এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > এবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হল, শুরু ছাঁটার পালা , জল্পনা তুঙ্গে!

এবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হল, শুরু ছাঁটার পালা , জল্পনা তুঙ্গে!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – গত রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রামে জেলা পরিষদের প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যে সভায় যোগদান করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মন্ডল। এরপরই সভাধীপতির নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাপ্তির পর থেকেই সভাধিপতির যে দুজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন, তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হলো। নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে সভাধিপতি জানালেন যে, জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। তিনি মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করেন। নিরাপত্তা কর্মীরা থাকলো, না থাকলো না, তা নিয়ে তিনি ভাবছেন না। পূর্বে নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াই জনগণের জন্য যিনি কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও তা তিনি করবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, মঙ্গলবার থেকে তাঁর আর কোন সরকারি নিরাপত্তারক্ষী থাকলো না।

প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। গত রবিবার খড়গ্রাম জেলা পরিষদের প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষর স্মরণসভার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। এই সভাতে শুভেন্দু অধিকারী যোগদান করেছিলেন। তারপর থেকেই তৃণমূল দল তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এই সভার আগের দিনই জেলা সভাপতি আবু তাহের খান জেলা পরিষদের সদস্যদের এক বৈঠকে তলব করেন। সূত্রের খবর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না অনেকেই। অনুপস্থিতেরা খড়গ্রাম সভায় যোগদান করেছিলেন। এরপর থেকেই উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গত মঙ্গলবার জেলা সভাপতি আবু তাহের খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, যারা দল ভাঙার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে দল। দলের বাইরে গিয়ে কেউ যদি কিছু করার চেষ্টা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল। তাঁর এই হুঁশিয়ারির পরেই সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেয়া হলো। তবে, এ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান জানালেন যে, তিনি শুনেছেন সভাধিপতি নিজেই নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে দিতে চেয়েছিলে। পুরো বিষয়টির তিনি খোঁজ নেবেন। অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার কে শবরী রাজকুমার জানালেন যে, এই বিষয়টি তার জানা নেই। আবার, এ ব্যাপারে সভাধিপতি জানালেন যে, জেলার মানুষ তাঁকে আঁকড়ে রাখবেন। কয়েকবছর ধরেই যতটা সম্ভব হয়েছে, ততটা মানুষের উন্নয়ন করেছেন তিনি। তাই তিনি কোনো ভয় পান না।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস জানালেন যে, সভাধিপতির চেয়ারের একটা বিশেষ মর্যাদা আছে। যখন ইচ্ছে তখন এভাবে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের দলদাস হয়ে যারা কাজ করেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে তৃণমূল। তবে দলদাস বা ক্রীতদাস হয়ে থাকলে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। আবার, গতকাল এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এক সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন যে, তৃণমূল অন্তর্দ্বন্দ্বের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। আগামী দিনে তৃণমূল দল ভেঙে খান খান হয়ে যাবার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর বক্তব্য, এটা চিরন্তন সত্য যে অন্যের ঘর জ্বালালে নিজের ঘরও জ্বলবে।

এদিকে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি মধ্যে দীর্ঘসময়ের বিরোধ রয়েছে। অনেকে বলেছেন সম্প্রতি তাদের বিরোধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর সুবিধা নিতে চাইছে কংগ্রেস। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের চেষ্টা আছে কংগ্রেসের। একারণেই কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের একাধিক নেতার প্রশংসা করছেন বলে মনে করছেন অনেকে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিকবার আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি তাঁর প্রশংসা করছেন। এই পরিস্থিতিতে সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ায় বিরোধিরা প্রচারের নতুন অস্ত্র পেয়েছে মনে করছেন অনেকে। এভাবে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হলো। অনেকেই মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠদের কোণঠাসা করার চেষ্টায় রয়েছে তৃণমূল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!