এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > কংগ্রেস > সময়ে অ্যাম্বুলেন্স, বেড না পেতেই কি মারা গেলেন করোনা আক্রান্ত প্রভাবশালী নেতা? উঠছে প্রশ্ন

সময়ে অ্যাম্বুলেন্স, বেড না পেতেই কি মারা গেলেন করোনা আক্রান্ত প্রভাবশালী নেতা? উঠছে প্রশ্ন



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রাজ্যে ব্যাপক ভাবে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি মানুষ রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজ্যের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ২০ হাজারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হারে তার থাবা বিস্তার করেছে করোনা। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গার কিসান কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মহিদুল ইসলাম বৈদ্যর।

গত সোমবার ব্যারাকপুরের কোভিড হাসপাতালে মৃত্যু হল ৩৭ বছর বয়স্ক তরুণ কংগ্রেস নেতা মহিদুল ইসলাম বৈদ্যর। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১৯ দিন আগে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তিনি কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়েছিলেন। স্ত্রীকে দেখাশোনার জন্য আরজিকর হাসপাতালে তিনদিন থেকে গিয়েছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর জ্বর, মুখে অরুচির মতো বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তাঁর। এরপর স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তিনি বারাসাত জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এরপর বারাসাত জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর, তাঁর করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল। এ সময় তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু তাঁর শরীরে বেশ কিছু সমস্যা থাকায় আরো কিছুদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। এ সময় তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তখন আবার তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। এবারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এরপর তাঁকে ব্যারাকপুর কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মহিদুল ইসলামের ভাই সহিদুল ইসলাম দাদার মৃত্যুতে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন। রাজ্যর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকহারে বাড়লেও, বাড়ানো হয়নি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা। দাদা মহিদুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকলে চিকিৎসকেরা তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু বারাসত কোভিড হাসপাতালে বেড পাননি তিনি। এমনকি সময়মতো অ্যাম্বুল্যান্সও পাওয়া যায় নি, অ্যাম্বুল্যান্স যখন পায় যায়, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। স্বামী মহিদুল ইসলামকে হারিয়ে স্ত্রী আজুমা বিবি তাঁর ৪ কন্যা সন্তানকে নিয়ে বড় বিপদে পড়লেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে মৃত মহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেস সভাপতি অমিত মজুমদার। এ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন যে, তিনদিন আগে বসিরহাটের চাঁপাপুকুর এলাকার বাসিন্দা জনৈক তৃণমূল নেতা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। এবার করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন তরুণ কংগ্রেস নেতা মহিদুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুতে দলের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা বৃদ্ধি করার দাবি জানান তিনি। আবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানা গেছে, গত সোমবার দেগঙ্গার এক ব্যবসায়ীর করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বেড়াচাঁপা বাজারের এই ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হয়ে বেলেঘাটার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে করোনা সংক্রমণ, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় এটাই, করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তেমন নেই। করোনা সংক্রমনের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে বহু মানুষ মানুষ রাস্তায় নামছেন। অনেক সময় মুখে মাস্ক না পরেও বহু মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতার বার্তা প্রকাশ করা হলেও, মানুষের মধ্যে সচেতনতা অভাৱ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্যকর্তারা। অসচেতনতার ফলেই জেলায় করোনা সংক্রমণ বহুল ভাবে বাড়ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!