এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শিক্ষামন্ত্রীর “চাপ” আসতেই বিদ্রোহ ভুলে তৃণমূলের শিক্ষক নেতার সাসপেনশন তড়িঘড়ি প্রত্যাহার

শিক্ষামন্ত্রীর “চাপ” আসতেই বিদ্রোহ ভুলে তৃণমূলের শিক্ষক নেতার সাসপেনশন তড়িঘড়ি প্রত্যাহার



অনেকে বলছেন, তিনি নিজের পদের সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অবশেষে তাকে হার মানতে হল। কারন শাসকের রোষানল। কিন্তু কিসের হার! আর কোন কারণেই বা শাসকের রোষানলের কথা বলা হচ্ছে! বস্তুত, নবনিযুক্ত শিক্ষিকা কবিতা দে এবং শিক্ষক অর্জুন খটিকের পোস্টিং নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে ঢুকে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গৌরাঙ্গ চৌহানকে শোকজ করা হয় সেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের তরফে।

যে ঘটনায় সমস্ত উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন পড়ে যায়। কেননা শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতিকে এইভাবে সরকারি আধিকারিক শোকজ করায় সেই সরকারি আধিকারিকের ভূমিকা অনেক জায়গায় প্রশংসিত হতে শুরু করে।

কারণ অতীতে এমন কোনো ঘটনার নজির নেই যে, যেখানে কোনো সরকারি আধিকারিক যে দল শাসন ক্ষমতায় আছে, তার কোনো নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফলে এক্ষেত্রে দল এবং রং না দেখে যেভাবে উত্তর দিনাজপুরের ডিপিএসসির চেয়ারম্যান শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেন তাতে সেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মাইতি নিজের পদের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন বলে মনে করেছিল একাংশ।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে গৌরাঙ্গবাবুকে সাসপেন্ডের প্রতিবাদে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মাইতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনকে। তবে তাতেও দমেননি তিনি। সূত্রের খবর, পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার দুপুরে ডিপিএসসির সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন।

কিন্তু তখন সুজিত মাইতি তার অফিসে না থাকলেও পরে সন্ধ্যা ছটা নাগাদ তিনি নিজের অফিসে এসে গৌরাঙ্গবাবুর সাসপেনশন অর্ডার শেষ পর্যন্ত বাতিল করেন। কিন্তু একদিন আগে যে সুজিত মাইতি গৌরাঙ্গবাবুর বিরুদ্ধে সরব হয়ে নিজের পদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই তিনিই কেন হঠাৎ শাসকের শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের কাছে মাথানত করলেন! তাহলে কি শাসকদলের কোনো চাপ তার কাছে বড় হয়ে দাঁড়ালো!‌

এখন এই প্রশ্নই করতে শুরু করেছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, “গৌরাঙ্গ চৌহানকে উপযুক্ত কারণ ছাড়াই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এই বিষয়ে আমি শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। সেখান থেকেই জেলায় নির্দেশ আসার পরে ডিআই সাসপেনশন তুলে নিয়েছেন।” আর কানাইয়ালাল আগরওয়ালের এই কথার পরেই শুরু হয়েছে জল্পনা।

তাহলে কি খোদ শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মাইতিকে গৌরাঙ্গ চৌহানের এই সাসপেনশন শেষ পর্যন্ত তুলে নিতে হল! কিন্তু প্রথম থেকে গৌরাঙ্গ চৌহানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেও শুধুমাত্র নিজের সরকারী পদের টিকে থাকতে কেন এই অনিয়মকে সহ্য করলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক! তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মাইতিকে ফোন করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তার সাসপেনশন শেষপর্যন্ত প্রত্যাহার হওয়ায় রীতিমতো খুশি জেলা তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গৌরাঙ্গ চৌহান। এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এদিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই জয় আমাদের সংগঠনের জয়। সার্ভিস রুল অনুসারে শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা দেখার অধিকার সংগঠনের আছে। আমাদের আন্দোলন আগামীতেও চলবে।”

তবে গৌরাঙ্গবাবু জয় পেয়েছেন বলে দাবি করলেও উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি কিন্তু অপ্রিয় সত্যটা ভুল করে নিজের মুখ দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন। এই সাসপেনশন প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে জানালে শিক্ষামন্ত্রী সেই ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বললে একজন শিক্ষামন্ত্রী কেন শুধুমাত্র নিজের দলের নেতার জন্য সরকারি আধিকারিকের উপর এইভাবে চাপ সৃষ্টি করলেন! তা নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!