এখন পড়ছেন
হোম > আন্তর্জাতিক > ইসলামের সম্মানে সিনেমা-নাটকের বিয়ের দৃশ্যে আসতে চলেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন? জানুন বিস্তারে

ইসলামের সম্মানে সিনেমা-নাটকের বিয়ের দৃশ্যে আসতে চলেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন? জানুন বিস্তারে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সিনেমা সিরিয়ালের অনেক দৃশ্যেই বিভিন্ন আনন্দানুষ্ঠান দেখানো হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বিবাহ, অন্নপ্রাশন, সাধের মত অনেক ঘটনাই কাহিনীর আঙ্গিকে দর্শকদের কাছে দেখানো আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে সেক্ষেত্রে বাস্তব জীবনে তার কোনো মিল বা প্রযুক্ততা থাকে না। কিন্তু সম্প্রতি ইসলামের সম্মানে সিনেমা নাটকের বিয়ের দৃশ্য নিয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে জানা গেছে।

এক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু সিনেমা নাটকের ক্ষেত্রে “কবুল” শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাই একজন মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূর্বক যদি কোন বিয়ের দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রেও কবুল শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তবে মুসলিম আইন শরিয়ত অনুযায়ী এই অভিনেতা এবং অভিনেত্রী স্বামী স্ত্রী বলে গণ্য হবেন।

অভিনয় যুক্তিতে কিন্তু সেই বিবাহকে কখনোই অস্বীকার করা যাবে না। তাই এই মর্মে বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ সরকারের একাধিক ব্যক্তির কাছে সিনেমা-নাটকে বিয়ের দৃশ্যে কবুল শব্দটি উচ্চারণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আনার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। যা কিনা সিনেমা জগতে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবেই পরিচিত হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসলামিক বিয়ের প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের সময় পাত্র এবং পাত্রীকে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে আলাদা আলাদা ঘরে বসানো হয়। এরপর বিয়ের কাজী অর্থাৎ যিনি বিয়ে করান, তিনি পাত্রের কাছে পাত্রীর নাম-ধাম, পরিচয়-সহ যাবতীয় তথ্য বলে শেষে তিনি এই বিয়েতে রাজি কিনা প্রশ্ন করেন।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এরপর তিনি এই বিয়েতে সম্মত থাকলে পাত্রকে ‘কবুল’ বলতে বলা হয়। অন্যদিকে একইভাবে পাত্রীর কাছে গিয়েও এই একই নিয়মে জিজ্ঞাসা করা হয়। উভয় পক্ষই কবুল বললে বিবাহ সম্পন্ন হয়। আর এই বিধির উল্লেখ করেই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয় সচিব এবং বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডকে নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আর এই নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যেই সিনেমা, নাটকের বিয়ের দৃশ্যে ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তা না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। বস্তুত, সেই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৯৭৩ সালের মুসলিম আইনের ধারা ২ অনুযায়ী বিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, মোহরানা প্রভৃতি ক্ষেত্রে দুই পক্ষ যদি মুসলিম হন তাহলে সেক্ষেত্রে মুসলিম আইন শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিম নারী ও পুরুষ উপরোক্ত আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করলেই তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন।

এক্ষেত্রে মুসলিম ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯৭৪’এর ধারা ৩ অনুযায়ী, মুসলিম নারী-পুরুষের মধ্যে বিবাহ মুসলিম আইন অনুযায়ীই হবে। আর ওই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে তা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। তবে বিবাহের সময়ই যদি রেজিস্ট্রার বা কাজী বিয়েতে উপস্থিত থাকেন, তবে তিনিই বিবাহের অনুষ্ঠানের সময় বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করবেন।

তবে কেউ যদি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না করে তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই হবে। তবে এক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে বিয়ে এবং বিয়ে রেজিস্ট্রেশন দু’টোই পৃথক বিষয়। ফলত মুসলিম নারী ও পুরুষের মধ্যে মুসলিম আইন শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে মুসলিম ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯৭৪ আইন অনুযায়ী বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করা অপরাধ হলেও মুসলিম আইন অনুযায়ী কিন্তু বিয়েটা বৈধই থাকে। আর তাই এহেন পরিস্থিতিতে, একজন মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী যদি সমস্ত নিয়ম বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূর্বক যদি কোন বিয়ের দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রেও কবুল শব্দটি ব্যবহার করেন তবে মুসলিম আইন শরিয়ত অনুযায়ী এই অভিনেতা এবং অভিনেত্রী স্বামী স্ত্রী বলে গণ্য হবেন। তাই এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই এমন কাজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!