এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > জঙ্গলমহলে পদ্ম শিবিরে বড়সড় ভাঙন, যথারীতি উল্লাস ঘাসফুলের অন্দরে

জঙ্গলমহলে পদ্ম শিবিরে বড়সড় ভাঙন, যথারীতি উল্লাস ঘাসফুলের অন্দরে



2019 এর লোকসভা নির্বাচনে দেখা যায়, এরাজ্যের বিজেপির পক্ষে সিংহভাগ ভোট উঠে এসেছে জঙ্গলমহল থেকে। বোঝা যায়, জঙ্গলমহল সেই সময় তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জঙ্গলমহলের উন্নতি কোন কাজে দেয়নি ঘাসফুল শিবিরের। বিজেপি যথারীতি এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি হয়। মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। আর তারই মধ্যে তৃণমূল শিবির আবার হারিয়ে যাওয়া মাটি পুনরুদ্ধার করলো জঙ্গলমহলে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন দ্বিতীয়বার বিজেপি সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হলেন দিলীপ ঘোষ আর এই দিনেই জঙ্গলমহলের গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরল।

লোকসভা নির্বাচনের পর কয়েক মাসের ব্যবধানে মধ্যে জঙ্গলমহলের গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরাতে সফল হল তৃণমূল শিবির। একদিকে যেখানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি নির্বাচিত হচ্ছে সেখানেই অন্যদিকে তৃণমূল কার্যালয়ে এসে দলে দলে যোগ দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের লোকজন। তৃণমূল কার্যালয়ে এসে যোগ দিলেন এদিন সুপুর, ডাবরা ও মুড়াগ্রাম এলাকার বেশ কিছু বিজেপি কর্মী। তৃণমূল শিবিরের দাবি, সংখ্যাটা 100 র অধিক। এদিন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র দলত্যাগীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

এদিন ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়ে মুড়াগ্রাম গ্রামের শংকর মন্ডল জানান, যে তাঁরা প্রথম দিন থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু কিছু নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে তাঁরা চলে গেছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে বিজেপির দলীয় নীতি তাদের কাছে স্বৈরাচারের সমান হয়ে উঠেছে, আর তাই তাঁরা গেরুয়া শিবির ছেড়ে এসেছে। বিজেপির স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে যেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো পর্যন্ত এ রাজ্যে একাকী লড়ে যাচ্ছেন, সেখানে নেত্রীর জনদরদী নীতি ও আদর্শকে সম্মান জানানো ছাড়া আর কোন রাস্তা তাঁদের কাছে খোলা ছিল না।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা কার্যকরী সভাপতি ও খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র জানান, আজ যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁরা একসময় ভুল বুঝেছিলেন ও দলত্যাগী হয়েছিলেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করেছে জঙ্গলমহলের বিজেপি শিবির। এ প্রসঙ্গে খাতরা মণ্ডল-২ সভাপতি আদিনাথ দে জানিয়েছেন, তৃণমূলের দাবি পুরোপুরি ভ্রান্ত। কারণ, যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তারা অতীতে তৃণমূল ছেড়ে নির্দল হিসাবে লড়েছেন। এরা কেউই বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত নন। সুতরাং তৃণমূল যে প্রচার চালাচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

লোকসভা ভোটের পর থেকে যে পরিমাণ সদস্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাতে বিজেপি সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছেছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার দল পরিবর্তনকারীরা পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়ায় পদ্ম শিবিরে চিন্তার ভাঁজ। এই নিয়ে দলের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এইভাবে যদি একে একে বিজেপি থেকে তৃণমূলে সব ফিরতে শুরু করে প্রত্যেকে, তাহলে 2021 এ বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন ধাক্কা খেতে পারে। তাই অবিলম্বে বিজেপির উচিত, নিজেদের সংগঠনকে আরো মজবুত জায়গায় নিয়ে যাওয়া। তবে এই দলবদল এর ফলে যথারীতি তৃণমূলের শক্তি কিছুটা হলেও বাড়ল জঙ্গলমহলে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!