এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > কঠোর মমতা, দেওয়াল লিখেও মুছে ফেলল তৃণমূল! জোর চাঞ্চল্য!

কঠোর মমতা, দেওয়াল লিখেও মুছে ফেলল তৃণমূল! জোর চাঞ্চল্য!



মালদহ জেলা নিয়ে তিনি যে সন্তুষ্ট নন, তা বুধবার মালদহের সভা থেকেই নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমানোর জন্য, পৃথক পৃথকভাবে দায়িত্ব বন্টন করতেও দেখা গেছে তাকে। দল এখানে শৃংখলাবদ্ধ না হলে তিনি যে কাউকে নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করবেন না, তা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তৃণমূল নেত্রীর প্রকাশের পর এখন রীতিমতো ভয়ে কাঁপছে জেলার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতারা।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, ইতিমধ্যেই ইংরেজবাজার পৌরসভার 23 নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সুজিত সাহার নাম লিখে দেওয়াল লিখন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিজের হাতেই সেই দেওয়াল মুছতে দেখা যায় সুজিত সাহাকে। অর্থাৎ নেত্রীকে খেপালে এখন যে পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে যাবে, তা ভালোই বুঝতে পারছেন এই জেলা তৃণমূল নেতারা। আর তাই তো এখন বুঝে শুনে পা ফেলতে চাইছেন তারা।

এদিন এই প্রসঙ্গে সুজিত সাহা বলেন, “অতি উৎসাহিত হয়ে কেউ কেউ দেওয়াল লিখেছিল। কিন্তু এই ঘটনা শিষ্টাচার বিরোধী। দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। তাই নিজেই উদ্যোগী হয়ে ওই দেওয়াল মুছে দিয়েছি।” কিন্তু জেলায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক নেতা-নেত্রীকে পৃথক পৃথক দায়িত্ব দেওয়ায়, কি বলছেন সেই নেতা নেত্রীরা? এদিন এই প্রসঙ্গে ইংলিশবাজার পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, “আমাকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার দায়িত্ব দিয়েছেন দলনেত্রী। বিগত লোকসভা নির্বাচনে আমাকে যে দায়িত্ব দল দিয়েছিল, তা পালন করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখিনি। এবারও মন দিয়ে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করব।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে এই ব্যাপারে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ বলেন, “আসলে যা ত্রুটি-বিচ্যুতি, তা আমাদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহ সহ সারা রাজ্যের জন্য যেরকম অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তা অতুলনীয়। আমাদের কাজ শুধু তার নির্দেশিত পথে এগিয়ে চলা। এটুকু করতে পারলেই সাফল্য আসবে। আমাকে দলনেত্রী যা যা দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করার ক্ষেত্রে কোনো রকম খামতি রাখব না। আমার বিশ্বাস, তাতেই সাফল্য আসবে।”

এদিকে এই ব্যাপারে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বকুনি দিয়েছেন, তা ভালোর জন্যই দিয়েছেন। তিনি আমাদের যেভাবে স্নেহ করেন, তাতে আমাদের ভৎসনা করার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। তিনি আমাকে শুধু মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে থাকতে বলেছেন। আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।” এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্দিনের সৈনিক তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার বলেন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর অনুগত সৈনিক। তিনি আমাকে বলেছেন, পৌরসভা এলাকার পাশাপাশি জেলা জুড়ে দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আমি তাই করব।”

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বকুনি দেওয়ার পর নেতারা নিজের নিজের কাজ করার কথা বললেও, পরবর্তীতে আবার অবস্থার জটিলতা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন একাংশ। যদিও বা এই ব্যাপারে মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম নূর বলেন, “আমাদের সুপ্রিমো যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট তিনি মালদহকে কতটা ভালবাসেন এবং গুরুত্ব দেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করে তার স্বপ্ন পূরণ করব।” সব মিলিয়ে এখন গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!