এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > জাতীয়স্তরে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে হেভিওয়েট নেতার আহ্বানে এবার কি সামিল হবেন তৃণমূল সুপ্রীমো?

জাতীয়স্তরে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে হেভিওয়েট নেতার আহ্বানে এবার কি সামিল হবেন তৃণমূল সুপ্রীমো?



সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ইতিমধ্যে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়েছে। দেশের সমস্ত স্তরের নাগরিক সমাজ এই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সাধারণ মানুষও পা মিলিয়েছেন। কোথাও চলছে অবস্থান-বিক্ষোভ, কোথাও চলছে পদযাত্রা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে সরকারি আইনের বিরোধিতা শুরু হয়েছে। তবে এবার এই বিরোধিতায় রাজ্য সিপিএমকে অস্বস্তিতে ফেললেন সি পি আই দলের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা।

সম্প্রতি কলকাতায় আসেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা এবং কলকাতায় এসে তিনি তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বোঝাতে শুরু করেছেন, জাতীয় স্তরে ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলোর সাথে তাঁরা হাত মেলাতে চান। যে কথায় এবার পরের প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সিপিআই তৃণমূলের হাত ধরবে জাতীয়স্তরে ? এদিন এনআরসি ইস্যুতে জাতীয় স্তরের জোটের বার্তা দিয়েছেন সিবিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক। তিনি পরিষ্কার করে দেন এই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে। রাজ্যের সিপিএমকে অস্বস্তিতে ফেলে তিনি বলেন, তাঁরা আক্রমণ করতে গিয়ে দিদিভাই মোদিভাই ব্যবহার করেন না। আর এখানেই অস্বস্তির শুরু। কারণ, এ রাজ্যে সিপিএম-তৃণমূল এবং বিজেপিকে একই আসনে বসিয়েছে।

সিপিএম থেকে বরাবর মহম্মদ সেলিম থেকে শুরু করে সুজন চক্রবর্তী- প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁর এবং বিজেপির নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গোপন আঁতাত নিয়ে এবং তাঁরাই মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে একসাথে দিদিভাই মোদিভাই বলে কটাক্ষ করেন। কিন্তু এদিন জাতীয় স্তর থেকে এসে সিপিআই সেই রাস্তায় হাঁটলেন না, বরং কেন্দ্রবিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়ে গেলেন। সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার কথায় এদিন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এদিন ডি রাজা কলকাতায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে দেশের গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির এক এবং একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় স্তরে বিজেপিকে আটকানো। তিনি এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এনআরসি এবং সিএএর কারণে। উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ঠিক একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের মতোই কেরলের বাম সরকারও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ডি রাজা বলার চেষ্টা করেন, রাজ্যস্তরে তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধিতা থাকলেও জাতীয় স্তরে একসাথে একজোট হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরোধিতায় তাঁদের কোন অসুবিধা নেই। এনআরসি এবং সিএএ আন্দোলনে পরবর্তীতে যোগ দিয়েছে তেলেঙ্গানাও। শুধু তাই নয়, এই লড়াইয়ে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিও একে একে আন্দোলন শুরু করেছে। জাতীয় স্তরে সমস্ত বিরোধীদলকে একজোট করতে সম্প্রতি 13 ই জানুয়ারি দিল্লিতে সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী। তবে সেই সভাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা নাকচ করে দেন তিনি।

কারণ 13 জানুয়ারির আগে গত 8 জানুয়ারি ভারতজুড়ে বনধ ডেকেছিল বাম ও কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠনগুলি। সেই বনধ সফল করার চেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গে অশান্তির আগুন জ্বালে বাম ও কংগ্রেস সংগঠন। যে ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তখনই তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, 13 ই জানুয়ারি জাতীয় স্তরে যে বিরোধী দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেই বৈঠকে তিনি উপস্থিত হবেন না। তবে এদিন ডি রাজা আবারও এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরে একজোট হয়ে লড়াই করার বার্তা দিয়ে গেলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

তবে এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরাজ্যে বাম ও কংগ্রেসকে সবসময় বিরোধী দল হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন। এমনকি কংগ্রেস ও সিপিএম দল দুটিও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে নির্বাচনে। সুতরাং এই রকম পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলকে নিয়ে কিভাবে জাতীয় মঞ্চে সমস্ত বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বিজেপি বিরোধী মঞ্চে হাজির হবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকে যায়। সুতরাং এদিন সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা যে সংকেত দিয়ে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমোর দিকে, তার ব্যাখ্যা বোধহয় একমাত্র তিনিই দিতে পারবেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!