এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > খোলা বুকে পিঠে অশ্লীল শব্দ! এ কি সংস্কৃতি না সংস্কৃতির বিকার?

খোলা বুকে পিঠে অশ্লীল শব্দ! এ কি সংস্কৃতি না সংস্কৃতির বিকার?



রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মেয়েদের খোলা পিঠে বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে অশ্লীল শব্দ। এই ফুটেজটি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেদের বুকেও দেখা যায় অশ্লীল শব্দ লেখা রয়েছে। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে শাড়ি পরা কিছু মেয়ের খোলা পিঠে আবির দিয়ে রবীন্দ্র সংগীতের বিকৃত রূপ যা শুরু হচ্ছে অশ্লীল শব্দ দিয়ে। যদিও এই ছবির সত্যতা প্রিয় বন্ধু মিডিয়া যাচাই করে নেয়নি।

যারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু না জানা গেলেও জানা গেছে তাঁরা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নয়। এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে যে অশ্লীলতার ঝড় বয়ে গেছে, তা নিয়ে এবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু চৌধুরী সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেন। এদিন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পিঠে বুকে অশ্লীল শব্দ লেখা ছেলেমেয়েগুলি সম্ভবত হুগলি, চন্দননগর, চুঁচুড়ার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র ছাত্রী।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো পর্যন্ত এই ছবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। প্রতিবছরই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব হয়। দোলের আগেই এই বসন্ত উৎসবের সূচনা হয়। এবং এই বসন্ত উৎসবকে ঘিরে বহু মানুষের সমাগম ঘটে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেটি অবস্থিত বিটি রোডের ধারে। বৃহস্পতিবার ছিল এ বছরের বসন্ত উৎসব। তবে এই মুহুর্তের বড়ো খবর, এবারের বসন্ত উৎসব অশ্লীলতার কালিমায় লিপ্ত হয়েছে।

বসন্ত উৎসবের বেশকিছু ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সমালোচনায় সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মহল। ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিছু ছেলেমেয়ে তাঁদের বুকে পিঠে রবীন্দ্রনাথের গানকে অশ্লীল শব্দ দিয়ে নিজেদের শরীরে আবির দিয়ে লিখেছে। অন্যদিকে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে বিকৃতভাবে রবীন্দ্রনাথের গান বাজছে এবং ততোধিক বিকৃত সুরে গলা ফাটিয়ে চলেছে উপস্থিত ছেলেমেয়েগুলি। মুহুর্তের মধ্যে এই ছবি এবং ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর তারপরেই তা নজরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্র সংসদের সদস্যদের। সঙ্গে সঙ্গেই থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নিজের কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপাধ্যক্ষ দাবি করেছেন, এই বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে এসেছিল দূর-দূরান্তের কলেজের ছাত্রছাত্রীরা- যেমন হুগলি, চন্দননগর, চুঁচুড়ার বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের মধ্যে থেকেই কেউ এ ধরনের অশ্লীল কাণ্ড ঘটিয়েছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এধরনের মানসিকতা কাজ করবে না বলে তিনি দাবি জানিয়েছেন।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে উঠেছে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, কিছু ছেলে-মেয়ে বুকে-পিঠে আবির দিয়ে অশ্লীল শব্দ লিখে না হয় ছবি তুলেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেভাবে ইউটিউব এর বিখ্যাত গায়ক রোদ্দুর রায়ের বিকৃত ও অশ্লীল রবীন্দ্র সংগীত বাজানো হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায়নি সে কথা অবিশ্বাস্য। শুধু তাই নয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এসে বহিরাগত ছাত্রছাত্রীরা এ ধরনের অশ্লীল আচরণ করবে সেকথা যথেষ্ট সন্দেহ জাগায়। বিশিষ্টজনের দাবি, বহিরাগতদের কোনোভাবেই সাহস হবে না বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এসে এ ধরনের অশ্লীলতা করার যদি না রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এব্যাপারে জড়িত থাকে।

এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অশ্লীল ছবিগুলি এবং ভিডিওর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ তার ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যেভাবে সাধারণ ছেলে মেয়েরা রবীন্দ্রসংস্কৃতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে গতানুগতিক হাওয়ায় নিজেদের ভাসিয়ে দিচ্ছে, তাতে কি সত্যিই তাদের মানসিক উত্তরণ ঘটছে? এ প্রসঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতার অবনমন হচ্ছে বলে দাবি করছেন বিশিষ্টরা। অন্যদিকে জানা গেছে, এ ঘটনায় রবীন্দ্রভারতী ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে বলা হচ্ছে, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটে গেল, তা নিতান্তই সাংস্কৃতিক বিকার। এটি সংস্কৃতির কোন অঙ্গ নয় বরং অপসংস্কৃতি বলা চলে।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!