এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ফালাকাটায় কে জিতবে! কাজ করছে নানা সমীকরণ

ফালাকাটায় কে জিতবে! কাজ করছে নানা সমীকরণ



 

নিজেদের শক্ত ঘাঁটি খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জে পরাজয়ের পর উদ্বাস্তু ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে বাজিমাত করতে চাইছে রাজ্যের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। এক্ষেত্রে সংশোধিত নাগরিক আইনকে ব্রম্ভাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এই সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার রাত্রিবেলা দুই নম্বর ফালাকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভারতীয় জনতা পার্টির এক মন্ডল সভাপতিত্বের গোপন বৈঠকের মাধ্যমে বিধানসভা কেন্দ্রে উদ্বাস্তু এলাকাগুলিকে প্রচারজর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে নেতৃত্বদেরকে। প্রচারের অঙ্গ হিসাবে শরণার্থী উদ্বাস্তু ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে।

বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও ইতিমধ্যেই লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর সাপেক্ষে সংশোধিত নাগরিক বিল বর্তমানে আইনে পরিণত হয়েছে। আর এই আইনের ফলে এই রাজ্যে শরণার্থী উদ্বাস্তুরা যে সব থেকে বেশি উপকৃত হবে, প্রচারে সেই কথাই বোঝাবেন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকরা। তবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে নিশ্চিত ভাবে দাবি করা হয়েছে, ফালাকাটা এলাকার উদ্বাস্তু শরণার্থী মানুষজন তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানাবে।

কিন্তু শাসক দলের এই দাবি মানতে রাজি নয় ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব। বিগত দিনে উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে লোকসভা ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী পরাজিত হয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে। কিন্তু ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে সেই পরাজয়ের পুনরাবৃত্তি হবে না, এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।

এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি, যেই সময় পশ্চিমবঙ্গের করিমপুর, খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন চলছিল, তখন এনআরসি নিয়ে রীতিমত প্রচারে ঝড় তুলেছিল রাজ্যের শাসক দল। যার খেসারত ভোগ করতে হয় ভারতীয় জনতা পার্টিকে। তবে বর্তমানে সংশোধিত নাগরিক আইন কার্যকর হওয়ার পরে তৃণমূলের সেই পুরোনো এনআরসি প্রচার এখন অনেকটাই স্থিত হয়েছে। আর বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্বাস্তু মানুষরাও চিন্তিত ছিল। এনআরসি নিয়ে সংশোধিত নাগরিক আইন পাস হয়ে যাওয়ার পরে তাদের চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়েছে এবং পদ্মফুল শিবিরের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি হয়েছে উদ্বাস্তু জনসাধারণের। এমনটাই দাবি বিজেপি নেতাদের। আর এই সব কারণগুলোকে মাথায় রেখেই ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে উদ্বাস্তু এলাকায় প্রচারের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিন এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “খড়গপুর টু কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার এই তিনটি উপনির্বাচন যখন হয়, তখন ক্যাব আইনে পরিণত হয়নি। ফলে উদ্বাস্তু শরণার্থীদের মধ্যে এই নিয়ে আতঙ্ক ছিল। সেই কারণেই আমাদের দল রাজ্যের ওই তিনটি উপনির্বাচনে হেরেছিল। তবে বর্তমানে ক্যাব আইনে পরিণত হয়েছে। ফলে উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের সেই আতঙ্ক এখন আর নেই।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “উদ্বাস্তু ও শরণার্থীরা বুঝে গিয়েছে, বিজেপি তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

বস্তুত, এই সমস্ত কথাই ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী সমর্থকদেরকে উদ্বাস্তু শরণার্থী মানুষজনের মধ্যে বেশি করে প্রচার করতে বলা হয়েছে। গঙ্গাপ্রসাদবাবু স্পষ্টতই জানান, সংশোধিত নাগরিক আইন হওয়ায় ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে আমরাই জিতছি। তবে বিজেপির এই যুক্তিকে কোনোভাবেই মানতে রাজি নয় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ফালাকাটা ব্লক তৃণমূল সভাপতি সন্তোষ বর্মন এই প্রসঙ্গে বলেন, “রাজ্যের উদ্বাস্তু শরণার্থীদের পাশে আমাদের সরকারই আছে। পাশাপাশি রাজ্যে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু কলোনীগুলোকে চিহ্নিত করে উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের জমির পাট্টা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আমাদের সরকার ফলে বিজেপি যতই উদ্বাস্তু শরণার্থীদের তাদের করুক না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না।”

ব্লক তৃণমূল সভাপতি ভারতীয় জনতা পার্টিকে কটাক্ষ করে বলেন, “সদ্য হওয়া তিনটি উপনির্বাচনের মত ফালাকাটাতেও আমাদের দল জিতবে।” তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলেই প্রমাণিত হওয়ার আশা রয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিক আইনকে বাংলার জনগণ এবং উদ্বাস্তু শরণার্থী ভোটাররা কতটা গ্রহণ করতে পেরেছেন। ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফালাকাটা বিধানসভার মোট ভোটারদের 40% শরণার্থী এবং উদ্বাস্তু মানুষজন বলে পরিচিত। আর এই উদ্বাস্তু শরণার্থীরা গোটা বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শরণার্থীদের এই সংখ্যার কথা মাথায় রেখেই ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সংশোধিত নাগরিক আইনের সুফল সম্পর্কে তাদের মধ্যে বিশেষ করে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে 27 হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল পদ্মফুল।

শুধু তাই নয়, 2018 সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকার 32 টি আসনের মধ্যে 14 টি আসন দখল করতে সক্ষম হয় গেরুয়া শিবির। তাই বলাই বাহুল্য, এলাকার মানুষজনের মধ্যে কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির একটা জনপ্রিয়তার লক্ষণ আগেই লক্ষ করা গেছে। এই এলাকার বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অনিল অধিকারী পরপর দুইবার জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি ইহলোকে না থাকায়, স্বাভাবিক কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনা যথেষ্ট কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে তৃণমূলের কাছে কিন্তু ভূতপূর্ব বিধায়কের জনপ্রিয়তার হাতিয়ার থাকছে না। তাই আগামীদিনের নির্বাচনে নাগরিকত্ব আইনৈর স্বপক্ষে প্রচার করে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করতে পারে, নাকি নাগরিক আইনের বিরুদ্ধে প্রচার করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করতে পারে! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!