এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতায় এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা

কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতায় এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা



রাজধানী দিল্লিতে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, ক্রমশ তা সাম্প্রদায়িক হিংসার আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসন এবং আধা সেনাবাহিনী পথে নেমেও এই সংঘর্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। মৃতের সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অন্যদিকে আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। এই মুহূর্তে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বিরোধীরা। দিল্লী সংঘর্ষ চলাকালীন রাজধানীতে উপস্থিত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গে উল্লেখ করে এবার একের পর এক কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় সরকারকে কংগ্রেস শিবির।

সম্প্রতি দিল্লির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে 144 ধারা জারি করা হলেও পরিস্থিতি কোনোমতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ইতিমধ্যে এই সংঘর্ষের ফলে প্রায় 23 জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা প্রায় 200। পরিস্থিতি গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যেতেই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিধানসভার এক ভাষণে দাবি করেছেন, দিল্লির এই সংঘর্ষের পেছনে বহিরাগতরা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। তবে তিনি দিল্লিবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ খুলেছে বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠেছে দিল্লি পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে। ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী দিল্লির পরিস্থিতির জন্য বিজেপি সরকারকেই দায়ী করেছেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ”এই সংঘর্ষের পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। দিল্লির ভোটের সময় দেশবাসী সেটা দেখেছে। অনেক বিজেপি নেতা উস্কানিমূলক মন্তব্য করে ভয় ও হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি, গত রবিবারও এক বিজেপি নেতা একই রকম মন্তব্য করেছেন।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধলেন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। এদিন দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ”দিল্লি দেশের গৃহমন্ত্রীর নিজের এলাকা। এটা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা দেখার দায়িত্ব পুরোপুরি কেন্দ্রের। কিন্তু পাঁচদিন ধরে দিল্লি জ্বলছে। এই ব্যর্থতার দায় দেশের বাহুবলী সরকারের। অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে, গণ্ডগোল থামানোর জন্য গৃহমন্ত্রীর এত অনীহা।” এখানে না থেমে অধীর চৌধুরী আরো বলেন, ”ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য সভা না করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সভা ডাকুন প্রধানমন্ত্রী। তাতে বেশি লাভ হবে।”

অন্যদিকে, দিল্লির পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যও ইতিমধ্যে দফায় দফায় উচ্চস্তরের বৈঠক করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সিএএর বিরুদ্ধে দেশের নানা প্রান্তে বিগত কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছে। সেই বিক্ষোভের আঁচ এসে লাগে রাজধানী দিল্লিতেও। শাহীনবাগের আন্দোলন তার প্রমাণ। যা ক্রমশ অস্বস্তি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। অবস্থা আরো জটিল হয়ে ওঠে সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাওয়ায়। এই পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক মহল থেকে নাগরিক সমাজের প্রত্যেকে আবেদন জানিয়েছেন, এই হিংসা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ হোক। বন্ধ হোক মৃত্যু-মিছিল। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!