এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে পদ থেকে সরাতে মরিয়া কর্মীরা! ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরে

দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে পদ থেকে সরাতে মরিয়া কর্মীরা! ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক নেতা যেমন দল ছাড়তে শুরু করেছেন ঠিক তেমনই দলের ভেতরে থাকা অনেকেই একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করছেন। যা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের কাছে বাড়তি হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এবার হরিশ্চন্দ্রপুর তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। যেখানে রশিদাবাদ অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি জুয়েল আখতারকে অপসারণের দাবিতে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন তৃণমূলের কর্মীরা।

শুধু তাই নয়, হরিশ্চন্দ্রপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানিক দাসকেও সরানোর দাবি করতে দেখা যায় তাদের। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় এখন ব্যাপক অস্বস্তির মুখে পড়েছে শাসক দল। দলের দুই পদাধিকারীকে যেভাবে সারানোর দাবিতে এক শ্রেণীর কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন, তাতে নির্বাচনের আগে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু কেন এই দুই পদাধিকারীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন? এদিন এই প্রসঙ্গে বিক্ষোভকারী এক তৃণমূল কর্মী আলী হোসেন বলেন, “এই পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মীদের অন্ধকারে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে ব্লক সভাপতি মানিক দাস নিজের ঘনিষ্ঠ লোককে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। অঞ্চল সভাপতি কিছুদিন আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। মানিক দাস নিজেও আগে কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। অথচ নতুন কমিটিতে পুরনো সক্রিয় কর্মীদের রাখা হয়নি। আমরা এর প্রবল বিরোধিতা করছি। বর্তমানে ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে আমাদের লাগাতার আন্দোলন চলবে। তাকে সরাতে হবে। আমরা তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়েই আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে, তা কি সত্যি? কেন তাহলে তিনি সবাইকে নিয়ে আলোচনা করেন না? এদিন এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর 1 ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন, “এই ব্লকের অঞ্চল কমিটিগুলো সম্পূর্ণভাবে জেলা কমিটির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে। এতে আমার কোনো হাত নেই। তৃণমূল একটা বিশাল পরিবার। একটা সমস্যা হয়েছে। আমরা সবাই মিলে বসে সেই সমস্যা মিটিয়ে নেব।”

তবে মুখে তিনি যে কথাই বলুন না কেন, অস্বস্তি যে ক্রমশ বাড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেভাবে নির্বাচনের আগে কর্মীরা নেতাকে অপসারণের দাবিতে রীতিমত রাস্তায় নেমে পড়লেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে এবার বিরোধীরা যে টিপ্পনী কাটতে শুরু করবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত একাংশ।

অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করতে, সেখানে কেন নীচুতলায় এই বার্তা পৌছয় না? কেন জেলা নেতৃত্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করতে অপারগ? এদিন এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়‌। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগেও এই রকম সমস্যা বহুবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তারপরেই জেলা নেতৃত্বের মুখ থেকে কড়া বার্তা দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ যে কিছুই হয়নি, তা আবার এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল। সামনে নির্বাচন। তাই তৃণমূলের এই অন্তর্কোন্দল যদি বাড়তে থাকে, তাহলে ঘাসফুল শিবির কিভাবে বিজেপিকে মোকাবিলা করে ভালো ফল করবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসকদলের অন্দরমহলে। সব মিলিয়ে নেতাকে অপসারণের দাবিতে কর্মীদের বিক্ষোভকে সামাল দিতে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!