়ার রাণীবাঁধ এলাকা। এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুর অভিযোগে। জেলা পরিষদের বিদায়ী সদস্য তথা তৃণমূলের এবারের ওই এলাকার প্রার্থী মৃত্যুঞ্জয়বাবু এদিন রাণীবাঁধ লাগোয়া বারিকুলে কর্মী বৈঠকে গিয়ে জানান, তাঁদেরই দুই কর্মী নাকি বিজেপিদের দুষ্কৃতি হামলায় জখম হয়েছেন। তির বেঁধে নাকি আরো একজনের গায়ে। অন্যদিকে,পঞ্চায়েত মনোনয়ন পর্বেই রাণীবাঁধে খুন হয়ে গেছিলেন এক বিজেপি কর্মী। তাঁরা আবার অভিযোগের আঙুল তুলেছে ঘাসফুল শিবিরের দিকে।বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের তরফ থেকে অভিযোগ এসেছে যে,অাদিবাসীপ্রধান এলাকায় একটানা সন্ত্রাস চালাচ্ছেন তৃণমূল।যদিও এ দাবী অস্বীকার করে তৃণমূলের বিদায়ী সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী পাল্টা যুক্তিতে বলেন, পায়ের তলার মাটি পেতে আদিবাসীদের ‘ভুল’ বোঝাচ্ছে কোনো রাজনৈতিক দল।
ক্ষমতার পালাবদল হয়ে লাল থেকে সবুজ রং এসেছে রাজ্যে।কিন্তু বাঁকুড়ার রাণীবাঁধ এলাকার প্রান্তিক মানুষগুলোর কোনো মানোন্নয়ন হয়নি। বিড়ির জন্য কেন্দুপাতা কুড়িয়ে,শাল পাতার থালা,বাবুই ঘাসের দড়ি বানিয়ে রোজগার করে আদিবাসী মানুষের একটা বড় অংশ। বাম জামানায় এলাকায় মানোন্নয়ন এর প্রশ্ন উঠলে মাওবাদীরা ভেবে দেখতো বিষয়টা। এই কারণেই ২০০৩-২০১১ সাল অব্দি মাওবাদের আস্তানা ছিল ওই এলাকা। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এলাকার ছবি পাল্টে যায়। আত্মসমর্পণ করে একাধিক মাওবাদী শীর্ষস্থানীয় নেতারা। শাসকদলের সরকার ওই এলাকার জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে রাস্তাঘাট পাকা করেছে।দু টাকার চাল,’কন্যাশ্রী’,’সবুজ সাথী’ র মতো প্রকল্পের ঝড় উঠেছে ওসব এলাকায়।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

যদিও বিজেপির গলায় অন্য সুর।তৃণমূল নাকি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি এবং নিজেদের লোককে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে মেতেছে। প্রতিকার চেয়েই নাকি আধিবাসীরা এখন তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন।বিজেপি নেতা বিবেকানন্দবাবুর বক্তব্য,”রানিবাঁধ এলাকায় আমাদের সাংগঠনিক শক্তি দেখে ভয় পেয়েছে শাসক দল। মনোনয়নপর্বে মোটরবাইক নিয়ে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঢুকে আমাদের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়েছে।” অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, ”তলায় তলায় আঁতাঁত করেছে বিজেপি আর বামেরা। তবে জঙ্গলমহলের মানুষ ও আদিবাসীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের পাশেই রয়েছেন। ব্যালট-বাক্সে তাঁরা সেটা দেখিয়ে দেবেন।” কিন্তু আরেক বিরোধী শিবির বামফ্রন্ট বলছে অন্যকথা। সিপিএমের এক জেলা নেতা মেনে নিচ্ছেন যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রাণীবাঁধে তাঁদের অনেক নেতা কর্মী ঘরছাড়া হন।পাশের দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত সংগঠন তখন দলের ছিল না। সেই সময়ে প্রতিরোধ করতে না পারার খেদ থেকেই নাকি অনেক এখন বিজেপির দিকে মাথা নোয়াচ্ছেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!