এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য বাম ও কেরালা বামের মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট করলেন

এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য বাম ও কেরালা বামের মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট করলেন



কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের সিএএ আইনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই তেতে উঠেছে গোটা দেশ। এই আইনকে প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছে দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বুধবার দেশজুড়ে বনধ চলছে বাম সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলির নেতৃত্বে। এদিন সকাল থেকে বনধকে কেন্দ্র করে কার্যত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে শিয়ালদার উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় দফায় দফায় ব্যাহত হয়েছে ট্রেন পরিষেবা। হৃদয়পুর এর কাছে রেল লাইন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাজা বোমা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘটেছে বাস ভাঙচুরের মত ঘটনা। যার প্রভাবে সকাল থেকেই ব্যাহত হয়েছে জনজীবন।

সিপিএমের এই ভাঙচুরের বনধের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাবরই কেরালা ও বাংলা সিপিএম এর মধ্যে একটা রাজনৈতিক তুলনা চলেই। কিন্তু এদিন তৃণমূল নেত্রী বনধের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেরালা সিপিএম ও পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম এর মধ্যে একটা তুলনা করেন। বুধবার গঙ্গাসাগর থেকে ফিরে বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রদের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”কেরালা সিপিএম অনেক ভাল, একটা মতাদর্শ মেনে চলে”। উল্লেখ্য, 34 বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে দেশের মধ্যে এই মুহূর্তে একমাত্র কেরালাতেই এখনো পর্যন্ত বাম শাসন চলছে। বরাবরই এই দুই রাজ‍্যের প্রশাসন নিয়ে আলোচনা চলেছে বাম অন্দরে। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বাম ও কেরালা বাম এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা চালিয়েছেন। যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করেছেন, তা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সম্প্রতি, এনআরসি ইস্যুতে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। সেই প্রেক্ষিতে কেরালার বাম সরকারকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তুলে ধরলেন, তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রশ্ন উঠেছে, মমতা কেন কেরালার সিপিএমকে ভালো বললেন?? উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম যেকোন ইস্যুতে কেন্দ্রর বিরোধিতা করতে গিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যকে একই পদে আসীন করে বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ইতিমধ্যে দেশের অবিজেপি রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ‘এ সময় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ বাংলার বাম শক্তিগুলি যখন তৃণমূল ও বিজেপিকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে, তখন কেরালার বাম সরকার বিজেপি বিরোধী লড়াই করতে গিয়ে যে মমতা সরকারকে দরকার সে কথা বার্তা দিয়ে বুঝিয়েছেন। তাই এই অবস্থায় এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও খোলা গলায় কেরালার বাম সরকারের প্রশংসা করলেন, যা জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে এক অন্য বার্তা নিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আজকে বামেদের সার্বিক বন্ধকে সমর্থন করেননি মুখ্যমন্ত্রী যদিও বিরোধী নেত্রী হিসেবে তিনি যখন ছিলেন তখন বহুবার বনধ ডাকলেও ক্ষমতায় আসার পর তিনি বনধের রাজনীতি বন্ধ করে দিয়েছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ”দেশের অর্থনীতির কথা মাথায় রাখা উচিত। একেই মানুষের আয় কমেছে। কোথায় সাধারণ মানুষকে সাহায্য করবে, সাধারণেরই তো সবথেকে কষ্ট হয় বনধে। তাহলে কেন আজ দেশের ক্ষতি করছে? ইস্যুকে সমর্থন করি, তবে সে জন্য শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলন করতে হবে। গায়ের জোরে বনধ বাংলায় হবে না। প্রত্যেক বনধে ব্যর্থ হচ্ছে, তা সত্ত্বেও বছরে ৪টে বনধ ডাকছে। ভাবে, বনধ করে সস্তায় পাবলিসিটি পাবে। আন্দোলনের নামে গুন্ডামি বন্ধ করুন। এমন করেই দলটা সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। আর এখন ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। ৩৪ বছরে একে তো করেনি কিছু, এখন উন্নয়ন সহ্য করতে পারছে না”। অন্যদিকে, বনধ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ”পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে। সিপিএমের মতো গুলিপন্থায় বিশ্বাসী নই। আইন আইনের পথে চলবে। যাঁরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলায় আগ বাড়িয়ে আগুন লাগাচ্ছে, এটা দাদাগিরি, ধিক্কার জানাই”।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

উল্লেখ্য, একাধিক দাবিতে 24 ঘণ্টার ভারত বন্ধ ডেকেছে দেশের বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি। যার প্রভাব কলকাতাতেও পড়েছে সকাল থেকেই। কলকাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বাস-ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। যদিও রাজ্য সরকার অতিরিক্ত বাস চালাচ্ছে, তবে যাত্রী সংখ্যা যথেষ্ট কম অন্যান্য দিনের তুলনায়। তবে কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় রেল ও সড়ক অবরোধে দিনভর জেরবার হয়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। বিভিন্ন লাইনে দীর্ঘক্ষন ট্রেন বন্ধ থাকে।

বুধবার বাম সমর্থিত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। রাজ্যে এই বন্ধে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেসও। এদিন বনধকারীদের বাধা দিতে যাওয়ায় দফায় দফায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছেন যে তৃণমূল দল এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করে, কিন্তু ধর্মঘটকে সমর্থন করে না। যদিও উল্লেখ্য, রাজ্যের সিপিএম দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনো কথাই বলেননি। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!