এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > একুশের আগে নিজের গড়ে অনুব্রতর ঘুম ওড়াচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! সামাল দিতে কড়া দাওয়াইয়ের পথে?

একুশের আগে নিজের গড়ে অনুব্রতর ঘুম ওড়াচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! সামাল দিতে কড়া দাওয়াইয়ের পথে?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – একের পর এক তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে আসছে বর্তমানে। 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় কর্মীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তাঁর কথা যে কোনরকমভাবেই কানে তোলেনি দলের নীচু স্তরের নেতাকর্মীরা, সে কথা একুশের বিধানসভা নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, তৃণমূল শিবিরের সবথেকে বড় দুর্বলতা তাঁদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

বীরভূম জেলা রাজনৈতিক মহলে তৃণমূল শিবিরের অন্যতম নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গড় হিসেবে পরিচিত। এহেন অনুব্রত গড়েও শুরু হয়েছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যা নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল নিজেও যারপরনাই তিতিবিরক্ত বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ পেল বীরভূমের খয়রাশোলের কাঁকড়তলার বাবুইজোর পঞ্চায়েত এলাকায়। এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই এলাকায় এত তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। প্রত্যেকেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী।

বীরভূমের খয়রাশোলের কাঁকড়তলার বাবুইজোর পঞ্চায়েত এলাকায় সম্প্রতি স্থানীয় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলি-বোমা সমেত ব্যাপক সংঘর্ষ দেখা যায়। সংঘর্ষের জেরে বাবুইজোর পঞ্চায়েত প্রধানের বাইকটিও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতা আব্দুল রহমান অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের আরেকটি গোষ্ঠীর প্রধান উজ্জ্বল কাদেরীর বিরুদ্ধে। যদিও পুরো ব্যাপারটিকে গ্রাম্য বিষয় বলে বর্ণনা করেছেন উজ্জল কাদেরী গোষ্ঠীর এক অনুগামী।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে উন্নয়নের নামে রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে উজ্জ্বল কাদেরী গোষ্ঠী থেকে। অন্যদিকে এই ঘটনার পেছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্বকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে দোষী যারা তাঁদেরকে কড়া শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পুলিশকে। সূত্রের খবর, পুলিশ তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দুই নেতাকে এই মুহূর্তে গ্রেফতার করেছে। একজন হলেন খয়রাশোল ব্লক কমিটির সদস্য উজ্জ্বল কাদেরী, অন্যজন হলেন তৃণমূল নেতা আব্দুল রহমান।

তবে জানা গেছে, খয়রাশোল ব্লক কমিটির সদস্য উজ্জ্বল কাদেরীর বিরুদ্ধে পুলিশ একটি গাঁজার মামলা করেছে আর সেই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। পুলিশ হঠাৎ কেন দুই পক্ষের গন্ডগোলের মাঝে গাঁজাকে নিয়ে এলো, তা নিয়ে এই মুহুর্তে সবাই ধোঁয়াশায়। অন্যদিকে সবমিলিয়ে তৃণমূলের পাঁচ নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে তুলেছে বলে জানা গেছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামাতে ইতিমধ্যেই অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলার তৃণমূল শিবিরকে বারেবারে বার্তা দিয়েছেন কিন্তু এবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আড়াল করে পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে মনে করা হচ্ছে তিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামাতে এবার চরম পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

তবে উজ্জ্বল কাদেরীর বিরুদ্ধে পুলিশ গাঁজা মামলা কেন দিল তা নিয়ে অবশ্য অনুব্রত মন্ডল কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি এবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে শাস্তিস্বরূপ গাঁজা কেস দেওয়া হলো পুলিশের পক্ষ থেকে? তবে এর উত্তর এখনো অজানা। অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মত, এই মুহূর্তে তৃণমূলের কাছে একুশের নির্বাচনের সবথেকে বড় কাঁটা দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে যদি এখনই সমূলে বিনষ্ট করা না যায়, তাহলে আগামী দিনে তৃণমূল শিবিরকে যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে সে কথা চোখ বন্ধ করে বলা যায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!