এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে বাজি বিক্রি, প্রশাসনের উদাসীনতায় উঠছে প্রশ্ন!

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে বাজি বিক্রি, প্রশাসনের উদাসীনতায় উঠছে প্রশ্ন!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে শব্দ বাজি, আতশবাজি সহ বিভিন্ন ধরনের বাজি। আদালতে নির্দেশকে কার্যত বুড়োআঙ্গুল দেখিয়ে চলছে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন বাজারে, বিভিন্ন রকম বাজির দেবার বেচাকেনা। অথচ হাইকোর্টের পক্ষ থেকে এবারের কালী পুজোয়, দীপাবলিতে, ছট পুজোয়, জগদ্ধাত্রী পুজোয় বাজি পোড়ানো ও বাজি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই। পুলিশ, প্রশাসনের উপযুক্ত তৎপরতার, নজরদারির অভাবে বাঁকুড়া জেলা সদর থেকে শুরু করে মফস্বলের বিভিন্ন বাজারে রমরমিয়ে চলছে বাজি বিক্রির কারবার। যা নিয়ে বিক্ষুব্ধ জেলাবাসী।

করোনা পরিস্থিতিতে বাজির ধোয়া, ধোঁয়ায় থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইডের মত গ্যাস গুলি করোনা রোগীদের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বিশেষত, কোমরবিডিটি থাকা করোনা রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে বাজির ধোঁয়া, যে কথা জানিয়ে ছিলেন চিকিৎসকেরা। এরপরই হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যে মামলার রায় হাইকোর্টের পক্ষ থেকে, বাজি বিক্রি ও বাজি পোড়ানোর ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ পাবার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেয়া হয় যে, এবারে কালী পুজো, দীপাবলি, ছট পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোয় কোনরকম বাজি পোড়ানো বা বাজি বিক্রি করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর দীপাবলি ও কালী পূজার সময় ব্যাপকহারে বাজি পোড়ানো হয়। বাজির শব্দ ও ধোঁয়ায় শব্দ ও বায়ু দূষণ তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পায়। বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় থেকেই পরিবেশকর্মীরা সরব হয়েছিলেন। এ বছরে এ বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করা হলো আদালতে। তবে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও পুরোদমে চলছে বাজির কারবার বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া সদরের মাচানতলা, ট্রাফিক অফিস সংলগ্ন এলাকা, নেতাজি সুভাষ রোড সহ শহরের একাধিক বাজারে ব্যবসায়ীদের বাজি বিক্রি করতে দেখা গেল। বিভিন্ন রকম বাজির সম্ভার নিয়ে বসেছেন বাজি বিক্রেতারা। যেখানে আছে চকোলেট বম্ব, গাছ বম্ব, ধানি ফটকা, তুবড়ি সহ নানা ধরণের বাজির সম্ভার।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

বাঁকুড়া শহর ছাড়াও জেলার বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, খাতড়া, বড়জোড়া, মেজিয়া, তালডাংরা, ছাতনা, গঙ্গাজলঘাঁটি সহ বিভিন্ন মফস্সলের বাজারে রমরমা ভাবে চলছে বাজি বিক্রির কারবার। যা দেখে ক্ষুব্ধ শহরবাসী সহ জেলাবাসী। পুলিশ ও প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে স্থানে স্থানে। বাঁকুড়া শহরের এক বাসিন্দা জানালেন যে, দুর্গাপূজার সময় থেকেই এই শহরে ব্যাপকহারে বাজি বিক্রি ও বাজি পোড়ানো শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরও জায়গায় জায়গায় প্রকাশ্যে বাজি বিক্রি করে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতার অভাবের কারণেই বিনা বাধায় বাজি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়া শহরের জনৈক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, দুর্গাপূজা থেকে শুরু করে কালীপূজা পর্যন্ত শহরে চলে বাজির ব্যবসা। পুজোর আগে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এ কারণেই অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও তিনি অনেকটা বাজি তুলেছেন। এবার ক্ষতি এড়াতেই ঝুঁকি নিয়েও খুব দ্রুত বাজিগুলি বিক্রির চেষ্টা করছেন তিনি। তবে, এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও জানালেন যে, জেলায় বাজি বিক্রি বন্ধ করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন যে, নির্দিষ্ট কোন স্থানে যদি বাজি বিক্রির খবর পাওয়া যায়, তবে পুলিশ সেই এলাকাতে অভিযান চালাবে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!