এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > পিতা-পুত্রের সীমাহীন অহংকারের প্রতিবাদেই কি ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন? উঠছে প্রশ্ন

পিতা-পুত্রের সীমাহীন অহংকারের প্রতিবাদেই কি ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন? উঠছে প্রশ্ন



এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়ায় খুব একটা ভালো ফল করেনি শাসকদল। কিন্তু সারা রাজ্যে তৃনমূলের জয়জয়কার হলেও কেন পুরুলিয়ায় ব্যাতিক্রম – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল। কথায় আছে – ঔদ্ধত্যই পতনের কারন, আর পুরুলিয়ার বলরামপুরে পিতা এবং পুত্রের সেই ঔদ্ধত্যই তৃণমূল কংগ্রেসের বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দিল বলে মনে করছেন অনেকে। জানা যায়, এই বলরামপুরের তৃনমূল নেতা সৃষ্টিধর মাহাত এবং তাঁর ছেলে সুদীপ মাহাত দু’জনের দাপটে শুধু বিরোধী বা সাধারণ মানুষ নয়, শাসকদলের অনেক নেতা কর্মীরও হাঁসফাঁস অবস্থা শুরু হয়েছিল।

আর এইরকম একটা সময়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বেজে যাওয়ায় বলরামপুরে ‘বাপ-ব্যাটার বিরুদ্ধে, লড়তে হবে একসাথে’ – স্লোগান তোলে বিজেপি। আর বিজেপির এহেন বার্তাতে খুশি হয়ে মানুষও সেই শাসকদলের বাবা-ছেলের অহংকারের পতন ঘটানোর সুযোগ পেয়ে গেল। যার পরিণতি হিসাবে বলরামপুর ব্লকের সব কটি পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে রাখল গেরুয়া শিবির। তবে শুধু পঞ্চায়েতই নয়, ২০ টি পঞ্চায়েত সমিতির  মধ্যে ১৭ টিই পেল বিজেপি। বাকি মাত্র তিনটি আসন পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল তৃণমূলকে। কিন্তু এমন কী কার্যকলাপ করতেন সেই বলরামপুরের তৃণমূল নেতা সৃষ্টিধর মাহাত এবং তাঁর ছেলে? যার কারনে এখানে ভরাডুবি হল তৃনমূলের?

সূত্রের খবর, এই বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন মণিকা মাহাত। তাঁর স্বামী রাজেন মাহাতকে মাওবাদীরা নৃশংসভাবে খুন করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মণিকাদেবীকে সভাপতি করা হয়েছিল। যেখানে সহ-সভাপতি হয়েছিলেন সেই সৃষ্টিধর মাহাতর দাপুটে ছেলে সুদীপ মাহাত। জানা যায়, মনিকা মাহাত সভাপতি ছিলেন বটে কিন্তু বকলমে পঞ্চায়েত সমিতি চালাতেন সহ-সভাপতি সেই সুদীপ মাহাতোই। ফলে সমস্ত প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা বলরামপুরের খয়রাবাড়ি গ্রামের মাহাত পরিবারের হাতে চলে গিয়েছিল। অভিযোগ, বিপুল ক্ষমতা পেয়ে এই সুদীপ মাহাতো পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদে নিজে বসতে চেয়ে আগের বোর্ডের সভাপতি মণিকা মাহাতোর টিকিট বাতিল করে দেন। যার জেরে কার্যত অভিমানে মণিকা মাহাত যোগ দেন বিজেপিতে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পরের দিনই পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী করে ফের তৃনমূলে ফিরিয়ে আনা হয় মনিকাদেবীকে। তবে এখানেও মনিকাদেবীকে বিপাকে ফেলতে সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তৃনমূলের সৃষ্টিধর মাহাত এবং তাঁর ছেলে সুদীপ মাহাত – বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতেও জয় হয় সেই মনিকা মাহাতরই। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলরামপুরের দুটি আসনে বিজেপি জিতলেও অবশিষ্ট আসনটিতে জয়লাভ করেন সেই মণিকাদেবীই। স্থানীয়দের মতে, মণিকাদেবীকে জিতিয়ে সৃষ্টিধরবাবুদের অবিচারের জবাব দিয়েছেন বলরামপুরের মানুষ। তা না হলে বিজেপি-র সুনামির মধ্যে মণিকাদেবী কিছুতেই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতেন না।

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে মনিকা মাহাত বলেন, “মানুষ আমাকে জিতিয়ে আমার প্রতি সৃষ্টিধরবাবুদের অপমানের জবাব দিয়েছে। বলরামপুরের এই রায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে নয়, বাপ-ব্যাটার সীমাহীন অহঙ্কারের প্রতিবাদ”। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে বলরামপুরের সরাই ময়দানে বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে পাশে বসিয়ে সৃষ্টিধর মাহাত বলেছিলেন, “আমরা পঞ্চায়েতে, জেলা পরিষদে হারি বা জিতি, সরকারে আমরাই থাকব। কারা ভোট দিল না, কারা ষড়যন্ত্র করল তা সব জানতে পারব। তাদের সব হিসেব নিকেশ ভোটের পর মিটিয়ে দেব। কেউ পার পাবে না”। আর সৃষ্টিধরবাবুর এই হুঙ্কারের জবাবে মানুষ বলরামপুর এনেছে গেরুয়া ঝড় – বলেই অভিমত স্থানীয় অধিবাসীদের। আর তাই, পঞ্চায়েতে বিপর্যয়ের পর, দলের মধ্যেই একঘরে সৃষ্টিধরবাবু। পাশাপাশি, বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় ছেলে সুদীপ মাহাত গ্রেপ্তার হওয়ায় – আরো যেন চাপে পরে গেছেন একদা এলাকার সর্বময়-কর্তা।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!