এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > লড়াইয়ের আগেই কি এই বিধানসভায় হার মেনে নিল তৃণমূল? ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে নীচুতলায়

লড়াইয়ের আগেই কি এই বিধানসভায় হার মেনে নিল তৃণমূল? ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে নীচুতলায়



লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করার পর থেকেই, বিজেপির বিরুদ্ধে বেশি করে রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। সেদিক থেকে বিজেপি যেখানেই সভা করছে, সেখানেই তার পাল্টা সভা করছে ঘাসফুল শিবির। যা রাজ্য রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজাকে জমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তৃণমূলের নিচুতলার নেতাকর্মীরা বিজেপির পাল্টা কর্মসূচিতে উজ্জীবিত হলেও, উচ্চ নেতৃত্বের পদক্ষেপে বাড়ছে ক্ষোভ।

তৃণমূলের শীর্ষনেতার মেগা র‌্যালি বারবার পিছিয়ে যাওয়ায়, রীতিমত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে সেই নিচুতলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। বস্তুত, ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত 22 জানুয়ারি ফালাকাটায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যে যাত্রায় ব্যাপক জনসমাগম করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

আর বিজেপির এই অভিনন্দন যাত্রার পরেই পাল্টা ফালাকাটায় মহামিছিলের ডাক দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। যেখানে বিজেপির থেকে বেশি জনসমাগম করে গেরুয়া শিবিরকে চ্যালেঞ্জ ছোড়াই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেদিক থেকে 4 ফেব্রুয়ারি প্রথমে তৃণমূলের এই মহামিছিলের তারিখ নির্ধারিত হয়। কিন্তু বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রীর সাথে থাকার কারণে তিনি সময় দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়।

যার ফলে পিছিয়ে যায় সেই মহামিছিলের তারিখ। পরবর্তীতে আটই ফেব্রুয়ারি তা করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। কিন্তু এবার সেই তারিখও ভেস্তে যেতে চলেছে। সূত্রের খবর, 8 তারিখ কিছু সাংগঠনিক কাজকর্ম রয়েছে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই কারণেই তিনি ফালাকাটা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই তারিখ যাতে পরিবর্তন করা হয় এবং তা যাতে আগামী 12 ফেব্রুয়ারি করা হয়।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর প্রস্তুতি নিয়েও যেভাবে দিনের পর দিন তারিখের পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে রীতিমত হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। একাংশ বলছেন, যখন বিজেপি নেতৃত্ব জোর প্রচার করছে, ঠিক তখনই তৃণমূল তাদের প্ল্যানিং সেরে নিলেও যেভাবে তাদেরকে মুখ থুবড়ে পড়তে হচ্ছে, তাতে অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক। কবে হবে তৃণমূলের এই রেলি? এদিন এই প্রসঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যজুড়ে দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এর ফলে সময় বের করা মুশকিল হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “তার জন্যই ফালাকাটায় পূর্বনির্ধারিত তারিখ মেনে মিছিল করা যায়নি। আগামী 12 তারিখ দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে মেগা র‌্যালির, দিনক্ষণ আর কোনোভাবেই বদল হবে না। কর্মীদের ধৈর্য ধরতেই হবে। কাউকে জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের এই মেগা র‌্যালি নয়।” তবে তৃণমূলের এই র‌্যালি যেভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, তাতে তাদেরকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না ভারতীয় জনতা পার্টি।

এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “আমাদের অভিনন্দন যাত্রার মত তৃণমূল লোক আনতে পারবে না। এটা বুঝেই তৃণমূলে হতাশা নেমে এসেছে। এই হতাশা থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব তাদের দিন বারবার বদল করছে।” স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বিধানসভায় নাকি আগেই হেরে গেছে তৃণমূল, তাই মিছিলটুকুও করতে পারছে না! রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপি নেতৃত্বের এই কথা কিছুটা হলেও সত্যি।

কেননা বারেবারে তৃণমূল তাদের দিনক্ষণ বদল করছে, যখন বিজেপিকে পাঙ্গা দেওয়ার মত জায়গায় এসেছে, তখন সেখানে দ্রুত মিছিল না করে যেভাবে তৃণমূলের মিছিল নিয়ে দলের অন্দরেই টালবাহানা এবং তারিখ পেছানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে দলীয় কর্মীদের হতাশ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সব মিলিয়ে এবার আগামী 12 তারিখ তৃণমূলের ফালাকাটা মিছিলের ঠিক করা হলেও, তা আদৌ সম্পন্ন হয় কিনা! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!