এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > এবার কি জগন্নাথ আর মুকুটমণিকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে চড়ছে পারদ? সংগঠন ঘিরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব?

এবার কি জগন্নাথ আর মুকুটমণিকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে চড়ছে পারদ? সংগঠন ঘিরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –2021 সালে বিধানসভা নির্বাচনকে বিজেপি পাখির চোখ করেছে। এক্ষেত্রে দলের শৃঙ্খলা অটুট রেখে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানানোই বিজেপির এখন প্রধান কাজ বলে মনে করছেন সকলে। কিন্তু তৃণমূলকে সরাতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসছে। এবার মতুয়া সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নদিয়ায় বিজেপির অন্দরে তীব্র টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেল। যার একদিকে রয়েছে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং অন্যদিকে রয়েছেন বিজেপি নেতা মুকুটমণি অধিকারী। অভিযোগ, মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দলের অন্দরে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে কোণঠাসা করতে চাইছেন মুকুটমণি অধিকারীর অনুগামীরা।

আর এই পরিস্থিতিতে মুকুটমণি অধিকারী মতুয়া সংগঠনের জেলা সভাপতির পদ পেয়েছেন। যার ফলে কিছুটা চাপে পড়েছেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তাই বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের দাদা সুব্রত ঠাকুরের দিকে পা বাড়িয়ে এখন মুকুটমণি অধিকারীকে চাপে ফেলতে চাইছেন জগন্নাথবাবু। জানা গেছে, এদিন কল্যাণীতে সুব্রত ঠাকুরকে নিয়ে একটি সভা করেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই সভায় জগন্নাথবাবুকে কালোপতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। শুরু হয় বিক্ষোভ। আর এই ঘটনাতে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি করছেন একাংশ। তাহলে কি মুকুটমণিবাবুর অনুগামীরা এবার জগন্নাথ বাবুকে কালো পতাকা দেখালেন? ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে দুই নেতা দুই নেতার বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন। এদিন এই প্রসঙ্গে মুকুটমণি অধিকারী বলেন, “সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। এটাতে আমি গর্বিত।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে এই ব্যাপারে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “আমি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ হলেও সংগঠনের নিয়ম কানুন বিশেষ জানি না। ফলে কে কাকে কোন পদ দিচ্ছেন, তার বৈধতা কতটা, সেটাও বলতে পারব না।” সামনে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে গত লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির কাছে অত্যন্ত লাভবান হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এভাবে যদি দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, তাহলে কি বিজেপি অতটা লাভ করতে পারবে! এখন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রশ্ন।

ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে বিজেপির দুই নেতার দ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে এই প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের তৃনমূলপন্থী সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি প্রমথরঞ্জন বসু বলেন, “ওদের সংগঠন বৈধ নয়। ওরা আমাদের নাম ব্যবহার করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে যাব। আর মানুষ যে ওদের জালিয়াতি ধরা পড়েছে, সেটা বিধানসভা ভোটেই বুঝিয়ে দেবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবেই যদি বিজেপি সাংসদ এবং বিজেপি নেতা একে অপরকে কুপোকাত করতে ময়দানে নামেন, তাহলে তারা তৃণমূলকে কিভাবে চাপে ফেলবে! যেখানে বিজেপি 2021 সালকে পাখির চোখ করেছে, সেখানে মতুয়া মহাসংঘের ভোট তাদের কাছে বড় ফ্যাক্টর। তাই সেই ভোট নিতে গিয়ে যেভাবে দুই বিজেপি নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তাতে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়ছে। এখন গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, বিজেপি সাংসদ এবং বিজেপি নেতার এই দ্বন্দ্ব সামাল দিতে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কিনা, তার দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!