এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > বামফ্রন্ট > হেভিওয়েট বাম বিধায়ক বিজেপিতে গেলেও তাঁকে আর প্রার্থী চান না নীচুতলার কর্মীরা? বাড়ছে জটিলতা?

হেভিওয়েট বাম বিধায়ক বিজেপিতে গেলেও তাঁকে আর প্রার্থী চান না নীচুতলার কর্মীরা? বাড়ছে জটিলতা?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –বর্তমান যারা বিধায়ক আছেন, তাদের অনেকেই এখন বিজেপিতে পা বাড়াতে শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেস, এমনকি সিপিএমের অনেক বিধায়ক ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন গাজোলের বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস। আর দিপালী বিশ্বাস আগামী বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পাওয়ার জন্যই বিজেপিতে গিয়েছেন বলে দাবি একাংশের। তবে তিনি বিজেপিতে যোগদান করলেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যাতে তাকে টিকিট না দেওয়া হয়, তার জন্য বিজেপির নেতা কর্মীরা এবার দলের শীর্ষস্তরে আবেদন করতে শুরু করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই দিপালীদেবী গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেও বিজেপির নেতা কর্মীরাই যে আগামীদিনে তাকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ, তা একপ্রকার স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের থাকার সময় এই দিপালী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রচুর মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ করা হয়েছিল। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যদি তাকে প্রার্থী করা হয়, তাহলে একসময় তার জন্য গেরুয়া শিবিরের যে সমস্ত নেতাকর্মীরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন, তাদের ভাবাবেগে আঘাত করা হবে।

অনেকে আবার এটাও বলতে শুরু করেছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে গাজোলে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই এখন যদি দিপালী বিশ্বাসকে এখানে প্রার্থী করা হয়, তাহলে বিজেপির লোকসান হতে পারে। কেননা এই বিধায়কের বিরুদ্ধে এক সময় ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপোষনের অভিযোগ তুলতে শুরু করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যদি তাকেই বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়, তাহলে বিরোধীরা এটাকে হাতিয়ার করেই গেরুয়া শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারেন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগেই যেভাবে দিপালী বিশ্বাসকে নিয়ে দলের একাংশ আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন, তাতে কার্যত অস্বস্তিতে ভারতীয় জনতা পার্টি। যদিও বা এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিপালীদেবীকে দেওয়া হয়নি। তিনি বিজেপির নীতি আদর্শ মেনে দলে এসেছেন। তাকে সংগঠনের কাজে লাগানো হবে। আমরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করব।”


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে দিপালী বিশ্বাসকে নিয়ে বিজেপির একাংশ যেভাবে আপত্তি করতে শুরু করেছেন, তাতে বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে গাজোল ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক প্রসাদ বলেন, “দিপালীদেবী নিজের মত করে সংগঠন করতেন। তিনি দলে থাকার সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। তার অনুগামীরা বিজেপির উপর অত্যাচার করে থাকতে পারে। তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে, তা তাদের ব্যাপার। এবার আমাদের প্রার্থীই গাজোলে জয়লাভ করবে।” তবে যাকে নিয়ে এত কিছু, সেই দিপালী বিশ্বাস কি বলছেন!

এদিন তিনি বলেন, “প্রথমত বিজেপি আমাকে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আমি একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। বিজেপির অনুগত সৈনিক হিসেবে দল করে যাব। বর্তমানে তৃণমূলের নেতারা সব দোষ আমার উপর চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছেন। বিজেপি কর্মীদের একাংশ আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি বা আমার অনুগামীরা কারও উপর অত্যাচার করিনি। আমি হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।”

তবে যে যাই বলুন না কেন, যেভাবে বিজেপিতে যোগদান করার পর তাকে টিকিট দেওয়া হলে বিদ্রোহ ঘোষণা হবে বলে বিজেপির কর্মীরা দাবি করতে শুরু করেছেন, তাতে দিপালী বিশ্বাস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। যদি এভাবেই সমস্যা বৃদ্ধি হতে শুরু করে, তাহলে বিজেপি কিভাবে তৃণমূলের মত দলকে কুপোকাত করবে, সেটাই সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!