এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > বঙ্গ বিজেপিতে আরও সংকট! এবার দল ছাড়তে চলেছেন চরম ক্ষুব্ধ এই হেভিওয়েট নেতা?

বঙ্গ বিজেপিতে আরও সংকট! এবার দল ছাড়তে চলেছেন চরম ক্ষুব্ধ এই হেভিওয়েট নেতা?



নির্বাচনে কিছুটা ধাক্কা খেলে যে দলের সদস্যসংখ্যাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তা হয়ত বা এবার প্রমাণ হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির ক্ষেত্রে। লোকসভার আগে থেকে বাংলায় বিজেপির প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। লোকসভায় বাংলায় বিজেপি 18 টা আসন পেয়ে তৃণমূলকে বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছিল। তবে লোকসভার ফলাফলের ছয় মাস পেরিয়ে যেতে না যেতেই সদ্যসমাপ্ত রাজ্যের 3 কেন্দ্রের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির জনসমর্থনে ব্যাপক ধ্বসের ইঙ্গিত।

রাজ্যের ৩ আসনেই উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। করিমপুর আগে থেকে তৃণমূলের দখলে থাকলেও খড়্গপুর-সদর এবং কালিয়াগঞ্জে – লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল ছিল চোখে পড়ার মত। সেদিক থেকে এই দুই কেন্দ্র বিজেপি দখল করবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তো তা দখল করেইনি, উল্টে অনেক ভোটেই মাইনাস হয়ে গেছে তাদের। আর বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর যখন অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই এবার উপনির্বাচনে বিজেপি কিছুটা ধাক্কা খাওয়ায় কি বিজেপি ছাড়তে চলেছেন হেভিওয়েট গেরুয়া শিবিরের নেতা?

সূত্রের খবর, এবার বিজেপি ছেড়ে ফের নিজের প্রাক্তন দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর। বস্তুত, হুমায়ুন সাহেবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দলবদল নতুন কিছু ঘটনা নয়। রাজ্যে 2011 সালে তৃণমূল কংগ্রেস আসার পর তিনি কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে 2018 সালের 25 জুন তিনি গেরুয়া শিবিরের পতাকা নিজের হাতে তুলে নেন। আর উপনির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি কিছুটা ধাক্কা খাওয়ায় সেই হুমায়ুনবাবু ফের তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ল।

কিন্তু এ তো গেল জল্পনার কথা! কিন্তু এই ব্যাপারে ঠিক কি বলছেন হুমায়ুন কবির নিজে? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের রাজ্য ও জেলা নেতাদের ঔদ্ধত্য এসে গিয়েছে। যাদের কোনো যোগ্যতা নেই, তাদেরকে আমার মাথার উপর বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব মেনে নেব না। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়, স্বেচ্ছায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু দলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। শুধু ধর্ম নিয়ে কথা বললে চলে না। রাজনীতি করতে হলে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে হয়।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, “ধর্ম, এনআরসি নিয়ে রাজনীতি করতে গেলে তার কি পরিণাম হতে পারে, তা তিনটি উপনির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আমি জানি, বারবার দলবদল করলে মানুষ তা ভালোভাবে নেবে না। তবুও মানুষের ভালোর জন্য আমাকে দলবদল করতেই হবে।” অনেকেই প্রশ্ন করছেন, তিনি তো বিধায়ক নন, মন্ত্রীও নন, পঞ্চায়েত প্রধানও নন। তাহলে তার দলবদলে জনমানসে কি প্রভাব পড়বে! আর তিনি যদি এইভাবে বারবার দলবদল করতে থাকেন, তাহলে তো মানুষ তাকে সুবিধাবাদী বলেই চিহ্নিত করবে!

এক্ষেত্রে যদি তিনি বিজেপি ত্যাগও করেন, তাহলে তিনি কি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাবেন? এদিন এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “সময় হলে সবই জানতে পারবেন। কোনো কিছু লুকিয়ে করব না। যতদিন কথাও না যাচ্ছি, ততদিন চুপচাপ বসে থাকব। বিজেপির কোনো কর্মসূচি করব না। প্রথম থেকে ওদের নেতারা আমাকে ভালোভাবে নেয়নি। লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বহরমপুরে প্রচারে এসেছিলেন। কিন্তু আমার এলাকায় আসেননি।”

রীতিমত ক্ষোভের সঙ্গে হুমায়ুন সাহেব জানান, “জেলা সভাপতি নিজের এলাকায় প্রচার করলেন না! যাদের মণ্ডল কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে দশটা লোক নেই। যে সিপিএম নেতারা বিজেপিতে এসেছে, তাদেরকে মন্ডল সভাপতি করে দেওয়া হয়েছে। এসব মেনে নেওয়া যাবে না।” তাহলে কি উপনির্বাচনের ফলাফলে ধাক্কা খাওয়াই বিজেপির কাল হল? আর তার ফলেই কি এবার দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির?

এদিন এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপির সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “দলে সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। অধিকাংশ মন্ডলে পুরনো সভাপতিরা রয়েছেন। কিছু কিছু জায়গায় নতুন করা হয়েছে।” তবে বিজেপি ছাড়লে তিনি কি তৃণমূলে আসবেন! এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র অশোক দাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমি কিছু বলব না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাজ্য নেতৃত্ব নেবে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের উপনির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে একেবারেই আসেনি।

আর এহেন একটা পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের বিজেপির সংখ্যালঘু মুখ বলে পরিচিত হুমায়ুন কবির যেভাবে দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিলেন, তাতে বিজেপি মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু প্রবণ এলাকায় অনেকটাই সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের ফলাফল খারাপ হওয়ার সাথে সাথেই বঙ্গ বিজেপিতে যে বড় ফাটল ধরতে চলেছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রায় প্রত্যেকেই। এখন এই ফাটল মেরামত করতে বিজেপি বিদ্রোহী নেতার মন গলাতে পারে, নাকি যে চলে যাচ্ছে তার ওপর ভরসা না করে নতুন নেতা তৈরীর ওপর জোর দেয়, সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!