এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আরও কড়া ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের! জানুন বিস্তারিত

প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আরও কড়া ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের! জানুন বিস্তারিত



যুগ যুগ ধরে চলে আসা স্কুলে হাজিরা পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে এবার। বিদ্যালয়ে খাতায় কলমে হাজিরা হওয়ার পদ্ধতির পরিবর্তে এবার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপস্থিতি গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হতে চলেছে এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ের মাসিক হাজিরা বের করা, বিদ্যালয় প্রবেশ ও বের হওয়ার মুহূর্ত ধরে রাখা অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার ডিজিটালাইজড পদ্ধতি অবলম্বন করা হলো।

তবে সূত্রের খবর, প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনদিনই নিয়ম মেনে স্কুলে আসেন না এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল থেকে চলে যান। এই নিয়মের পরিবর্তন আনতে এবার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এবার থেকে উপস্থিতি জানান দিতে হবে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বাঁকুড়া জেলায় পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি এবং বেরোনোর সময় ঠিক রাখার জন্য এই পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী বুধবার থেকে বাঁকুড়ার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হয়ে যাবে। এসম্পর্কে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) জগবন্ধু বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন প্রথম পর্যায়ে জেলা শহরের মিশন বালিকা বিদ্যালয়, বঙ্গ বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁকুড়া বালিকা বিদ্যালয়, হিন্দু স্কুল ও মিশন বালিকা বিদ্যালয় (প্রাথমিক) এই পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাজিরা নথিভুক্তির কাজ শুরু হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো জানিয়েছেন, যেসব বিদ্যালয়ে 50 জন বা তার বেশি ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত থাকে, সেইসব বিদ্যালয়ে চলতি বছরের মধ্যেই আরো বায়োমেট্রিক উপস্থিতি যন্ত্র বসানো হবে।

সূত্রের খবর, যেভাবে চলতি বছরে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নথিভূক্ত করা হবে, ঠিক একইভাবে 2021 সালের মধ্যে রাজ্যের 3567 প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি যাতে ছাত্রছাত্রীরাও তাদের উপস্থিতি নথিভূক্ত করাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার এবং কারণ দুটোই খুব সহজেই ধরা যাবে এবং সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়ে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছেন যেসব বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা হবে সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহ শিক্ষক থেকে অভিভাবক প্রত্যেকেই। যদিও কোন কোন শিক্ষক শিক্ষিকা এই পদ্ধতির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। তবে সূত্রের খবর, বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকারাই এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে আগ্রহী। এপ্রসঙ্গে মিশন বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জওহরলাল আচার্য জানিয়েছেন, ‘যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই।’

তবে এদিন মিশন বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা নমিতা ধবল বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা রেখে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ার পর যদি কোন শিক্ষক বা শিক্ষিকা সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত সাহায্য করেন। অন্যদিকে, ওই স্কুলের অভিভাবক শিবনারায়ন মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী রায় প্রমুখরা ডিজিটালাইজড এই হাজিরা পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি জানানোর প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন পদ্ধতিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার উপস্থিতি জানানো সহজ হল। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থিতি দেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুবিধাই হবে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, সময় দেখে সই করে হাজিরা দিতে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় সব মিলিয়ে অনেকখানি সময় লেগে যায়। এবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে লাগানো যন্ত্রে আঙ্গুলের ছাপ দিলেই হাজিরা দেওয়া হয়ে যাবে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি, সঠিক সময়ে আঙ্গুলের ছাপ না পড়লে স্কুলে আসলেও অনুপস্থিত হিসেবে দাবি করা হবে। সেই কারণে এবার থেকে প্রত্যেকেই সঠিক সময়ে স্কুলে হাজিরা দেবেন বলে আশা রাখা যায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!