এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মমতার চাপ বাড়িয়ে বিজেপিতে বিধায়কদের যোগদান সম্পর্কে বিস্ফোরক মুকুল রায়

মমতার চাপ বাড়িয়ে বিজেপিতে বিধায়কদের যোগদান সম্পর্কে বিস্ফোরক মুকুল রায়



লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলবদলের পালা যেন বঙ্গ রাজনীতিতে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নচিকেতা গেয়েছিলেন, “আজকে যিনি দক্ষিণেতে, কালকে তিনি বামের..” বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী তার এই গানকে কিভাবে উপস্থাপিত করেছিলেন তা বলতে পারবেন না কেউই, তবে এর মর্মার্থ যে বর্তমান বঙ্গ রাজনীতির সঙ্গে একেবারে হুবহু মিলে গিয়েছে, সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত প্রায় প্রত্যেকেই।

লোকসভায় তৃণমূল 42 এ 42 এর টার্গেট দিয়েছিল বটে, কিন্তু 22 এর বেশি কোটা তারা পারাতে পারেনি। সেদিক থেকে বিজেপি তৃণমূলের থেকে আসন সংখ্যা কম পেলেও তাদের উত্থান বাংলায় চোখে পড়ার মতো। আর বাংলায় গেরুয়া শিবিরের এই অভাবনীয় ফলাফলের পরই দিকে দিকে তৃণমূল ছেড়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা বিজেপিতে নাম লেখাতে শুরু করেছেন। এতদিন এই ঘটনা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।

কিন্তু সম্প্রতি সেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া উত্তর 24 পরগনার বিভিন্ন পৌরসভার কাউন্সিলররা তৃণমূলে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। যার জেরে এখন চিন্তার ভাঁজ পরেছে বিজেপি নেতাদের কপালে। আর এই পরিস্থিতিতে নিজেদের চিন্তাটাকে প্রকাশ্যে না এনে উল্টে তৃণমূলের চিন্তাকেই আরও বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন বঙ্গ বিজেপির চাণক্য মুকুল রায়। এদিন যখন একের পর এক পৌরসভা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ বিজেপির হাত থেকে ফের তৃণমূলের হাতে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বঙ্গ বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, এদিন একটি লম্বা কাগজ দেখিয়ে মুকুল রায় বলেন, “খুব তাড়াতাড়ি 107 জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেবেন।” কিন্তু এই 107 জন বিধায়ক শুধুই কি তৃণমূলের, নাকি অন্যান্য দল রয়েছে! এদিন সেই প্রসঙ্গে মুকুলবাবুর বক্তব্য, সব দলেরই রয়েছে। তবে সব থেকে বেশি বিধায়ক রয়েছে রাজ্যের শাসকদলের। বস্তুত, লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন যে, বাংলার তৃণমূলের 40 জন বিধায়ক তার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। আর এবার তারই দলের অন্যতম সৈনিক মুকুল রায়ের এহেন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনাকে আরও দ্বিগুনভাবে বাড়িয়ে দিল বলে মত বিশ্লেষকদের।

যদিও বা মুকুল রায়ের এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃনমূল। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুধু যাওয়া আসা হচ্ছে। চমক একটাই, যারা যাচ্ছেন তারা আবার ফিরে আসছেন। যিনি নিয়ে যাচ্ছেন, তিনি নিজেও জানেন না চারদিন পরে আবার সবাই ফিরে আসবে। কে না চায়, মায়ের কোলে ফিরে আসতে। দাদার রুমাল কেউ চায় না।”

অন্যদিকে একধাপ উপরে উঠে নাম না করে মুকুল রায়কে কটাক্ষ করে তৃণমূল যুবর সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যিনি নিজের পাড়ার 10 জন কাউন্সিলরকে ধরে রাখতে পারেন না, তার একজন বিধায়কের সঙ্গেও কথা বলার অধিকার নেই। গত একমাসে যে জনপ্রতিনিধিরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তারা আবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।”

তবে তৃণমূলের তরফে যে দাবিই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, বিভিন্ন সময় বঙ্গ বিজেপির চাণক্য মুকুল রায় দলবদলের ব্যাপারে যে জল্পনাকে উসকে দিয়েছিলেন, পরে সেটাই বাস্তবে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাই এক্ষেত্রেও 107 জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে তার সেই দাবি ঠিক কতটা বাস্তব রূপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!