এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের কালো পতাকা দেখতে হল

শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের কালো পতাকা দেখতে হল



কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১১৮ তম জন্মদিবস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী কর্মচারী পরিষদের ডাকে ও সরকারি কর্মচারী পরিষদের সহযোগিতায় পালন করার কথা ছিল গতকাল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসার কথা ছিল বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। কিন্তু তার আগের দিন হঠাৎ করে নজিরবিহীনভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এক নির্দেশিকা পাঠান যাতে লেখা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও কর্মীরা ছাড়া ‘বহিরাগতরা’ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। আর গতকাল সেই অনুষ্ঠান পালনকে ঘিরেই তৈরী হলো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। তাই শেষ অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরেই অনুষ্ঠান পালনের সিদ্ধান্ত নেয় গেরুয়া শিবিরের সরকারি কর্মচারী সংগঠন। সেই মত এদিন বিকেল চারটে নাগাদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জন্মদিবস পালন করতে উপস্থিত হয় বিজেপির কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। বিপত্তির সূচনা হয় তখনই। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেই কালো পতাকা দেখাতে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। বিজেপির স্লোগানের পালটা স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, রীতিমত শারীরিক আক্রমন শুরুর পরিস্থিতি তৈরী হলে পুলিশ মাঝখানে ব্যারিকেড করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

শেষ অবধি এদিনের সভা মুলতুবি করা হয়, এদিনের সভা প্রসঙ্গে এই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মন্মথ বিশ্বাস বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। তা আমরা মানব না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতিতে ও এই অযোগ্য প্রশাসনকে সরাতে যা করার তাই করব।” একইসাথে সভায় মুকুল রায়ের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি রাজ্য সরকারের কালা কানুনের প্রতিবাদ জানিয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অরাজকতা চলছে তার প্রতিবাদ জানিয়ে মুকুল রায় আসেননি।” অন্যদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি মণিশংকর মণ্ডল, মুকুল রায়কে কালা সাপ বলে অ্যাখ্যায়িত করে বললেন, “কালা সাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বিষ ছড়াতে চেয়েছিল। আমরা সেই কালা সাপকে আটকেছি। বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ভিতরে ঢুকতে দিইনি।” কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের নির্দেশিকা মেনে যেখানে বিজেপি নেতা মুকুল রায় উপস্থিতই হন নি সেখানে তাহলে কালো পতাকা দেখানো হল কাকে? অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের বক্তব্য, বাংলার বুকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন করতে গিয়ে কালো পতাকা দেখতে হল, এর থেকে দুঃখের দিন বাঙালির জীবনে বোধহয় আর আসেনি। যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্য আজ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসাবে থাকতে পেরেছে, পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায় নি তাঁর জন্মদিন পালনে বর্তমান শাসকদলের ছাত্র সংগঠন কালো পতাকা দেখাচ্ছে! এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা আর কি হতে পারে? বাংলার সংস্কৃতি যে কিভাবে কলুষিত হচ্ছে বর্তমান শাসকদলের হাতে তা আবারো প্রমাণিত হল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!