এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > তৃণমূলের সাধের ভোটব্যাঙ্ককে তছনছ করতে একের পর এক পরিকল্পনায় আব্বাস, তৈরী হচ্ছে নয়া সমীকরণ?

তৃণমূলের সাধের ভোটব্যাঙ্ককে তছনছ করতে একের পর এক পরিকল্পনায় আব্বাস, তৈরী হচ্ছে নয়া সমীকরণ?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – একুশের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী প্রথম থেকেই সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আব্বাস সিদ্দিকী নিজের দল তৈরি করেছেন এবং আগামী দিনে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন। দল তৈরি করার পর এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আব্বাস। এদিন আব্বাস সিদ্দিকী মন্তব্য রাখেন, রাজ্যজুড়ে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার ফলস্বরূপ মুসলিমদের ক্ষতি হয়েছে বেশি। পাশাপাশি আব্বাস সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন ভিক্টোরিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কোন প্রতিক্রিয়া না দিতেন, তাহলেই বোধহয় ভালো হতো।

কিন্তু যেটা তিনি করেছেন, তার ফলে বিজেপির শ্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির বিজ্ঞাপন হয়ে গেল। যথারীতি আব্বাস সিদ্দিকীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা। রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে চিড় ধরাতে আব্বাস সিদ্দিকী দল তৈরি করেছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে রাজ্যের শাসক দল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আব্বাস সিদ্দিকী তৃণমূলকে পাল্টা সাম্প্রদায়িক এবং প্রতিশোধমূলক বলে অভিযোগ করেছেন। আব্বাস সিদ্দিকী তৃণমূলকে কোণঠাসা করে পাল্টা মন্তব্য করেছেন রাজ্য সরকার মুসলিম এবং দলিতদের জন্য কিছুই করেনি, বরং তাঁদের বোকা বানিয়েছে।

আব্বাস সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছেন, তাতে রাজ্যের হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কাজকে গেরুয়া শিবির কাজে লাগাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আব্বাস। পাশাপাশি আব্বাস সিদ্দিকীর দলকে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির বি টিম হিসেবে বলা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা। বরং তিনি পাল্টা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই বিজেপির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। একসময় তিনি কেন্দ্রে বিজেপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমে আব্বাস সিদ্দিকী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন তাঁদের তরফ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৃণমূলকে সাথে নিয়ে মহাজোট তৈরি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তৃণমূল তাঁদের প্রস্তাবকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। যথারীতি তৃণমূলকে আর সুযোগ দেওয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন আব্বাস। তবে এবার বাম কংগ্রেসকে পাশে পাওয়ার জন্য আব্বাস উঠে-পড়ে লেগেছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, যদি আব্বাস মীমের সঙ্গে জোট গড়েন, তাহলে বাম কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন কোন মতেই সম্ভব নয় আব্বাসের। তবে আব্বাস সিদ্দিকী প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন, তিনি ভোটের ফল বেরোনোর পর কিংমেকার হয়ে দাঁড়াবেন।

আব্বাস আগেই এই নিয়ে বলেছিলেন, রাজ্য সরকার যাই বলুক না কেন, যে দলই সরকার করুক না কেন, তাঁর সমর্থন ছাড়া কোন মতেই সম্ভব নয়। আর সে সময় তিনি ওজন মেপে হাত ধরবেন বলে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক তৃণমূলের অন্যতম শক্তি। আব্বাস সিদ্দিকী চেষ্টা চালাচ্ছে সেই ভোটব্যাংকে আঘাত হানার। যথারীতি তৃণমূল শিবির যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে কিন্তু তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক হারাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আপাতত আব্বাসকে কিভাবে ঠেকিয়ে রাখে রাজ্যের শাসক দল সে দিকেই নজর থাকবে সবার।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!