এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > করোনার চাপে বন্ধ বহু দাতব্য চিকিৎসালয়! সুযোগ বুঝে সেগুলিকে গাঁজা-মদের ঠেক করছে সমাজবিরোধীরা

করোনার চাপে বন্ধ বহু দাতব্য চিকিৎসালয়! সুযোগ বুঝে সেগুলিকে গাঁজা-মদের ঠেক করছে সমাজবিরোধীরা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –মূলত চিকিৎসকের অভাবের কারণে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত দাতব্য চিকিৎসালয়গুলি বন্ধ হয়ে পরে আছে। এই চিকিৎসালয়গুলির পরিত্যক্ত বাড়িগুড়ি কোথাও দুর্বৃত্তদের হাতে পড়ে মদ, গাঁজার আড্ডায় পরিণত হয়েছে , কোথাও জমি বেখোল করে শুরু হয়েছে অবৈধ নির্মাণ। বন্ধ হয়ে পরে থাকা এই চিকিৎসালয় গুলি পুনর্বার খোলবার জন্য জেলা পরিষদকে বার বার চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। কিন্তু চিঠি দিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে, অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সংবাদসূত্রে জানা গেছে, উত্ত চব্বিশ পরগনা জেলায় একসময় ১৯ টি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল, সেইসঙ্গে গোবরডাঙা অঞ্চলে একটি ইনডোর হাসপাতাল ও আছে। দীঘদিন ধরে এই স্বাস্থকেন্দ্রগুলি নানাসমস্যায় জর্জরিত ছিল। স্বাস্থকেন্দ্রগুলির পুনরুজ্জীবনের দাবি নিয়ে এলাকাবাসীরা অনেকবার আন্দোলনেও সামিল হয়েছিলেন। কিন্তু তেমন ফল হয় নি। কয়েকমাস আগে ডাক্তারের অভাবে ধুঁকতে থাকা গোবরডাঙার ইন্ডোর হাসপাতালটি মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরকে হস্তান্তর করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ।

কিন্তু বাদবাকি ১৯ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২০১৬ সাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। দেগঙ্গা অঞ্চলে টাকি রোডের ধরে দোতলা একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ১৯৯২ সালের ২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়েছিল । এখানে নিয়মিত ডাক্তার বসতেন , রোগীদেরও যথেষ্ট ভাবে আনাগোনা ছিল। কিন্তু গত ২০১৬ সাল থেকে এটি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত ও তালাবন্ধ অবস্থায় পরে আছে। স্বরূপনগরের মালঙ্গপাড়া অঞ্চলে সাড়ে নয় বিঘা জমির উত্তরে নির্মিত দাতব্য চিকিৎসালয়টি এখন একেবারেই পোড়োবাড়ি। সন্ধ্যা নামলেই যেখানে বসে মদ, গাঁজার আড্ডা। এমনিভাবে বসিরহাট এর ভ্যাবলা অঞ্চলেও এরকম ভাবে পড়ে ছিল একটি চিকিৎসালয়। তবে বছর তিনেক হলো এটি পুনরায় চালু করেছে বসিরহাট পুরসভা।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, পূর্বে জেলা পরিষদে মোট ১৭ জন চিকিৎসক ও অনেক স্বাস্থকর্মী ছিলেন। যাঁরা এইসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবা দান করতেন। ২০১৩ সালের এই চিকিৎসকের সংখ্যা কমে গিয়ে ১৭ থেকে ৬ হয়ে যায়, আর এখন মাত্র ১ জন চিকিৎসকই আছেন গোবরডাঙা ইন্ডোর হাসপাতালে। বাদবাকি চিকিৎসকেরা কেউ অবসর নিয়েছেন, কেউ বা কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। চিকিৎসকের অভাবের কারণেই দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, বেড়াচাঁপা, কোটরা, বারাকপুর১ ব্লকের মাঝিপাড়া, পলাশি সহ বহু দাতব্য চিকিৎসালয় ২০১৬ সালের পর থেকে পরে আছে তালাবন্ধ অবস্থায়।

আর দীর্ঘকাল ধরে এই চিকিৎসালয়গুলি পরিত্যক্ত হয়ে পরে থাকায় কোথাও জানলা, দরজা ভেঙে তার মধ্যে দিনভর চলছে মদ, গাঁজা এমনকি জুয়ার আড্ডা, কিছু জায়গা আবার বেদখল হতে শুরু করেছে। এবাবে স্থানগুলি অপরাধী ও দুবৃত্তদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, অভিযোগ উঠে এসেছে স্হানীয় মানুষের পক্ষ থেকে। এই প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তী বলেছেন, ” আইন অনুযায়ী আমরা কোনও চিকিৎসককে ২১ হাজার টাকার বেশি বেতন দিতে পারব না। ওই টাকায় কোনও চিকিৎসক আসতে চাইছেন না। বারবার বিজ্ঞাপন দিয়েও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ২০১৬ সাল থেকে সব দাতব্য চিকিৎসালয় বন্ধ করা হয়েছে। ওই জায়গায় পার্ক বা উন্নয়নমূলক কোনও কাজ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!