এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এবার মধ্যপ্রদেশকে ঘিরে টানটান রাজনৈতিক সাসপেন্স, পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর

এবার মধ্যপ্রদেশকে ঘিরে টানটান রাজনৈতিক সাসপেন্স, পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর



সম্প্রতি হঠাৎ করে সংকটের মুখোমুখি কমল নাথের কংগ্রেস সরকার। এবার মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে অন্তর্কলহের সমস্যা। এই সমস্যা আজকের নয়। বহুদিন আগে থেকেই কংগ্রেসের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে কমলনাথ শিবিরের সংঘর্ষের কথা সর্বজনবিদিত। আর এই অন্তরকলহের পরিস্থিতিতেই বাজিমাত করতে আসরে নেমেছে পদ্ম মহল। অন্যান্য রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে বিজেপি সরকার মুখ থুবড়ে পড়লেও এবার অন্তর্কলহের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারকে ফেলে রাজ্য দখলের বিকে অগ্রসর হচ্ছে বিজেপি শিবির।

তবে কমলনাথও পাকা রাজনীতিবিদ। তিনিও বিজেপি শিবিরের এই খেলার সম্বন্ধে অবহিত হয়ে রাজনৈতিক চাল চালতে শুরু করেছেন।এতদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের দখল ছিল কংগ্রেসের হাতে। তবে এবার পরিস্থিতি এসেছে হাতবদলের। আর এই হাতবদলের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কংগ্রেসের অন্তর্কলহ। এই মুহূর্তে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সাথে কংগ্রেসের অর্ন্তকলহকে হাতিয়ার করে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা দখলে এক পা এক পা করে অগ্রসর হচ্ছে বিজেপি শিবির। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা দখলের কথা মাথায় রেখে বিজেপি শিবিরে সাজো সাজো রব।

মধ্যপ্রদেশের ওপর কড়া নজর রাখছেন অমিত শাহ থেকে শুরু করে জেপি নাড্ডা সহ প্রমুখরা। তবে কমলনাথও তুখোড় রাজনীতিবিদ। তিনিও আগেভাগেই বিজেপি শিবিরের রাজনৈতিক চাল আন্দাজ করে রাজ্য বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া। যার ফলে মধ্যপ্রদেশের কুড়িজন মন্ত্রী ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। নতুন করে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রিসভা গঠন করে বিজেপিকে চাপে ফেলতে চলেছে কমলনাথ সরকার বলে মনে করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে দলীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোপাল ফিরেই কমলনাথের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিসভার বাকি মন্ত্রীদের বৈঠক হয় এবং তারপরেই অন্যান্য মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইস্তফা পত্র জমা দেন বলে জানা গেছে। এদিকে সিন্ধিয়া শিবিরও নিজেদের মতো করে মাথা খাটাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া আর তাঁর অনুগামী ছয় মন্ত্রী এবং 17 জন বিধায়কের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে সূত্রের খবর, এই মুহুর্তে নিখোঁজ ছয় মন্ত্রী এবং 17 জন বিধায়ক অবস্থান করছেন কর্নাটকে। তবে এ খবরের সত্যতা কর্ণাটক পুলিশও স্বীকার করে নিয়েছে।

ভোপালে ফিরে কমল নাথ মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী করেছেন বিজেপিকে। এ প্রসঙ্গে কমলনাথ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাফিয়াদের সহযোগিতায় বিজেপি সরকারে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। ওদের সফল হতে দেব না। এই সরকার পাঁচ বছরই চলবে।’ অন্যদিকে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াসহ তাঁর শিবিরের অন্যান্যদের সঙ্গেও কংগ্রেসের হাইকমান্ডের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রদেশের এরকম রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি?

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের এই মুহূর্তে আসতে চলেছে রাজ্যসভার নির্বাচন। মধ্যপ্রদেশ থেকে এই মুহূর্তে তিনটি আসনে নির্বাচন হবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিনটের মধ্যে দুটি আসনে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। আরেকটি যাবে বিজেপির দখলে। যে দুটি নিশ্চিত আসন তার মধ্যে একটিতে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া নিজে প্রার্থী হতে চাইছেন বলে জানা গেছে। এবং অন্যটিতে যাতে তাঁর শিবিরের কেউ দাঁড়ায়, সেই চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বরাবর দেখা গেছে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস শিবিরে দলনেতার অভাব নেই।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মধ্যপ্রেদেশে কমলনাথ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, দ্বিগবিজয় সিং সহ আরো অনেকেই দলনেতার ভূমিকা পালন করতে থাকেন। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দরুন মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা রয়েছে কমলকনাথের হাতে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কমলনাথের সঙ্গে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার বিরোধ নতুন নয়। রাজ্যসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই বিরোধ আবার উসকে উঠেছে। অর্থাৎ বলাই যায়, রাজ্যসভা নির্বাচনে কমলনাথ সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার এ ধরনের পদক্ষেপ।

অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার এই মুহূর্তে চালকের আসনে থাকলেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যায়। 2018 সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জিতলেও বিজেপির সঙ্গে কিন্তু তাঁদের আসন সংখ্যার ফারাক বিশেষ ছিলনা। মধ্যপ্রদেশের বিধানসভায় আসন সংখ্যা 230। যার মধ্যে কংগ্রেসের বিধায়ক রয়েছেন 114 জন এবং সপা বসপা নির্দল মিলিয়ে কংগ্রেসের শরিক রয়েছেন 121 জন। এদিকে বিজেপির দখলে আছে 107 আসন। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে বিধানসভার আসন সংখ্যা হল 228।

যার মধ্যে সরকার গড়তে গেলে কংগ্রেসের প্রয়োজন 115 জন বিধায়কের সমর্থন। আর এবার 2018 সালের পর 2020 তে এসে মধ্যপ্রদেশের সরকারের টলোমলো অবস্থা দেখে বিজেপি নতুন করে রাজনৈতিক মঞ্চে অবতরণ করেছে। সূত্রের খবর, এই মুহুর্তে মধ্যপ্রদেশের ওপর কড়া নজর রাখছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। আরও জানা গেছে, দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা দখল। মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক মহলে।

চূড়ান্ত নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির লক্ষ্য এই মুহূর্তে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াসহ কমলনাথ শিবিরের বিক্ষুব্ধদের বিজেপি শিবিরে নিয়ে আসা। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, কমলনাথ শিবিরও কিন্তু বিজেপি থেকে বিধায়ক টানার প্রচেষ্টায়। তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিধানসভায় সংখ্যাতত্ত্বের জেরে রাজনৈতিক হওয়া যেকোন দিকে যেকোন সময় ঘুরে যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশ ঘিরে যে রাজনীতির টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে সে কথা অনস্বীকার্য। তাই মধ্যপ্রেদেশের প্রতিটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!