এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে অভিনব ‘ফর্মুলা’ শাসকদলে – কাজ দেবে কি? বোঝা যাবে আড়াই বছর পর!

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে অভিনব ‘ফর্মুলা’ শাসকদলে – কাজ দেবে কি? বোঝা যাবে আড়াই বছর পর!



পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল ব্লকের উখড়া, কাঁকসা ব্লকের কাঁকসা এবং ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতে বোর্ডগঠনকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে তৃণমূলের আগামী সাফল্যের পথে বাধ সাধছে সেটা ভালো মতোই বুঝতে পেরেছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা। তাই পঞ্চায়েত বোর্ডগঠন নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতে নয়া কৌশল নিতে দেখা গেল রাজ্যের শাসকদলকে।

উখড়া পঞ্চায়েতে তৃণমূল ২২ টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় পেয়েছে ১৮ টি আসনে। আর বাকি ৪ টি আসনে লড়াই করে জিতেছে। তৃণমূল সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,উখড়ায় প্রধান এবং উপপ্রধান পদে দল মনোনয়ন দিয়েছেন উৎপলা চট্টোপাধ্যায় এবং সরণ সাইগল দুজনকেই। কিন্তু খান্দারা পঞ্চায়েতের প্রধান প্রার্থী পরাজিত হন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে ফের না হয়,তার জন্যে দলের তরফ থেকে জেলা পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচিত সদস্যদের পছন্দকেই গুরুত্ব দিতে। এবং এই নির্দেশের কথাই এদিন জানালেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসন।

 তাঁর সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,প্রধান পদের জন উৎপলা দেবী এবং রিতা ঘোষ দুজনেই ১১ জন করে সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন। এরপর টসে জিতে যান রিতাদেবী। তবে দলীয় অসন্তোষকে এড়াতে রিতাদেবীকে প্রথম আড়াই বছর এবং উৎপলা দেবীকে পরের আড়াই বছর প্রধান পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ফর্মুলায় রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে উপপ্রধান হবেন এবং পরের আড়াই বছর উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন শরণ বাবু। তবে এই আড়াই আড়াই ভাগ নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলেরই অধিকাংশ স্থানীয় কর্মীরা। ২০১৩ সালের বোর্ড গঠনের সময় এরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। এবারেও সেরকম হল,এমনটাই তাঁদেট বক্তব্য। তবে গোষ্ঠীকোন্দলের দাবী অস্বীকার করলেন রীতাদেবী এবং উৎপলা দেবীরা। বোর্ড গঠনে দলীয় সিদ্ধান্তে সংগঠন মজবুত হল-এমনটাই বললেন রীতা দেবী। অন্যদিকে নির্বাচিত প্রধান রীতা দেবীকে সবরকম সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন উৎপলা দেবী।

কাঁকসা ব্লকেও একই নজির দেখা গেল। মোট ২৫ টি আসনে তৃণমূল,বিজেপি এবং বামেরা ২০ টি,৩ টি,২ টি আসন পেয়েছে। তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর থেকে স্বপ্না বৈদ্যকে প্রধান হিসাবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেকেই এর বিরোধীতা করেন। শুক্লা সিংহ এবং সুমনা সাহার স্বপক্ষে সমর্থন জানান অনেকেই। তবে সুমনা সাহার নাম প্রস্তাবিত হলেও তা গৃহীত না হওয়ায় ভোটদান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন প্রস্তাবক সদস্যরা। ১৯ জন জয়ী সদস্য ভোট দেন। শুক্লা দেবী ১৩ টি এবং স্বপ্না দেবী ৬ টি ভোট পান। ৭ টি ভোট বেশি পেয়ে শুক্লা দেবী প্রধান হন। আর লাল্টু চট্টোপাধ্যায়কে সাতটি ভোটে হারিয়ে উপপ্রধান হন সাবিরুল মল্লিক। ত্রিলোকচন্দ্রপুরেও ভোট হল এদিন। এখানেও মোট ১৮ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল সিংহভাগই দখলে নিয়েছে (১৭ টি আসন)। আর বিজেপির ঝুলিতে এসেছে মাত্র একটি আসন। তৃণমূলের তরফ থেকে জারিনা খাতুনের নাম প্রধান হিসাবে প্রস্তাব দেওয়া হলেও জয়ী সদস্যদের অনেকেই সেটা মেনে নেননি। সাহিনা বেগম তিনটি ভোটে জিতে প্রধান নির্বাচিত হন। আর তিনটি ভোটে বিনোদবিহারী গোস্বামীকে হারিয়ে উপপ্রধান নির্বাচিত হন জুলফিকর আলি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কাঁকসায় একাধিকবার তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে,এমনটাই জানা গিয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীদের একাংশ থেকে। এভাবে ভোটাভুটির মাধ্যমে পদধিকারীদের নির্বাচন করা সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই ফল বলে মনে করেছেন তাঁরা। তবে এ যুক্তি মেনে নেননি দলের জেলা (শিল্পাঞ্চল) কার্যকারী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়। তিনি জানালেন,পঞ্চায়েত পদাধিকারীদের নির্বাচন করেছেন জয়ী সদস্যরাই। এক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের কোনো হাত নেই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!