এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এটা দিল্লি নয়, এটা বাংলা ‘, মমতা ফুঁসে উঠে ‘গোলি মারো’ স্লোগান নিয়ে দিলেন চরম বার্তা

এটা দিল্লি নয়, এটা বাংলা ‘, মমতা ফুঁসে উঠে ‘গোলি মারো’ স্লোগান নিয়ে দিলেন চরম বার্তা



সম্প্রতি দিল্লি কান্ড ঘিরে সারাদেশের মধ্যে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এবার তীব্র আন্দোলনের পথে নেমেছে দেশের অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে, দিল্লি সংঘর্ষের মুখ্য কারণ হিসেবে দেশের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীর মুখে উস্কানিমূলক মন্তব্যকেই দায়ী করেছে রাজনৈতিক মহল। আপাতত, দিল্লির পরিস্থিতি আয়ত্তে বলা হলেও সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এরই মাঝে রবিবার কলকাতায় রাজনৈতিক সভা করতে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কলকাতা নিয়েও এবার বিতর্ক তৈরি হলো রাজনৈতিক শিবিরে। শোনা যাচ্ছে, বিজেপি নেতার সভাকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত ‘গোলি মারো’ স্লোগান শোনা গেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লিতে যখন অশান্তির আগুন জ্বলছে, তখন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি হন ওড়িশা সফরে গিয়ে। সূত্রের খবর, সেখানেও তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করছেন। তবে এদিন কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কর্মীসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী মেজাজে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন। তিনি আজকের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লি হিংসার ঘটনা নিয়ে পরিষ্কার বলে উঠলেন, ‘দিল্লির ঘটনা পরিকল্পিত গণহত্যা।’

তবে এদিন কলকাতাতে অমিত শাহের সভাকে ঘিরে ওঠার বিতর্কিত স্লোগানকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একহাত নেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমেই দিল্লি হিংসায় মৃত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন আর তার পরেই তিনি বলেন, ‘এটা কলকাতা, দিল্লি নয় ভাই ‘..। শুধু তাই নয়, এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, ‘এটা দিল্লি নয়, এটা বাংলা, বুক পেতে রক্ত দেবে বাংলা। ‘ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গোলি মেরে গদ্দারকো উড়াদো’ এসব বক্তব্য এখানে চলবে না।’

তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ‘গোলি মারো’ স্লোগান এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে কলকাতার বুকে যারা গলিমার স্লোগান দিচ্ছেন তাদের একজন কেউ ছেড়ে দেওয়া মানে পাঁচটা অন্যায় বাড়বে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই উস্কানিমূলক স্লোগান এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা গোলি মারো স্লোগান দিয়েছে, তাদের ভাষা অন্যায়, ভাষাটি প্ররোচনামূলক।’ ‘গোলি মারো’ স্লোগানটি মূলত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মুখ থেকে বেরিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যাঁরা গদ্দার, তাঁদেরকে গুলি মারা হবে।’ এ ধরনের স্লোগান বলিয়েদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি বলেন, ‘কারা গদ্দার তা তো মানুষ ঠিক করবে, আপনারা ঠিক করার কে?’

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

নেতাজী ইন্ডোর থেকে দিল্লির বিধ্বংসী হত্যাকাণ্ড নিয়ে এদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই দিল্লিতে হত্যালীলা চালানো হয়েছে। এটি পরিকল্পনামাফিক হত্যাকাণ্ড বললে ভুল কিছু হবে না। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জী সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল দিল্লিতে। ক্রমশ দেখা যায়, দিল্লির বিধ্বংসী দাঙ্গা ক্রমশ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত দিল্লি ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 46। অন্যদিকে আহতের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ওড়িশায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য পৌঁছান। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে পূর্ব ভারতের সকল মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন। এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক শিবিরে তুমুল জলঘোলা হয়। যদিও সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী করতে চলেছেন তা শুধুমাত্র সৌজন্যে ছাড়া অন্য কিছু নয়। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে বাংলার দূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তবে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে গেল ওড়িশার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক বিন্দুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার কমাতে পারেনি।

আপাতত বাংলার দোরগোড়ায় পুরসভার নির্বাচন। এই পুরসভার নির্বাচনকেই আপাতত সেমিফাইনাল ধরে এগোচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলি। সেই সূত্রে কখনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় পা দিচ্ছেন তাঁর দল বিজেপিকে চাঙ্গা করার জন্য। আবার কখনো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেত্রী হিসেবে গরমাগরম বক্তৃতা রাখছেন দলীয় কর্মীদের সামনে। আর এভাবেই রাজ্যে পুরনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আপাতত আগামী দিনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক শিবিরগুলি কোন বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে, সেদিকে নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!