এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দল থেকে বহিস্কৃত হতেই বিস্ফোরক দাপুটে নেতা! পুরভোটের আগে ঘুম উড়ছে মেয়রের!

দল থেকে বহিস্কৃত হতেই বিস্ফোরক দাপুটে নেতা! পুরভোটের আগে ঘুম উড়ছে মেয়রের!



রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পরেও শিলিগুড়ি পৌরসভায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল বামফ্রন্ট। অশোক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বারেবারেই সেই পৌরবোর্ড দখল করেছিল তারা। তবে বিভিন্ন সময়ে সেই পৌরবোর্ডকে অস্বস্তিতে ফেলতে, নানা কৌশল খাটাতে দেখা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের তরফে এই পৌরসভায় বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

তবে বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখানোয় সেটাকে স্বাভাবিক ব্যাপার বলেই দাবি করেছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু এবার পৌরসভা নির্বাচনের মুখে অশোক ভট্টাচার্য এবং শিলিগুড়ি পৌরসভার শাসকদল সিপিএমের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিলেন বহিস্কৃত সিপিএম নেতা পরিমল মিত্র। এতদিন বিরোধীরা অশোকবাবুকে একনায়কতান্ত্রিক বলে দাবি করে আসলেও, এবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে সেই অশোক ভট্টাচার্যকে একনায়কতন্ত্র কায়েমের জন্য দায়ী করলেন পরিমলবাবু।

সূত্রের খবর, বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ি পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য পরিমল মিত্র বলেন, “শিলিগুড়ি পৌরসভায় একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। শহরের উন্নয়নের স্বার্থে আগামী পৌরসভা ভোটের অশোকবাবু এবং দলের জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকারকে বহিস্কার করতে হবে।”

এদিন শহরের উন্নয়ন নিয়ে মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে কাঠগড়ায় তুলে প্রাক্তন এই সিপিএম নেতা বলেন, “শিলিগুড়ি শহরে পার্টির 1, 2 ও 3 নম্বর এরিয়া কমিটি ঘরে বসে তৈরি করা হয়েছে। বস্তি উন্নয়ন সহ পৌরসভার 23 টি বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম আমি। অথচ আমার সঙ্গে আলোচনা না করেই সমস্ত বিভাগের কাজকর্ম সম্পর্কে মেয়র সিদ্ধান্ত নিতেন। অন্যান্য মেয়র পরিষদ সদস্যদের ওয়ার্ড থেকে পৌরসভার অস্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগ করা হলেও, আমার ওয়ার্ড থেকে কোনো যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করা হয়নি।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তিনি আরও বলেন, “পৌরসভার বস্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও, তা পূরণ করা হয়নি। পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগে বহু কর্মী বসে বসে বেতন পাচ্ছেন। আমি কর্মী চেয়েও পাইনি। মেয়রের সঙ্গে কয়েকজন এমআইসি বার বার বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পার্টি করলেও আমাকে সব দিক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।” তবে মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এতগুলো অভিযোগ করেও ক্ষান্ত হননি সিপিএমের বহিস্কৃত নেতা পরিমল মিত্র।

এদিন তিনি আরও বলেন, “বিজেপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য পৌরসভা চালাচ্ছেন।” এমনকি এর কারণে অশোকবাবু ও জীবেশবাবুর বিরুদ্ধে দলীয় স্তরে যাতে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার জন্যও দাবি জানিয়েছেন পরিমলবাবু। তবে নিজেদের দলের বহিষ্কৃত নেতার এই মন্তব্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএম। এদিন এই প্রসঙ্গে অশোক ভট্টাচার্য কোনো মন্তব্য না করলেও, দার্জিলিং জেলা সিপিএমের সম্পাদক জীবেশ সরকার মুখ খোলেন।

তিনি বলেন, “উনি পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন না। পার্টির একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন। তাই তাকে নিয়ে ভাবছি না।” তবে জীবেশবাবু নিজেদের বহিষ্কৃত নেতার মন্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করলেও, পরিমলবাবুর এই মন্তব্য সিপিএমকে পৌরসভা নির্বাচনের আগে অনেকটাই বিপাকে ফেলতে পারে বলে মনে করছে একাংশ। আবার অনেকে বলছেন, পরিমলবাবুর এহেন মন্তব্য পরিকল্পিত।

তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই কেন এই ধরনের কথা বললেন! কেন তিনি দলে থাকার সময় দলীয় স্তরে এই ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাননি! এখন তা নিয়ে নানা মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনের আগে সিপিএমের পরিমল মিত্রকে বহিস্কার করার পরেই সেই পরিমলবাবুর তরফে বাম পুরবোর্ডকে আক্রমণ করা নিয়ে তৈরি হল ব্যাপক শোরগোল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!