এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > গোষ্ঠী কোন্দল ভাবাচ্ছে, ফের একসাথে চলার বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

গোষ্ঠী কোন্দল ভাবাচ্ছে, ফের একসাথে চলার বার্তা তৃণমূল নেত্রীর



 

গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের আশানুরূপ ফল না হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ ছিল দলীয় অন্তঃকোন্দল। তাই 2021 সালের আগে বিধানসভা নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতিতে দলকে পুনর্বার চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে সবার আগে গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সেই একই নির্দেশ দিতে দেখা গেল কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে।

আগে যা হওয়ার হয়েছে। আগামী দিনে একসঙ্গে চলতে হবে। এই নিয়ে আর কোনো রকম জল ঘোলা করবেন না। এরকমটাই বার্তা দিতে গেল তৃণমূল সাংসদকে। বস্তুত, সোমবার চাপরা এলাকার শ্রীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদেরকে নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী মহুয়া মৈত্র। আর এই বৈঠকেই এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে চলতে থাকা গোষ্ঠী কোন্দলে রাশ টানার চেষ্টা করেন সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী।

তৃণমূল সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে মহুয়া মৈত্র বলেন, “ব্লক সভাপতি ও বিধায়ক দুইজনেই দলের সঙ্গে আছে। কারও মাথায় কোনো রকম বিভ্রান্তি যেন না থাকে। এমএলএ ব্লক সভাপতির বাইরে নয়। আবার ব্লক সভাপতিও এমএলএর বাইরে নয়।” পাশাপাশি এই বিষয়ে নেতৃত্বদেরকে সতর্ক করে মহুয়াদেবী বলেন, “আজকের পরে এটা নিয়ে যেন কোনো লবি না হয়। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলি। কোনোরকম গুজবে আপনারা কান দেবেন না।”

রুদ্ধদ্বার এদিনের বৈঠক থেকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র নাম না করে চাপড়ার প্রাক্তন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি রাজীব শেখকে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই বিষয়ে মহুয়া দেবীর বক্তব্য, “চাপড়া একটু আলাদা। এখানে একটু অন্যরকম রাজনীতি হয়। তবে সবকিছুর একটা সীমা আছে। আমি যা বলার বলেছি। যাদের বোঝার বুঝবে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “খোলাখুলি ভাবে যদি কেউ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিডিও অফিসের আশেপাশে ঘোরে, তবে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। আমি যদি আর একবার শুনি, এরকম কিছু হয়েছে, পার পাবে না।”

কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দলীয় নেত্রী মহুয়া দেবী আরও বলেন, “সিপিএম আমলে মানুষ মরত। আমাদের আমলে এসব হয় না। এরকম হলে কি আপনাদের ভালো লাগবে!” জানা যাচ্ছে, এদিনের বৈঠক থেকে সমাজবিরোধী কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত কর্মী-সমর্থকদের রীতিমতো সাবধান করে দিয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৈঠকে তিনি বলেন, “একা কেউ বন্দুক নিয়ে ঘুরলে ঘুরবে। তার সঙ্গে যেন একটা লোক না থাকে।”

তবে পরবর্তীতে ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তার থেকে মহুয়া মৈত্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “চাপরা খুব ভালো একটি ব্লক। ব্লক সভাপতি এবং বিধায়ক সব সময় তৃণমূলকে সমর্থন করে এসেছে। ব্লক সভাপতি এবং বিধায়ক উভয়ই দলের শক্তিশালী লোক। এরা দুজনেই দলের হয়ে কাজ করছে এবং করবেন।”

পাশাপাশি আগামী দিনে দল বিরোধী কাজকে কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মহুয়া দেবী। সাংগঠনিক এদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের বুথ থেকে শুরু করে শাখা সংগঠনগুলির অবস্থান পর্যন্ত সব বিষয়ে রীতিমতো চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী। এক্ষেত্রে তিনি অতীতকে ভুলে গিয়ে আগামী দিনের রণনীতি সম্পর্কে আলোচনা জোর দেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। তিনি জানিয়েছেন, এদিনের বৈঠকে সাংসদ মহুয়া মৈত্র বুথ ভিত্তিক তৃণমূল কংগ্রেসের লুকিয়ে থাকা ধান্দাবাজদেরকে যাচাই করার কথা বলেছেন।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি নির্বাচনে যে সমস্ত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে কাজ করেছেন, তাদেরও খোঁজার কথা বলেছেন। বৈঠকে সাংসদকে কাছে পেয়ে একাধিক নেতৃত্ব দলীয় কোন্দলের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার ব্যাপারে সাংগঠনিক সভানেত্রীকে অবগত করেছেন দলের নেতৃত্বরা।

এদিন এই সাংগঠনিক বৈঠকের পরে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র নাকাশিপাড়া এলাকায় একটি সভায় যান। যে সভা থেকে সাংসদ তথা সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কাছে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। আবার প্রত্যেকটি পঞ্চায়েত এলাকায় জাতীয় নাগরিকপঞ্জী এবং সংশোধিত নাগরিক আইন নিয়ে সভা করা প্রতিটি গ্রাম সংসদের একটি করে মিছিল করা ইত্যাদি কর্মসূচি সম্পর্কে দলীয় কর্মী-সমর্থকদেরকে নির্দেশ প্রদান করেন।

আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদেরকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে বলে জানান সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলীয় সভার পাশাপাশি এদিন ভারতীয় জনতা পার্টি সহ বিভিন্ন দল থেকে 13 জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য এবং একজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন মহুয়া মৈত্রর উপস্থিতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে নেন তারা। তবে এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলতে ছাড়েনি ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা মহাদেব সরকার। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে অনেককে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে আবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কল্লোল খাঁ বলেন, “বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা মহুয়া মৈত্রের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। আমরা তাদের সকলকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আগামীদিনে উন্নয়নের কাজে তাদের শামিল করতে চাই। আমরা সকল কর্মীদের সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। আগামী দিনে নাকাশিপাড়ার আরও অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি খুব শীঘ্রই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করবেন।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করা অত্যন্ত সাধারন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এদিনের কৃষ্ণনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দলে ইতি টানার জন্য কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র যেভাবে দলীয় নেতৃত্বদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সাবধান করেছেন, তাতে করে আগামী দিনে জেলায় সংগঠনের অনেকটাই উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!