এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > ক্ষমতায় এসেই বড় পদক্ষেপ, সরকারি প্রকল্প থেকে বাদ মমতার সাধের “শব্দ”, কারণ নিয়ে জল্পনা!

ক্ষমতায় এসেই বড় পদক্ষেপ, সরকারি প্রকল্প থেকে বাদ মমতার সাধের “শব্দ”, কারণ নিয়ে জল্পনা!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  ব্রীজ থেকে শুরু করে রাস্তা, কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে যুবশ্রী, তৃণমূল সরকারের আমলে যে সমস্ত প্রকল্প হয়েছে, সেই সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন হোক বা শিলান্যাস, সবক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করার পাশাপাশি তার আগে লেখা হত মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়। যাকে নিয়ে বারবার কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তীর্থস্থান সংস্কার থেকে শুরু করে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন “অনুপ্রেরণা” শব্দ ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা গেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে।

এমনকি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করার পর “গঙ্গাসাগরে যেতে-আসতে অনুপ্রেরণা চোখে পড়ে” বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরেই সেই মুখ্যমন্ত্রীর “অনুপ্রেরণায়” শব্দকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হল। জানা গেছে, অনুপ্রেরণার বদলে এবার সমস্ত প্রকল্পের ব্যানার তৈরিতে লেখা হবে, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে।” স্বভাবতই সরকারের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

একাংশ বলছেন, তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর যথেষ্ট সচেতন হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় স্তর, সব জায়গায় আরও বেশি করে সচেতনতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। তাই এতদিন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের আগে “অনুপ্রেরণা” শব্দ ব্যবহার করা হত।

যা নিয়ে নানা মহলে হাসি-ঠাট্টার খোরাক হতে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। এমনকি বিরোধীরা এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে শোরগোল তুলে দিয়েছিল। তবে এবার আর “অনুপ্রেরণা” শব্দ নয়, “ঐকান্তিক উদ্যোগ” শব্দ প্রয়োগ করে ঠাট্টা থেকে রেহাই পেতে চাইছে রাজ্য সরকার। আর সেই কারণেই তাদের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, 2011 সালে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্প মানুষের জন্য চালু করা হলেও, সেই প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌছানো অপেক্ষা বেশি করে নিজেদের প্রচার করতে দেখা যেত রাজ্য সরকারকে‌। যাকে হাতিয়ার করেছিল বিরোধী থেকে শুরু করে সমালোচক মহল। মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছানোর থেকে রাজ্য সরকার নিজেদের প্রচার বেশি করছে বলে দাবি করেছিল তারা।

এমনকি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তার “অনুপ্রেরণায়” শব্দ প্রয়োগ করার নিয়েও যথেষ্ট আপত্তি তৈরি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে “বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়” বলে স্লোগান তুলেছিল‌। এমনকি “বাংলার গর্ব মমতা” বলেও দাবি করতে শুরু করেছিল। স্বাভাবিক ভাবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, সত্যজিৎ রায়ের মত বিদগ্ধ মানুষের জন্ম বাংলায়।

কিন্তু সেদিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করে বাংলার গর্ব হলেন, তা নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করতে শুরু করেছিল বিরোধীরা। তাই তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই যে “অনুপ্রেরণা” শব্দ নিয়ে এতদিন নানা কটাক্ষ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, সেই “অনুপ্রেরণা” শব্দ বাদ দিয়ে “ঐকান্তিক উদ্যোগ” শব্দ প্রয়োগ করে বিতর্ককে দূরে রাখতে চাইল তৃণমূল সরকার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!