এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > বিজেপি > গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবির পেছনে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বার করলেন সমীক্ষকরা, দেখে নিন

গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবির পেছনে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বার করলেন সমীক্ষকরা, দেখে নিন



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যখন বিজেপি 3 থেকে 18 টি আসন অধিকার করেছিল, তখন থেকেই তাঁদের একমাত্র চেষ্টা ছিল বিধানসভার নির্বাচনে বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল। সেই অনুযায়ী বঙ্গ বিজেপি নেতারা তো বটেই কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা একের পর এক বাংলা এসে শুরু করেন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজে দুশো আসনের দাবি করে গিয়েছিলেন বাংলায় দাঁড়িয়ে। পাশাপাশি তৃণমূল দুর্গে ক্রমাগত ফাটল ধরিয়ে গেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর দেখা যায়, একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। 200 আসন তো পাওয়া দূরের কথা, দুই অঙ্কের আসনে কোনোরকমে টিকে গেছে গেরুয়া শিবির।

77 টি আসন নিয়েই তাঁদের খুশি থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে 214 টি আসন। এই অবস্থায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এই হার নিয়ে কাটাছেঁড়া। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও শুরু করে দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের হারের সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বার করা এবং সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের হাতে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি যুক্তি নির্ভর কারণ। তার মধ্যে অন্যতম হলো করোনার মধ্যে যেভাবে প্রচারে জনজোয়ার দেখা গিয়েছিলো, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সভায়, তা বাংলার মানুষ ভালোমতন নেয়নি। প্রশ্ন উঠতে থাকে, যারা করোনা মোকাবিলা না করে প্রচারে অসাবধানী হচ্ছে, তাঁরা বাঙালিকে কিভাবে সুশাসন উপহার দেবে?

‘সোনার বাঙ্গাল’ গড়ার পরিকল্পনা এখানেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 8 দফা ভোটের সময় যত বাড়ছে, ততই বিজেপির ভোট কমেছে। একইসাথে দেখা গিয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের নেতারা বাংলায় নিয়মিত এসেছেন, গিয়েছেন। যারা বিগত কয়েকদিন নিয়মিত যাতায়াত করছেন, তারা কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা কিন্তু নয়। কিন্তু করোনা পর্বে বাইরে থেকে এইভাবে রাজ্যে বারে বারে আসা বাঙালিরা ভালোভাবে নেয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গেরুয়া শিবিরের এই যাতায়াত বহিরাগতের আগমন বলে চিহ্নিত করেছেন, যা বাঙালি অন্তরে বসিয়ে নিয়েছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি যেভাবে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন। তা কিন্তু বাংলার সাধারণ মহিলারা ভালোভাবে নেয়নি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এরই সাথে তৃণমূল থেকে যে 46 জন দলবদল করে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা এবারের ভোটের মুখে টিকিট পেয়ে যান গেরুয়া শিবিরের। অনেকেই আবার ভালোভাবে নেয়নি এটা। এই নিয়ে গেরুয়া শিবিরের তীব্র অশান্তি প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে আদি নেতাদের সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব যথেষ্ট ছাপ ফেলেছে ভোটবাক্সে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে বিজেপি যেভাবে তৃণমূলের দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে এবারের ভোট যুদ্ধে নেমেছিল।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু পাল্টা উন্নয়নের হাতিয়ার তুলে নিয়েছিলেন। একইসাথে স্বাস্থ্যসাথী থেকে দুয়ারে সরকার, দিদিকে বল সব কটি বাঙালির ঘরে ঘরে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেভাবে জয় শ্রীরাম ধ্বনি রাজনৈতিক রং লেগেছে অর্থাৎ  স্লোগানের রাজনীতিকরণ হয়েছে তাও অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি এবং সব থেকে বড় কারণ যেটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা সেটি হল বাংলায় গেরুয়া শিবিরের কোন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ না থাক্স। বরাবরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে হোক বা বামেদের, প্রত্যেকেরই নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ তৈরি ছিল। বামেদের আমলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হোক কিংবা তৃণমূলের আমলে মমতা ব্যানার্জি।

কিন্তু গেরুয়া শিবির থেকে শুধুমাত্র ভূমিপুত্র মুখ্যমন্ত্রী হবে বলে একটি জল্পনা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। যথারীতি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ না থাকা গেরুয়া শিবিরের সবথেকে বড় ক্ষতি করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গেরুয়া শিবিরের হার নিয়ে দলের অন্দরেও শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। আমিত শাহের পক্ষ থেকে এ রাজ্যের ভরাডুবির খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসার ছবি সামনে এসেছে গত কয়েকদিনে এবং তাই নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির চাপানউতোর। আপাতত গেরুয়া শিবির নিজেদের ভুল শুধরে আগামী দিনে লড়াইতে আবার ফিরতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!